শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যে কোনো সময় খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি থাকলেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমে আসা এবং শিক্ষার্থীদের টিকাদানের ওপর সবকিছু নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। গতকাল রবিবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, এখন মহামারীর যে পরিস্থিতি তাতে কবে নাগাদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে সেটি বলার সুযোগ নেই।
স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে সংক্রমণ নিম্নমুখী হবে আশা প্রকাশ করে দীপু মনি বলেন, ‘বিশেষজ্ঞরা বলেন শনাক্তের হার শতকরা ৫ শতাংশের কম হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া যায়। আমরা এটি মাথায় রাখছি। এখন যেহেতু ব্যাপকহারে টিকা কার্যক্রম শুরু হয়েছে, সেক্ষেত্রে ৫ শতাংশ না হলেও সংক্রমণ যথেষ্ট পরিমাণ নিচে নামলে হয়তো শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে নিয়ে আসতে পারব।’
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর গত বছরের মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। কয়েক দফা চেষ্টা চালালেও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় দফায় দফায় ছুটি বাড়াতে হচ্ছে। লকডাউন শেষে ১১ আগস্ট থেকে সব কিছু চালু হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বলে আগেই জানিয়েছে সরকার।
শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে আনার পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সংক্রমণের হার একেবারেই কমে চলে এলে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একসঙ্গে খুলে দেওয়া হবে। যদি ধীরে ধীরে কমে সেক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা যেহেতু আগে টিকা পাবে, তাই বিশ্ববিদ্যালয় আগে খুলে দেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘খোলার পর বিশেষ করে মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের একেবারে পাঁচ-ছয়দিনে নিয়ে আসব তা না, ধাপে ধাপে নিয়ে আসা হবে। কারণ শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের এখানে বেশি। সংক্রমণ কমলেও আমাদের বহুদিন মাস্ক পরা ও স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। সেসব বিবেচনা করেই আমরা পরিকল্পনা করছি।’