তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী সাদিকা পারভীন পপি। এখনো তার সৌন্দর্য আর লাস্যময়তা দর্শককে মুগ্ধ করে। তাই তো করোনাকালের আগেও তিনি বেশ কিছু নতুন সিনেমায় প্রধান চরিত্রে কাজের সুযোগ পান। করোনাকালের শুরুর দিকে তিনি শিল্পী হিসেবে সামাজিক দায়বদ্ধতার পরিচয়ও দিয়েছেন চমৎকারভাবে। নিজ হাতে দুস্থ মানুষকে খাবার ও অর্থ বিতরণ করেছেন। সে সময় দেশ রূপান্তরকে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘দেশের মানুষের জন্যই আমি আজকে সাধারণ একটি মেয়ে থেকে সুপারস্টার পপি হয়েছি। আমার সেটা ভুলে গেলে চলবে না। তাই করোনার ভয় না করে আমি তাদের মাঝে ছুটে গিয়েছি। সাধ্যমতো সহায়তা করেছি। খুলনার মেয়ে হিসেবে এই এলাকার মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা বেশি। তাই সেখানে ছুটে গিয়েছি সহায়তার হাত বাড়াতে।’ এই কাজ করতে গিয়েই পপি করোনা আক্রান্তও হয়েছিলেন। সেই পপিকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি গত এক বছরের বেশি সময়। তার সব ফোন নম্বর বন্ধ। শোবিজের কেউই তার কোনো খবর জানেন না। এ প্রসঙ্গে খোঁজ নিতে যোগাযোগ করা হয় জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ওমর সানীর সঙ্গে। তিনি শুধু পপির প্রথম সিনেমা ‘কুলি’র নায়কই নন, কাজিন মৌসুমীর স্বামীও। শ্যালিকার বর্তমান অবস্থা নিয়ে ওমর সানী বললেন, ‘আমি তার বিষয়ে অনেক দিন কোনো খবর জানি না।’
একই কথা পরিচালক সমিতির সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান ও শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানেরও (একসময় জায়েদ খানের সঙ্গে পপির প্রেম ছিল বলে শোবিজে গুঞ্জন। যদিও কেউই সরাসরি স্বীকার করেননি কখনো)। জ্যেষ্ঠ চিত্রনায়িকা অঞ্জনা বলেন, ‘আমি পপিকে অনেকবার ফোন করেছি। তার নম্বর আর ব্যবহৃত হয় না বলে জেনেছি। এরপর শিল্পী সমিতিতেও কথা বলেছি। তারাও কোনো খবর পাচ্ছে না। সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানের সঙ্গে তো এখন আর তার আগের মতো সেই সম্পর্ক নেই। পপির বিয়ে, সংসার, সন্তানসম্ভবা এসব খবর সবার মতো আমিও শুধু শুনেছি। কিন্তু কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে তার প্রমাণ পাইনি। জায়েদ খানও এসব বিষয়ে কিছুই জানে না বলে আমাকে জানিয়েছে। আমি চাই পপি যেখানেই থাকুক ভালো থাকুক। তবে তার মতো শিল্পীকে চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য দরকার। সে দ্রুত সবার সামনে নিজেই আসবে বলে আমার প্রত্যাশা।’
