চলতি বছরের জুলাই এবং আগস্ট মাসের ১৮ দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩০ জন। এ বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃতের সংখ্যাও এটি। ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যার তুলনায় এ বছরের মৃতের সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ ও শঙ্কা প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম গত মঙ্গলবারের তথ্য তুলে ধরে বলেন, ‘ডেঙ্গুতে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তাতে রোগীর সংখ্যা খুব বেশি নয়। কিন্তু মৃত্যুর সংখ্যা বেশি। ডেঙ্গুতে মোট ২৬ জনের মৃত্যুর রেকর্ড করা হয়েছে। সবমিলিয়ে ৬ হাজার ৬৫০ জন রোগীর মধ্যে ২৬ জনের মারা যাওয়া অত্যন্ত শঙ্কা জাগায় বলেও আমরা মনে করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সিটি করপোরেশন, স্থানীয় সরকার বিভাগ, সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিভাগ যদি সম্মিলিতভাবে যেভাবে কাজ করছে, সেই কাজের গতি আরও বাড়িয়ে দিলে খুব সহজেই বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব। আমরা এখন পর্যন্ত আগস্ট মাসে ৩ হাজার ৯৯২ জন রোগী শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছি। জুলাই মাসে ২ হাজার ২৮৬ রোগী পেয়েছিলাম। কাজেই জুলাই, আগস্টের মতো সেপ্টেম্বরেও রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক পর্যায়ে যাতে না যায় সে জন্য সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব-কর্তব্য সঠিকভাবে পালন করতে হবে।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩০৬ জন। এদের মধ্যে ২৭৩ জন ঢাকায় এবং ঢাকার বাইরে ভর্তি ৩৩ জন।
বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ১৯৩ জন। এর মধ্যে ঢাকার ৪১টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ১ হাজার ১১০ জন এবং অন্যান্য বিভাগে ভর্তি রয়েছেন ৮৩ জন।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে সর্বমোট ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৯৫৬ জনে। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৫ হাজার ৭৩৩ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের সর্বোচ্চ সংখ্যক ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আগস্ট মাসে। মাসটির ১৮ দিনে ৪ হাজার ২৯৮ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে।