সরকারি ছোটমণি নিবাসে বালিশচাপা দিয়ে শিশু হত্যা

ভবঘুরে নারীর কোলজুড়ে আসে নাবিল আহমদ। নিরাপদ আশ্রয় ভেবে তাকে রাখা হয় একটি সরকারি নিবাসে। সেখানেই ২ মাস ১০ দিন বয়সী নাবিলকে প্রথমে আছড়ে নিচে ফেলেন। এরপর বালিশ দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে ঠিকঠাক বিছানায় শুইয়ে রাখেন নিবাসের আয়া।

ঘটনার ২০ দিন পর গত বৃহস্পতিবার শিশু হত্যার নির্মম এ দৃশ্যের সিসিটিভির ফুটেজ সামনে এসেছে। এ ঘটনায় সিলেট নগরীর বাগবাড়িতে সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত সরকারি ‘ছোটমণি নিবাসের’ আয়া সুলতানা ফেরদৌসীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

কোতোয়ালি থানার ওসি এস এম ফরহাদ দেশ রূপান্তরকে জানান, গত ১২ জুন সিলেটের গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ একটি শিশুকে ছোটমণি নিবাসে দেয়। ভবঘুরে এক নারীর জন্ম দেওয়া সন্তানের নাম রাখা হয় নাবিল আহমদ। নিবাসের আয়া সুলতানা ফেরদৌসী তার পরিচর্যার  দায়িত্বে ছিলেন। গত ২৩ জুলাই সকালে শিশুটিকে তার বিছানায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় সমাজসেবা অধিদপ্তর সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কোতোয়ালি থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা এবং ময়নাতদন্ত শেষে নাবিলের লাশ দাফনের ব্যবস্থা করে। এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাতে কোতোয়ালি থানায় এসএমপির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের এক পর্যালোচনা সভায় নাবিলের মৃত্যুর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়। এসএমপির উপকমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখের নেতৃত্বে সভায় শিশুটিকে হত্যার বিষয় প্রাথমিকভাবে ধরা পড়ে।

পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশের একটি দল ছোটমণি নিবাসে গিয়ে শিশুটি যে কক্ষে থাকত, তার সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে। এতে দেখা যায়, শিশুটিকে আছড়ে ও বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করেন আয়া সুলতানা ফেরদৌসী। সুলতানাকে আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়েছে। দুটি বিষয় সামনে রেখে মামলা তদন্ত করা হচ্ছে। প্রথমত, হত্যাকাণ্ড এবং দ্বিতীয়ত, এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে কেউ জড়িত কিনা তা দেখা হচ্ছে। কারও সম্পৃক্ততা পেলে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান ওসি।

এ বিষয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তর সিলেটের উপপরিচালক নিবাস দাশ বলেন, ‘ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার কোনো চেষ্টা হয়নি। শিশুটির মৃত্যুর পর আয়া সুলতানা ফেরদৌসীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ ছাড়া মৃত্যুর ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা এবং কক্ষের সিসিটিভির ফুটেজ সংরক্ষণ করা হয়। এখন তদন্তে যারাই দোষী প্রমাণিত হবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’