জোতজমিতে ৫ শতাধিক রোহিঙ্গা বসতি, ক্ষোভ

কক্সবাজারের উখিয়ায় স্থানীয়দের জোতজমিতে (ব্যক্তিমালিকানাধীন) রোহিঙ্গাদের জন্য পাঁচ শতাধিক বসতি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বালুখালী ৯ নম্বর ক্যাম্প ইনচার্জের (সিআইসি) বিরুদ্ধে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্লক মাঝিদের সঙ্গে যোগসাজশে বসতি গড়ে ওঠায় বেশ কয়েকটি পরিবার সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছে। তারা বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও প্রতিকার পাচ্ছেন না।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বালুখালী ৯ নম্বর ক্যাম্পের ইনচার্জ (সিনিয়র সহকারী সচিব) মো. তানজীম বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কাঁটাতারের ভেতরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মালিকানাধীন জমি রয়েছে। তবে তাদের জমিতে কোনো বসতি স্থাপন করা হয়নি। রোহিঙ্গাদের বসবাসের জন্য ঘরের প্রয়োজন পড়লে বন বিভাগের জমিতে করা হয়।’

ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাক আহমদ দাবি করেন, ‘মানবিক বিবেচনায় সরকার রোহিঙ্গাদের জায়গা দিয়েছে। আমরাও তাদের স্বাগত জানিয়েছি। কিন্তু এখন বন বিভাগের জায়গাসংলগ্ন আমাদের জমি দখল করে অবৈধভাবে রোহিঙ্গা বসতি গড়া হচ্ছে। তাদের এ কাজে সহায়তা করছেন ক্যাম্পের সিআইসি।’

তিনি বলেন, ‘বিএস খতিয়ান নং-১৯, সৃজিত খতিয়ান নং-২৫৮, বিএস ২৫৬ ও ২৫৮ দাগের ১০ শতক খতিয়ানি জমি দখল করে পাঁচটি ঘর করেছে রোহিঙ্গারা। মালিকানার বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও নিজের জায়গা ভোগদখল করতে পারছি না। জেলা প্রশাসক, আরআরআরসি, উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকার পাইনি।’

একই অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দা মৌলভী গফুর উল্লাহর। তিনি বলেন, ‘বালুখালী বলীবাজার মার্কেটে আমার পাঁচ শতাধিক দোকান ছিল। কৌশলে রোহিঙ্গারা সেগুলো পুড়িয়ে দেয়। নিজের জায়গায় দোকান করতে গেলেও সিআইসি বাধা দেন। পরে আমার মতো অনেকের জোত জমিতে রোহিঙ্গাদের জন্য পাঁচ শতাধিক ঝুপড়ি স্থাপন করা হয়েছে।’

এদিকে কাঁটাতারের ভেতরে স্থানীয়দের প্রায় ২০ একর জমি দখলের ক্ষতিপূরণ অথবা রোহিঙ্গাদের উচ্ছেদের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসী।

পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘বালুখালীর ৯ নম্বর ক্যাম্পসহ সাতটি ক্যাম্পে প্রায় ১৫০ একর জোত রেকর্ডীয় জমি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কাঁটাতারের ভেতরে পড়েছে। ক্যাম্প ও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় এসব জমিতে রোহিঙ্গা বসতি গড়ে উঠেছে। রোহিঙ্গাদের বর্জ্যরে কারণে চাষাবাদও করা যাচ্ছে না।’

রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির চেয়ারম্যান ও উখিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক চৌধুরী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিত এ দেশের কর্মকর্তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। দেশবাসীর চেয়ে তাদের কাছে চাকরি বড়। এ জন্য প্রতিনিয়ত তাদের বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন স্থানীয়রা।’ তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয়দের জোত জমি কাঁটাতারের ভেতরে ঢোকানো অবৈধ। কাঁটাতারের ভেতরে স্থানীয়দের যাওয়া নিষিদ্ধ। তাই আমরা প্রতিকারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ চাই। জোত জমি দখলমুক্ত করারও দাবি জানাচ্ছি।’

এ বিষয়ে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার শাহ রেজওয়ান হায়াতের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।