দেশের পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে পুঁজিবাজার যে উল্লম্ফন হয়েছে, তাতে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছে আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। এই ঝুঁকি নিরসনে ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে সংস্থাটি। বিপরীতে পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে এখনই কোনো ঝুঁকি দেখছে না এসইসি; বরং বেশ কিছু সংস্কারের কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও লেনদেন বাড়ায় সূচকটির অবস্থান আরও উঁচুতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছে তারা। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া পদক্ষেপের পাল্টা পদক্ষেপ নিচ্ছে তারা।
পুঁজিবাজারের টানা ঊর্ধ্বমুখী ধারা নিয়ন্ত্রণে তারল্য সংকোচনের বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে মুদ্রাবাজারের নিয়ন্ত্রক বাংলাদেশ ব্যাংক। অপরদিকে বিনিয়োগকারীর আস্থা ধরে রাখতে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে মার্জিন ঋণের সর্বোচ্চ সুবিধা আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক এসইসি।
২০২০ সালের এপ্রিলে অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের নেতৃত্বে কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বাজারের বেশ কিছু সংস্কার করা হয়। এর মধ্যে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর উদ্যোক্তা-পরিচালকদের ন্যূনতম ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ বাধ্যতামূলক, নিজ কোম্পানিতে পরিচালকদের ন্যূনতম ২ শতাংশ শেয়ার থাকা, লোকসানি ও উৎপাদন বন্ধ থাকা কোম্পানিগুলো পুনর্গঠনের উদ্যোগ, শেয়ার ক্রয়ে মার্জিন ঋণের অনুপাত বাড়ানো অন্যতম। মূলত এসব উদ্যোগই দীর্ঘদিন মন্দায় থাকা পুঁজিবাজার করোনাকালে চাঙ্গাভাব নিয়ে আসে। পাশাপাশি ব্যাংকে আমানতের সুদহার তলানিতে নেমে আসার কারণেও পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের ঝোঁক বেড়েছে। এ ছাড়া করোনায় বিকল্প বিনিয়োগের সুযোগ না থাকার কারণেও বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ বাড়ায় লেনদেনও বাড়তে থাকে। ফলে শেয়ারের চাহিদা বাড়ায় করোনার মধ্যেও গত এক বছরে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ৩৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বর্তমানে ডিএসইর প্রধান সূচকটি রয়েছে ৬৭০০ পয়েন্টে, যা এ সূচকটি চালুর পর সর্বোচ্চ। গত এক বছরে ডিএসইর বাজার মূলধনও বেড়েছে ৫০ শতাংশের বেশি। এক বছরের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন হাজার কোটি টাকা থেকে তিন হাজার কোটি টাকার কাছাকাছিতে উন্নীত হয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পুঁজিবাজারের এই উল্লম্ফন কেবল বাংলাদেশেই না, বিশ্বের অনেক দেশেই একই চিত্র দেখা গেছে। গত এক বছরে ভারতীয় পুঁজিবাজারের প্রধান সূচক সেনসেক্স প্রায় ৪৫ শতাংশ বেড়েছে। এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের নাসডাক কম্পোজিট ৩৪ শতাংশ, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ৩২ শতাংশ ও ডাউজোনস সূচক ২৭ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে যুক্তরাজ্যের এফটিএসই ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ, জার্মানির ডিএএক্স সূচক ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ ও জাপানের নিক্কেই সূচক ২০ শতাংশ বেড়েছে। বেড়েছে চীনের সাংহাই কম্পোজিট সূচক ও হংকংয়ের হ্যাংসেং সূচকও।
তবে উদ্বিগ্ন বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, এসইসির পদক্ষেপের কারণে পুঁজিবাজারে স্বাভাবিক সংশোধন হচ্ছে না। শেয়ারের চাহিদা তৈরিতে মার্জিন ঋণ বিতরণের হার বাড়িয়েছে এসইসি, যা টানা ঊর্ধ্বমুখী ধারা তৈরি হয়েছে। আবার প্রণোদনার ঋণের একটি অংশও পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ হয়েছে। তবে প্রণোদনার ঋণ পুঁজিবাজারের বিনিয়োগের কোনো প্রামাণিক তথ্য নেই।
সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংক-এনবিএফআইগুলো তাদের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে, যার উল্লেখযোগ্য অংশই মার্জিন ঋণে ব্যবহার হচ্ছে। আগামীতে বাজার সংশোধন হলে ২০১০ সালের মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মার্জিন ঋণের অর্থ আটকে যেতে পারে বলে শঙ্কা করছে আর্থিক খাতের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। অবশ্য এসইসি মনে করছে, বাজারে এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, যাতে এখনই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিতে হবে; বরং পুঁজিবাজার নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন পদক্ষেপ অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকর বলে মনে করছে এসইসি। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পাল্টা পদক্ষেপ নিয়ে পুঁজিবাজারে আস্থা ধরে রাখতে চাইছে তারা।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণে গত ২৫ জুলাই থেকে পদক্ষেপ নিতে শুরু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। করোনার প্রভাব মোকাবিলায় সরকারি প্রণোদনার কম সুদের ঋণের একটি অংশ পুঁজিবাজারসহ বিভিন্ন অনুৎপাদনশীল খাতে চলে যাওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করে সেদিন সব ব্যাংককে চিঠি দিয়ে সতর্ক করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ছাড়া প্রণোদনার আওতায় ঋণের ব্যবহারসহ বিভিন্ন তথ্য চেয়ে পরে আরও একটি চিঠি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঋণের সঠিক ব্যবহার যাচাইয়ের জন্য মাঠপর্যায়ে পরিদর্শনের সিদ্ধান্তও নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে তারল্য সরবরাহ কমাতে ব্যাংকে থাকা অলস অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংক বিলের মাধ্যমে তুলে নিতে শুরু করে সংস্থাটি।
কিন্তু কোনো পদক্ষেপেই পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি; বরং গত ২৫ জুলাইয়ের পর ডিএসইর প্রধান সূচকটি আরও ২৭৬ পয়েন্ট বেড়েছে। ডিএসইর লেনদেন বেড়ে দ্বিগুণে উন্নীত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার দৈনিক ভিত্তিতে পুঁজিবাজারে ব্যাংক ও এনবিএফআই এবং এসব প্রতিষ্ঠানের সাবসিডিয়ারির লেনদেন ও বিনিয়োগের পাশাপাশি গ্রাহককে দেওয়া মার্জিন ঋণের প্রতিদিনের তথ্য পাঠাতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি ব্যাংক থেকে অন্যান্য ব্যাংক, এনবিএফআই, মার্চেন্ট ব্যাংক, ব্রোকারেজ হাউজ, ইনস্যুরেন্স কোম্পানি ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে কী পরিমাণ তহবিল হস্তান্তর করা হয়েছে তার তথ্য প্রতিদিন আলাদা ছকে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ তথা লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করতেই বাংলাদেশ ব্যাংকের এমন পদক্ষেপ। ব্যাংকগুলোর কাছে থাকা বাড়তি তারল্য যেন পুঁজিবাজারসহ অনুৎপাদনশীল খাতে চলে না যায়, সে জন্য নিয়মিত তদারকির এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এমন পরিস্থিতিতে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার রাতেই সর্বোচ্চ ঋণসীমার পরিধি বাড়ানোর আদেশ জারি করে এসইসি। সংস্থাটির নতুন আদেশে বলা হয়েছে, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৮০০০ পয়েন্টে না যাওয়া পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে ১০০ টাকার বিনিয়োগের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৮০ টাকার ঋণসুবিধা বহাল থাকবে। আগে এ সুবিধাটি ছিল ডিএসইএক্স ৭০০০ পয়েন্ট পর্যন্ত। ডিএসইএক্স ৭ হাজার অতিক্রম করলেই শেয়ার কেনার বিপরীতে ঋণ কমে ১০০ টাকার বিপরীতে ৫০ টাকা হয়ে যাবে। অর্থাৎ ৭০০০ পয়েন্ট পার হলেই ঋণ সমন্বয়ে বিক্রিচাপে সংশোধনের সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু নতুন আদেশের ফলে বিনিয়োগকারীরা এখন ডিএসইএক্স ৮০০০ পয়েন্ট পর্যন্ত সর্বোচ্চ মার্জিন ঋণসুবিধা পাবেন। মূলত বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক নির্দেশনাটি যাতে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে না পারে, সে জন্য সর্বোচ্চ ঋণের পরিধি বাড়িয়েছে এসইসি।
পুঁজিবাজার নিয়ে দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে এসইসির কমিশনার অধ্যাপক শেখ সামছুদ্দিন আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। আমরা কেউ কারও প্রতিযোগী নই; বরং সহায়ক ভূমিকা রাখলে দেশের অর্থনীতি ভালো হবে, কর্মসংস্থান বাড়বে। গত এক বছরে বিভিন্ন সংস্কারের ফলে পুঁজিবাজারে সাফল্য এসেছে, বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকেরও উচিত ঋণ বিতরণ, প্রণোদনা, খেলাপিসহ বিভিন্ন কোর এরিয়ায় মনোযোগী হওয়া।’
পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে এসইসির এই কমিশনার বলেন, ‘২০১০ সাল আর ২০২১ সালের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। বর্তমানের বাজার আর্টিফিশিয়াল নয়। আমাদের বাজার এখনো জিডিপির এক-পঞ্চমাংশ, যা বিশে^ অন্যান্য দেশের তুলনায় খুবই কম। অথচ আমাদের দেশের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। সূচকের বর্তমান অবস্থান পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, গত কয়েক বছরে বেশ কিছু বড় কোম্পানি এসেছে। বাজার মূলধন বেড়েছে। যার প্রভাব বাজারে পড়েছে। সূচক ক্রমবর্ধমান, টার্নওভারও বাড়ছে। এ সবকিছুই হচ্ছে বিনিয়োগকারীর আস্থা বাড়ছে বলেই। এমন পরিস্থিতিতে সূচক ৭০০০ পয়েন্টে অবরুদ্ধ করে রাখতে চাই না আমরা। এ জন্যই মার্জিন ঋণের সুবিধা সূচকের ৮০০০ পয়েন্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ’
