ব্যাংকের গুণগত মূলধন বাড়াতে আগামী চার বছরে ১ শতাংশ বাড়াতে নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ২০২৩ সাল থেকে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ হারে ক্রমান্বয়ে এ অনুপাত বাড়াতে বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বর্তমানে এই অনুপাত রয়েছে ৩ শতাংশ। আগামী ২০২২ সালটি দেওয়া হয়েছে প্রস্তুতিমূলক সময় হিসেবে।
গতকাল বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের পাঠানো হয়। ব্যাসেল-৩ কাঠামো অনুযায়ী ব্যাংকের মোট টিয়ার-১ মূলধন ও মোট সম্পদের অনুপাতকে লিভারেজ অনুপাত বলা হয়।
সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়, লিভারেজ অনুপাত কাক্সিক্ষত পর্যায়ে উন্নীত করার মাধ্যমে বৈদেশিক বাণিজ্যে তফসিলি ব্যাংকগুলোর আমদানি ব্যয় কমবে এবং সামগ্রিক আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা বাড়বে। এছাড়াও লিভারেজ অনুপাত বাড়লে ব্যাংকের গুণগত মূলধন বাড়বে যার ফলে অপ্রত্যাশিত ক্ষতির বিপরীতে ব্যাংকের ঝুঁকি সহনশীলতাও বৃদ্ধি পাবে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যের জন্য ব্যাংকগুলোকে লিভারেজ অনুপাত নির্দেশিত মাত্রায় বাড়াতে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১ এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে এ আদেশ জারি করে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
জানা গেছে, ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে এক নীতিমালা জারির মাধ্যমে লিভারেজ অনুপাত সংরক্ষণের জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই সময় দেশের আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষার্থে এবং ব্যাংকের মূলধন ও দায়ের মধ্যে যথাযথ ভারসাম্য রক্ষার্থে ব্যাসেল-৩ কাঠামোর আলোকে ঝুঁকিভিত্তিক মূলধন পর্যাপ্ততার পাশাপাশি তফসিলি ব্যাংকগুলোকে ২০১৫ সাল থেকে ন্যূনতম ৩ শতাংশ লিভারেজ অনুপাত সংরক্ষণ করতে বলা হয়।
ওই নীতিমালায় ২০১৭ সাল থেকে ওই লিভারেজ অনুপাত পুনর্বিন্যাস করার পরিকল্পনার উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে তা না হওয়ায় ২০১৯ সাল থেকে দেশের ব্যাংক খাতে সম্পূর্ণরূপে ব্যাসেল-৩ বাস্তবায়ন করা হলেও ঝুঁকিভিত্তিক মূলধন পর্যাপ্ততার মতো ব্যাংকের লিভারেজ অনুপাত প্রত্যাশার তুলনায় বাড়েনি।
গতকাল একইদিন আরেকটি সার্কুলার জারির মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আমদানি-পরবর্তী অর্থায়ন বা পোস্ট ইমপোর্ট ফাইন্যান্সিংয়ের (পিআইএফ) তথ্য জানতে নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে বিদেশি মুদ্রায় লেনদেনে নিয়োজিত অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে প্রতি তিন মাস অন্তর এ তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এতে বলা হয়, পোস্ট ইমপোর্ট ফাইন্যান্সিংয়ের (পিআইএফ) তথ্য প্রতি তিন মাস অন্তর হার্ড ও সফট কপি ডিপার্টমেন্ট অব অফ-সাইট সুপারভিশনে দাখিল করতে হবে। একই সঙ্গে বিবরণীর একটি অনুলিপি ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি (বিআরপিডি) বিভাগের টাস্কফোর্স সেলেও পাঠাতে হবে। এ নির্দেশনা চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে সমাপ্ত ত্রৈমাসিক থেকে কার্যকর হবে। আগে জারি করা এ সংক্রান্ত অন্যান্য শর্ত ও নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে।