প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় ই-অরেঞ্জের মালিক সোনিয়া মেহজাবিন ও তার স্বামী মাসুকুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত। এর আগে নগদ টাকা পরিশোধের পরও মাসের পর মাস পণ্য না পাওয়ায় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে গত সোমবার রাতে মামলা করেন মো. তাহেরুল ইসলাম নামে এক গ্রাহক।
জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবুবকর সিদ্দিকের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন সোনিয়া মেহজাবিন ও মাসুকুর রহমান। শুনানি শেষে আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।
গুলশান থানার ওসি আবুল হাসান বলেন, একজন গ্রাহক বাদী হয়ে ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে একটি প্রতারণা মামলা করেছেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। মামলার আসামিরা হলেনÑ মাসুকুর রহমান, আমানউল্লাহ, বীথি আক্তার, কাউসার আহমেদ, সোনিয়া মেহজাবিনসহ ই-অরেঞ্জের সব মালিক। মামলার এজাহারে উল্লিখিত আসামিদের প্রত্যেককেই ই-অরেঞ্জের মালিক বলে দাবি করা হয়েছে। মামলার বাদী তাহেরুল ইসলাম। তার সঙ্গে প্রতারণার শিকার আরও ৩৭ জনও মামলার সময় উপস্থিত ছিলেন। মামলার এজাহারে তাদের স্বাক্ষর রয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হয়েছেন গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রতারণার মামলা হয়েছে। আমরা মামলার তদন্ত করছি।
মামলায় তাহেরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তিনি গত ২১ এপ্রিল পণ্য কেনার জন্য ই-অরেঞ্জে অগ্রিম টাকা দেন। ই-অরেঞ্জ নির্ধারিত তারিখে পণ্য সরবরাহ করেনি। টাকাও ফেরত দেয়নি। নিজেদের ফেইসবুক পেজে বারবার নোটিস দিয়েছে, সময় চেয়েছে, কিন্তু পণ্য বা টাকা ফেরত দেয়নি। তিনি বলেন, সর্বশেষ তারা (ই-অরেঞ্জ) গুলশান-১-এর ১৩৬/১৩৭ নম্বর রোডের ৫/এ নম্বর ভবনে অবস্থিত অফিস থেকে পণ্য ডেলিভারির কথা বললেও দেওয়া হয়নি। এছাড়া তারা বিভিন্ন আউটলেটের যে গিফট ভাউচার বিক্রি করেছিল, সেগুলোর টাকা আটকে রাখায় আউটলেটগুলো ভাউচারের বিপরীতে পণ্য দিচ্ছে না। করোনাকালীন আমাদের কষ্টার্জিত অর্থ পাচ্ছি না, বরং প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা পরিবর্তন নিয়ে নতুন নতুন তথ্য পাচ্ছি। আজ পর্যন্ত কোনো পণ্য ডেলিভারি না করে এক লাখ গ্রাহকের প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা প্রতারণামূলকভাবে আত্মসাৎ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
অর্ডার করা পণ্য পেতে গত সোমবার রাজধানীর গুলশান-১-এর সড়ক অবরোধ করেন ই-অরেঞ্জের গ্রাহকরা। এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও সংসদ সদস্য মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। সড়ক অবরোধের একপর্যায়ে রাতেই বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা সংসদ সদস্য মাশরাফীর সঙ্গে দেখা করতে মিরপুর-১২-তে তার বাসায় যান।