জানা গেছে, ২০১০ সাল পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর বিপুল বিনিয়োগ ছিল পুঁজিবাজারে। সে সময় আইনি সীমা লঙ্ঘন করে অধিকাংশ ব্যাংক পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের চাপে হঠাৎ করেই ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ প্রত্যাহার করা শুরু করলে ধস নামে পুঁজিবাজারে। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক আইন সংশোধন করে পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমায় পরিবর্তন আনে। সংশোধনের ফলে ব্যাংকগুলোকে মোট দায়ের পরিবর্তে রেগুলেটরি মূলধনের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারে, যা সাবসিডিয়ারিসহ সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ। বিনিয়োগ সীমায় এমন পরিবর্তনের পর থেকেই পুঁজিবাজারবিমুখ হয়ে পড়ে ব্যাংক। ২০১৮ সালের পর থেকে পুঁজিবাজারে টানা মন্দাবস্থা তৈরি হলে এসইসির পক্ষ থেকে ব্যাংকগুলোকে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়। অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একাধিক বৈঠকও হয়। সেই বৈঠকে ব্যাংকগুলো বিনিয়োগের আশ্বাস দিলেও পুঁজিবাজারে মন্দা কাটাতে কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখেনি।
পরে ২০২০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকগুলোর জন্য পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে বিশেষ তহবিল গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতিটি ব্যাংকের জন্য ২০০ কোটি টাকার তহবিল গঠনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সহায়তার ঘোষণা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এমন পরিস্থিতিতে ২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনা সংক্রমণ শুরু হলে পুঁজিবাজারে ধসের পরিস্থিতি তৈরি হলেও তা সামাল দিতে ব্যাংক, এনবিএফআইয়ের মতো প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা এগিয়ে আসেনি। ফলে তীব্র তারল্য সংকটে পুঁজিবাজারে বড় পতন শুরু হলে এসইসি বাধ্য হয়ে ফ্লোর প্রাইস আরোপ করে। পরে দেশব্যাপী ‘লকডাউনের’ সুযোগে পুঁজিবাজারও বন্ধ রাখা হয়। এরই মধ্যে অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের নেতৃত্বে কমিশন পুনর্গঠন করা হয়।
শিবলী রুবাইয়াতের কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর টানা ৬৬ দিন বন্ধ থাকার পর ২০২০ সালের ৩১ মে পুনরায় লেনদেন শুরু হয়। কিন্তু ফ্লোর প্রাইস ও তারল্য সংকটের কারণে জুলাই পর্যন্ত পুঁজিবাজার ধীরগতিতে চলতে থাকে। লেনদেন ৪২ কোটি থেকে ৫০০ কোটি টাকায় সীমিত হয়ে পড়ে। এসইসি থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে বারবার অনুরোধের পরও বিশেষ তহবল গঠন কিংবা ওই তহবিল থেকে বিনিয়োগ আসেনি। এরই মধ্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বাইরে কিছু প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিশ্রেণির বড় বিনিয়োগকারীর সক্রিয়তায় পুঁজিবাজার ধীরে ধীরে চাঙ্গা হতে শুরু করে। কারসাজিও চলতে থাকে। বীমাসহ কয়েকটি খাতের শেয়ার দর বাড়তে থাকায় বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণও বাড়তে থাকে। ফলে বাংকের অংশগ্রহণ ছাড়াই গত বছরের আগস্ট মাসে লেনদেন পরিস্থিতিতে উন্নতি দেখা দেয়, ডিএসইর লেনদেন হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়, যা এক বছরের ব্যবধানে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়।
এদিকে পুঁজিবাজারের জন্য বিশেষ তহবিল গঠনে সাড়া না পেয়ে ব্যাংকগুলোর বন্ড অনুমোদনের ক্ষেত্রে শর্তারোপ করে এসইসি। বিশেষ তহবিল গঠন না করলে ব্যাংকের বন্ডের অনুমোদন দেওয়া হবে না বলে জানায় এসইসি। এমন পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে অনেক ব্যাংক তহবিল গঠন করলেও বিনিয়োগে ধীরগতি দেখা যায়। এক বছর ৭ মাসে ৩৫টি ব্যাংক ৩ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকার তহবিল গঠন করেছে, যার ৪৭ শতাংশ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও এসইসি সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ নির্ধারিত সীমার অনেক নিচে রয়েছে। যে কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার পরও পুঁজিবাজারে প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি।