আফগানিস্তান থেকে গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে নিজেদের দেড়শ কূটনীতিককে সরিয়ে নিয়েছে ভারত। কাবুলে ভারতীয় দূতাবাস থেকে কাবুল বিমানবন্দর পর্যন্ত ভারতীয় কূটনীতিকদের ভারী অস্ত্রে সজ্জিত তালেবান যোদ্ধারা নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে যায় বলে জানিয়েছে আলজাজিরা।
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগানিস্তানে তালেবানের উত্থান নিয়ে ভারত সরকার এখনো নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করছে। উৎখাত হওয়া আফগান সরকারের প্রতি ভারত সরকারের সমর্থন থাকার কারণে তালেবানদের কাছে ভারত এখন ভালো অবস্থানে নেই। তারপরও ভারতীয় কূটনীতিকদের নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে যাওয়া তালেবান যোদ্ধাদের মধ্যে প্রতিশোধস্পৃশা নয়, নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়টিই অধিক গুরুত্ব পেয়েছে।
গত মঙ্গলবার একটি বিশেষ সামরিক বিমানে করে ওই কূটনীতিকরা আফগানিস্তান ছাড়েন। ওই বিমানটিতে কূটনীতিক, কর্মকর্তা, নিরাপত্তা সদস্য ও আটকা পড়া কিছু বেসামরিকসহ প্রায় দেড়শ লোক ছিলেন। তাদের বহনকারী বিমানটি ওইদিন সন্ধ্যায় ভারতের রাজধানী দিল্লির নিকটবর্তী হিনদোন ঘাঁটিতে অবতরণ করে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর কূটনীতিকদের সরিয়ে আনার এ প্রক্রিয়া ‘কঠিন ও জটিল পরীক্ষা’ ছিল বলে মন্তব্য করেছেন।
আফগানিস্তানে ভারতের রাষ্ট্রদূত রুদেন্দ্র ট্যান্ডন জানিয়েছেন, এখনো আফগানিস্তানে কিছু ভারতীয় আটকা পড়ে রয়েছেন, বাণিজ্যিক ফ্লাইট চলাচল শুরু হলে তাদের ফিরিয়ে আনা হবে। পিটিআইকে তিনি বলেন, ‘এ কারণেই কাবুল বিমানবন্দরের কার্যক্রম যতদিন সচল থাকবে এয়ার ইন্ডিয়া তাদের বাণিজ্যিক পরিষেবা চালিয়ে যাবে।’
আফগানিস্তানে ভারত তাদের অসমাপ্ত প্রকল্পগুলো শেষ করতে পারবে বলে ঘোষণা করেছে তালেবান। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো তারা তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেবে কি দেবে না।