বাংলাদেশের বাজারে সুতার সংকট বেড়েই চলছে। অপরদিকে পাকিস্তানের অস্থিতিশীল পরিবেশ থেকে ক্রেতাদের ফিরে আসার প্রবণতা বাড়ার ফলে সেই বাজার ধরতে সরাসরি সুতা আমদানি করতে চায় হোম টেক্সটাইল ও টেরিটাওয়েল রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেরিটাওয়েল অ্যান্ড লিনেন ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিটিএলএমইএ)।
এ ছাড়াও সুতা আমদানিতে বর্তমান যে বাধা আছে তা দূর করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানিয়েছে সংগঠনটি। এর পাশাপাশি সুতা আমদানিতে শুল্ক ছাড়ের জন্য অনুরোধ করে চিঠি দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর)। বন্ড লাইসেন্সবিহীন আমদানিকারকদের সুতা আমদানি করতে ৩৭ শতাংশ কর পরিশোধ করতে হয় এবং পলিয়েস্টার মিক্স আমদানি করতে শুল্ক দিতে হয় ৩১ শতাংশ। সুতা সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত সুবিধা না চাইলেও এক শতাংশ কর দিয়ে আমদানি করে সুতার বাজারকে স্থিতিশীল রাখা যায় বলে জানায় সংগঠনটি।
দুই মন্ত্রণালয় ও এনবিআরকে দেওয়া বিটিটিএলএমইএ’র সভাপতি মো. শাহাদাত হোসেন সোহেল স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয় ‘হোম টেক্সটাইল এবং টেরিটাওয়েল পণ্য উৎপাদনের জন্য আমরা পুরোপুরি দেশীয় সুতার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু স্থানীয় মিলগুলো চাহিদা এবং লিড টাইমের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সুতা সরবরাহ করতে পারছে না। ভারত, পাকিস্তান ও অন্যান্য সুতা উৎপাদনকারী দেশের তুলনায় আমাদের স্থানীয় সুতার মূল্য প্রায় ৫০-৬০ শতাংশ বেশি। স্থানীয় সুতার অপ্রতুল সরবরাহ ও উচ্চমূল্যের কারণে আমরা আমাদের রপ্তানি আদেশ বাস্তবায়ন করতে পারছি না।’
এ কারণে সংগঠনটির বন্ডবিহীন সদস্য প্রতিষ্ঠানকে রেয়াতি হারে সুতা আমদানির অনুমোদন দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। এ ছাড়া সুতা আমদানিতে সকল স্থল, নৌ ও সমুদ্রবন্দর দিয়ে আমদানি করার সুযোগ চাওয়া হয়। পাশাপাশি সংগঠনটির সকল সদস্য প্রতিষ্ঠানকে ৬-২০ কাউন্টের সুতা আমদানির অনুমোদনও চাওয়া হয়।
বিটিটিএলএমইএ’র সভাপতি মো. শাহাদাত হোসেন সোহেল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিদায়ী অর্থবছরে ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় করেছে টেরিটাওয়েল খাত। যা গত বছর থেকে ৪৯ শতাংশ বেশি। কিন্তু সুতার দাম দেশে অস্বাভাবিক বেশি হওয়ায় আমাদের আমদানি করতে হয়। আমদানি করতে গেলে দিতে হয় ৩৭ শতাংশ শুল্ককর। এতে করে আমরা এগোতে পারছি না। পাকিস্তান শুধু টেরিটাওয়েল খাত থেকে ১০ বিলিয়ন ডলার আয় করে থাকে। সুতার দাম কমলে বা আমদানি শুল্ক যদি ১ শতাংশ করে দেওয়া হয় তাহলে এ খাত আরও বেশি অবদান রাখতে পারবে জিডিপিতে।’