ডিজিটাল ক্লাসরুম কনটেন্ট কেনা হবে : অর্থমন্ত্রী

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে পাঠদান কার্যক্রম চালাতে ‘ডিজিটাল ক্লাসরুম কনটেন্ট’ কেনার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। গতকাল বুধবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি ২২তম অর্থনৈতিক-সংক্রান্ত এবং ২৭তম সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বিকেলে অনলাইন ব্রিফিংয়ে অর্থমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সামসুল আরেফিন সাংবাদিকদের এ কথা জানান। গতকাল অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে দুটি প্রস্তাব পাস হয়। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে পাস হয় ৯টি প্রস্তাব।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সামসুল আরেফিন জানান, করোনা পরিস্থিতিতে শিখন দক্ষতার ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের অনলাইন/ডিজিটাল পদ্ধতিতে পাঠদান কার্যক্রম চালাতে একটি উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। সেজন্য সরকারি মালিকানাধীন কম্পিউটার কাউন্সিলের কাছ থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১৭ কোটি ৪৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ডিজিটাল ক্লাসরুম কনটেন্ট ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, করোনার কারণে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়েছে। এসব কনটেন্ট তাদের পড়াশোনার বিষয়ে সহায়তা করবে। এছাড়া অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত কমিটির বৈঠকে কভিড-১৯ মহামারীতে আক্রান্ত রোগীর জীবন রক্ষার্থে দ্রুততম সময়ে পিসিআর টেস্ট কিট, অ্যান্টিজেন টেস্ট কিট, পিসিআর ল্যাব সরঞ্জাম, সিপিএপি, বিআইপিএপি মেশিনসহ বিভিন্ন মালামাল জরুরি ভিত্তিতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

রেমিট্যান্স আরও বাড়বে : অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল  বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স কোনো জাদু নয়, রেমিট্যান্স কখনো শেষ হবে না। রেমিট্যান্স যে জায়গায় ছিল তা থেকে আরও বাড়বে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। রেমিট্যান্সের জাদু শেষ হয়ে আসছে বলে গত সপ্তাহে একটি সংলাপে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের মন্তব্যের জবাবে এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

ড. দেবপ্রিয়র মন্তব্য প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘রেমিট্যান্স কি জাদু নাকি? রেমিট্যান্স যদি জাদু হয়, তবে জাদু ফুরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু রেমিট্যান্স তো জাদু নয়। সুতরাং রেমিট্যান্স কখনো শেষ হবে না। রেমিট্যান্স যে জায়গায় রয়েছে তা থেকে আরও বাড়বে।’ অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০১৯ সালে যখন আমরা রেমিট্যান্সের বিষয়ে প্রণোদনা দেওয়া শুরু করি, তখন থেকেই একটি গোষ্ঠী এর সমালোচনা ও বিরোধিতা করে আসছিল।

মন্ত্রী বলেন, প্রণোদনা দেওয়ায় তারা বলেছিলেন, প্রণোদনা দিয়ে রেমিট্যান্স বাড়ানো যাবে না এবং এটা কখনো বাড়বে না। যেটা বাড়ছে তা সাময়িক এবং তা টেকসই হবে না। আগে আমাদের রেমিট্যান্স ছিল ১৩ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। ২ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার পর প্রথম বছরই প্রবাসীদের পাঠানো আয় ১৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। দ্বিতীয় বছরে রেমিট্যান্স প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়, যেটা ছিল অবিশ্বাস্য ধরনের সফলতা। অর্থমন্ত্রী প্রশ্ন করে বলেন, এখন সমালোচকরা কী বলবে? বলবে আরও বেশি আসা উচিত ছিল। যারা এসব কথা বলেন তাদের দেশপ্রেম কতটা আছে, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন মুস্তফা কামাল। করোনার প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অনেক প্রবাসী বাংলাদেশে ফেরত এসেছে, অনেকেই আবার যেতে পারছে না। তাদের জন্য সরকার কী করছে? সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘রেমিট্যান্সের সঙ্গে এটার কোনো সম্পর্ক নেই। আমার কাছে এমন কোনো অভিযোগ নেই যে, বিদেশে ফেরত যেতে পারছে না প্রবাসীরা। সবচেয়ে বড় কথা যেখানে তাদের যাওয়ার কথা, সেখানে তারা যাচ্ছে। সেটা বন্ধ হয়নি, এটি চলমান প্রক্রিয়া। যখন স্বাভাবিক হবে তখন আরও বেশি যাবে।’

মুস্তফা কামাল বলেন, ‘আমার বিষয়টি হলো রেমিট্যান্স প্রবাহে সমস্যা ছিল, সেটি এখন ভালো হচ্ছে। বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা আছে। তাদের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থাই আছে।’

৩ দশমিক ৫১ ভাগ প্রবৃদ্ধি বড় অর্জন :  জিডিপি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘আমরা যদি দেখি ব্যাহত হচ্ছে বা ইনফেকটেড হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেক্ষেত্রে সেটি দেখা হবে। এ মুহূর্তে আমাদের জিডিপির যে অবস্থা তাতে আমরা এটি কাভার করতে পারব বলে আশা করি। জিডিপিতে আমরা ২০১৯-২০ অর্থবছরে যে অর্জন করেছি ৩ দশমিক ৫১, এটা আমাদের আশা ছিল আমরা অর্জন করতে পারব। আপনারা জানেন সেই বছরে একটা বড় অংশ আমরা অস্বাভাবিকভাবে পার করেছি এবং শুধু আমরা না অন্যান্য দেশও সেভাবে পার করেছে। তারপর আমরা ৩ দশমিক ৫১ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পেরেছি, এটাও এশিয়ার সব দেশের ওপরে আমাদের অবস্থান।