উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও গাইবান্ধা-৫ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়াকে ভারত নেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকা থেকে যশোর বেনাপোল স্থলবন্দরে আনা হয়। এরপর তাকে ভারতে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান।
তিনি বলেন, ‘বেনাপোল আসার পর পেট্রাপোল কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সড়কপথে ডেপুটি স্পিকারকে কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু (দমদম) বিমানবন্দরে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উড়োজাহাজে তার মুম্বাই যাওয়ার কথা রয়েছে। সঙ্গে দুই মেয়ে ও এক জামাতা রয়েছেন।’
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, গত জুনে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়ার পেট থেকে চার কেজি ওজনের টিউমার অপসারণ করা হয়। রাজধানীর ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হাসপাতালে ওই অস্ত্রোপচার করা হয়। তবে দীর্ঘ দুই মাস চিকিৎসাতেও তিনি পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি। বরং নানা জটিলতা নিয়ে অনেকটা ঘরবন্দি জীবনযাপন করছিলেন। বিভিন্ন হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেও ফজলে রাব্বী মিয়ার রোগ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে ল্যাবএইড হাসপাতালের অ্যাডভাইজার অ্যান্ড চিফ কনসালট্যান্ট সার্জন অধ্যাপক ডা. খাদেমুল ইসলামের নেতৃত্বে মেডিকেল বোর্ড ভারতীয় চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ করে। এরপরই তাকে দেশটিতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ডেপুটি স্পিকারের অসুস্থতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর পরামর্শ নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী সিঙ্গাপুরে নেওয়ার পরামর্শ দিলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে দেশটির সঙ্গে ঢাকার বিমান যোগাযোগ বন্ধ থাকায় সেটি সম্ভব হয়নি।
বেনাপোল ইমিগ্রেশনে ডেপুটি স্পিকারকে বিদায় জানান যশোর জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান, শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর আলিফ রেজা, শার্শার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাসনা শারমিন মিথি, নাভারন সার্কেল এএসপি জুয়েল ইমরান প্রমুখ।