রবিবার বার্সেলোনা ছাড়ার কথা বলতে গিয়ে হু হু করে কেঁদেছিলেন। দু’দিন পর প্যারিসে গিয়ে হাস্যোজ্জ্বল লিওনেল মেসি। বললেন, ‘পিএসজি উচ্চাভিলাষী ও সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া দল। এই লিগ আমি নিয়মিত অনুসরণ করি। আমার বেশ কিছু বন্ধু আছে এখানে। বেশ কিছু দুর্দান্ত খেলোয়াড় এনেছে এবার। বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয় এই লিগ। এখানে অন্যরা সবাই পিএসজিকে হারাতে চায়। তাই এই দলে আসতে পেরে আমি ভীষণ খুশি।’ বার্সেলোনা যে পাঁচবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছে, তার চারটিতেই তিনি ছিলেন। কিন্তু ২০১৫ সালের পর মেসি আর ইউরোপসেরার মর্যাদার আসর জিততে পারেনি। অন্যদিকে পিএসজি একবার মাত্র (২০২০) ফাইনালে উঠলেও জেতা হয়নি শিরোপা। তো মেসি-পিএসজি দুইয়েরই চাওয়া চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়। মেসি বলেন, ‘গত কয়েক বছরে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার ক্ষেত্রে বেশ অনেকদূর এগিয়েছিল তারা। আমি এই ক্লাবে এসেছি ওই লক্ষ্য নিয়েই। আমার সর্বোচ্চটুকু দিয়ে আমি পিএসজির হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার চেষ্টা করব। আমার লক্ষ্য আরেকটা চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়, আর আমার মনে হয় আমি সে জন্য আদর্শ জায়গাতেই এসেছি।’ তবে তিনি এও বলেন, ‘চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা সহজ নয়। আপনি সেরা দলে থেকেও নাও জিততে পারেন। সামান্য ভুলই আপনাকে বিদায় করে দেবে। এ জন্য সামান্য ভাগ্যও লাগে। সেরারা সব সময় জিততে পারে না।’
মঙ্গলবার দুপুরের পর প্যারিসে গিয়ে মেডিকেলে অংশ নেন মেসি। পিএসজি প্রেসিডেন্ট নাসের আল খেলাইফির সঙ্গে বসে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এরপর নতুন ক্লাবের নতুন জার্সি পরে নেমে যান পার্ক দ্য প্রিন্সেসের সবুজ মাঠে। মাঠের বাইরে তখন হাজারো সমর্থক। গতকালও সংবাদ সম্মেলনের সময় বাইরে দেখা গেছে উৎসবের আমেজ। কিছুক্ষণের জন্য ক্লাব কমপ্লেক্সের বারান্দায় এসে সেই সব সমর্থক-ভক্তদের উদ্দেশে হাত নাড়েন হাস্যোজ্জ্বল মেসি।
শনিবার মেসিসহ নতুনদের এই স্টেডিয়ামেই আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানাবে পিএসজি। সে রাতেই স্ত্রাসবুর্গের বিপক্ষে লিগ ওয়ানে পিএসজির দ্বিতীয় ম্যাচ এবারের। মেসি কি খেলবেন সে ম্যাচে? সংবাদ সম্মেলনে নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি ৬ বারের ব্যালন ডি’অর বিজয়ী, ‘মাসখানেক হলো আমি খেলার মধ্যে নেই। আমি দলের প্রধান কোচ ও অন্য কোচদের সঙ্গে এর মধ্যেই কথা বলেছি। যখন আমি খেলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হব, তখনই মাঠে নামব, তবে এ ব্যাপারে আমি আপনাদের কোনো নির্দিষ্ট তারিখ জানাতে পারছি না।’
মেসি-নেইমারের যুগলবন্দি দেখতে উন্মুখ হয়ে আছে পিএসজি তথা সারা বিশ্বের অগণিত ভক্ত। তাদের সঙ্গে থাকবেন আরেক তারকা কিলিয়ান এমবাপে। মেসি নিজেও তাদের সঙ্গে খেলতে উন্মুখ, ‘নেইমার ও এমবাপের মতো দুর্দান্ত খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেলার জন্য মুখিয়ে আছি। এমন দারুণ খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রতিদিন কাজ করার ব্যাপারটা মাথা পাগল করে দেওয়া। পিএসজিতে আসার পেছনে নেইমারও অন্যতম এক কারণ। অন্য সতীর্থদের সঙ্গে খেলতেও তর সইছে না আমার।’
অপেক্ষা এখন মাঠে নামার। পিএসজিকে চ্যাম্পিয়ন বানানোর লক্ষ্য লিওনেল মেসির।