রাজু আলিম বলেন, ‘আমার পরিচালিত ভালোবাসার প্রজাপতি সিনেমার নায়িকা পপি। তিনি দেশের অন্তত সফল একজন নায়িকা। শাবানা, কবরী, ববিতার পর যে চারজন নায়িকার কথা সবাই গর্বের সঙ্গে বলেন, তার মধ্যে তিনি অন্যতম। সারা দেশের মানুষ তাকে ভালোবাসে, সম্মান করে। আমি গর্বিত যে তিনি আমার সিনেমার কাজ করেছেন। তবে একটা মানুষ যখন এই পর্যায়ে অবস্থান করেন, তখন তার দায়িত্ববোধ কিন্তু অনেকখানি। কারণ তার কাছে দেশের মানুষের অনেক প্রত্যাশা। বিশেষ করে পরীমণিকান্ডে শোবিজের যে নাজেহাল অবস্থা এমন পরিস্থিতি তার মতো শীর্ষ নায়িকার এভাবে আড়ালে থাকাটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। চলচ্চিত্র শিল্পের স্বার্থে হলেও তার উচিত জনসম্মুখে নিজ থেকে আসা।’
তিনি আরও বলেন, ‘পপি আমার সিনেমার যতটুকু শ্যুটিং করেছেন তাতে আমার সিনেমাটি শেষ করতে খুব একটা বেগ পেতে হবে না। শ্যুটিংয়ের জন্য তাকে আর প্রয়োজন হবে না। তবে সামনে তাকে আবার প্রয়োজন হবে ডাবিংয়ের সময়। তখনও যদি তিনি দায়িত্বের পরিচয় না দেন, তাহলে বাধ্য হয়ে অন্য কাউকে দিয়ে ডাবিং শেষ করে সিনেমাটি দর্শকদের জন্য মুক্তি দিতে হবে।’
পপিকে খোঁজ করেছেন কি না জানতে চাইলে রাজু আলিম বলেন, ‘পপি যদি আমার সিনেমায় আরও দুই-চার দিন শ্যুটিং করতেন তাহলে সিনেমাটির পরিণতি অন্যভাবে হতো। ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়ায় সেজন্যই তাকে খোঁজ করা হয়। তিনি ঢাকার দুই এলাকায় থাকতেন। মগবাজার ও বারিধারা দুটো বাসাতেই লোক পাঠিয়েছি। কিন্তু কোনোটিতেই তিনি আর থাকছেন না। তার বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগও করেছিলাম। তার মা ফেইসবুকে এর মধ্যে লিখেছেন, মেয়ে হয়ে মায়ের খোঁজখবরও নিচ্ছেন না পপি। আমিও তো শোবিজের মানুষ। ভালোবাসার প্রজাপতি সিনেমার শুধু পরিচালকই নই, এতে পপির নায়কও আমি। তাই কাছের মানুষের কোনো খারাপ দিক প্রকাশ করতে চাই না। পবির বাবা এখন খুলনায়। তিনিও জানেন না তার মেয়ে কোথায় আছে, কেমন আছে। তাকে যেহেতু কোনোভাবেই পাচ্ছিলাম না, এজন্য সিনেমার শেষটা আমাকে নতুনভাবে ভাবতে হয়েছে।’
পপি নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে নিয়ে ঢালিউডে অনেক রসালো গল্প শোনা গেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমিও সবার মতো গল্পগুলো শুধু শুনেছি। এর সত্যতা কতটুকু তা কেউ জানে না। তার বাবা-মাও মেয়ের বিয়ের ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে আমাকে জানিয়েছেন। পপিরই উচিত, জাতির কাছে নিজের অবস্থান প্রকাশ করা।’
সবশেষে পপির প্রতি তার আহ্বান, ‘ওর মতো সুপারস্টার এভাবে হারিয়ে যেতে পারে না। পপি আমাদের মাঝে ফিরে আসুন, সিনেমাশিল্পকে তার আরও অনেক কিছু দেওয়ার বাকি আছে। অন্তত কেমন আছেন সেটা সবাইকে জানান। আমি চাই, তিনি যেখানে থাকুন যেন ভালো থাকুন। সুন্দর জীবনযাপন করুন।’
ভালোবাসার প্রজাপতি সিনেমায় পপি ছাড়া আরও অভিনয় করেছন রাজু আলিম, শিপন মিত্র, মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশখ্যাত শিলা ঈশ^রী, প্রিয়মনি, তানিন তানহা, ডিজে সনিকা, আলিশা প্রমুখ।