শ্বশুরবাড়ির সামনে স্ত্রীর লাশ ফেলে পালালেন স্বামী

মাদারীপুরে যৌতুকের টাকার জন্য ভালবাসার স্ত্রী ইভাকে (১৯) কোমল পানীয়ের সঙ্গে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী রিয়াজ বেপারীর (২১) বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার সকালে মাদারীপুরের সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের চরকালিকাপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ইভা চরকালিকাপুরের তাল্লুক এলাকার মোহাম্মদ আলী ফকিরের মেয়ে।

ইভার স্বজনদের অভিযোগ, ইভা এক বছর আগে ভালোবেসে বিয়ে করেন একই এলাকার সিরাজ বেপারীর ছেলে রিয়াজ বেপারীকে।

বিয়ের ৬ মাস হতে না হতেই যৌতুকের টাকার জন্য ইভাকে প্রায় মারধর করতেন স্বামী। অনেকবার টাকা দিয়েও ছেলের পরিবারকে খুশি করতে পারেনি। সর্বশেষ ইভার পরিবারের কাছে যৌতুকের জন্য নগদ ৪ লাখ টাকা ও ৪ ভরি স্বর্ণালংকার দাবি করেন রিয়াজ ও তার পরিবার।

যৌতুকের টাকা ও স্বর্ণালংকার না পেয়ে গত ৭ আগস্ট (শনিবার) সকাল ৭টার দিকে ইভাকে কোমল পানীয়ের সাথে কীটনাশক খাইয়ে অচেতন অবস্থায় মেয়ের বাড়ির সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

পরে মেয়ের পরিবারের লোকজন মেয়েকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। অবস্থার একটু উন্নতি হলে ৯ আগস্ট সোমবার ইভার স্বামীর পরিবার এসে ইভাকে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। নিয়ে যাওয়ার পরই ইভার অবস্থা আবার খারাপ হতে থাকে, পরে ইভার স্বামীর পরিবার আবার তাকে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইভাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল মেডিকেল কলেজে ভর্তি জন্য পাঠিয়ে দেয়।

বরিশাল মেডিকেলে ভর্তি অবস্থায় সোমবার সকাল ১০টার দিকে ইভা মারা যান।

ইভার স্বামী রিয়াজ ও তার পরিবার ইভার বাসার সামনে তার মরদেহ রেখে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ইভার পরিবারের লোকজন পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাদের পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি, অভিযুক্তরা সবাই ঘটনার পর থেকে পলাতক।

ইভার ফুফু সাজমা বেগম বলেন, ৪ লাখ টাকা আর ৪ ভরি সোনার জন্য আমাগো মাইয়াডারে মেরে ফেললো রিয়াজ আর তার পরিবার। আমরা আমাগো মেয়ে হত্যার বিচার চাই।

মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম মিঞা বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছি। আমাদের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।