মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের দুই সপ্তাহের মধ্যেই আফগানিস্তানের দখল নিয়েছে তালেবান গোষ্ঠী। কীভাবে তালেবানের উত্থান হলো, কাদের নেতৃত্বেই বা এত শক্তিশালী হয়ে উঠল এই গোষ্ঠী? এদের অর্থ ও অস্ত্রের জোগানই বা কীভাবে আসে? লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা
তালেবান কারা
১৯৯৪ সালে আফগান প্রতিরোধ যোদ্ধাদের নিয়ে গঠিত হয়েছিল তালেবান গোষ্ঠী। তারা পরিচিত ছিল মুজাহিদীন নামে। ১৯৮০ এর দশকে সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল তারা। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল ইসলামি আইনে দেশ পরিচালনা এবং যে কোনো ধরনের বিদেশি প্রভাব দূর করা। আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত রাশিয়ার সেনারা ফিরে যাওয়ার পর ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে উত্তর পাকিস্তানে তালেবানরা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।
১৯৯৬ সালে তালেবানরা কাবুল দখলে নেওয়ার পর সুন্নি ইসলামিক আইনের কঠোর প্রয়োগ শুরু করে। নারীদের পা থেকে মাথা পর্যন্ত শরীর ঢেকে চলতে হতো, তাদের লেখাপড়ার সুযোগ ছিল না, এমনকি একা ঘুরতে যাওয়াও তাদের জন্য নিষেধ ছিল। টেলিভিশন দেখা, গান শোনা ও অনৈসলামিক যে কোনো ছুটির দিন কাটানোতেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের পর থেকে তালেবানদের নিয়ে নতুন চিন্তা শুরু হয় বিশ^ব্যাপী। এ দিন ১৯ জন সন্ত্রাসী যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে পরিকল্পিত হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্রে। এ হামলায় ধসে পড়ে নিউ ইয়র্কের টুইন টাওয়ার। অন্যদিকে একই দিনে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনে হামলা চালায় অন্য একটি বিমান। হোয়াইট হাউজের দিকে ধাবমান তৃতীয় বিমানটি বিধ্বস্ত হয় পেনসিলভানিয়ায়। এ সন্ত্রাসী হামলায় ২ হাজার ৯৯৬ জনের প্রাণহানি ঘটে। আহত হয় ছয় হাজারের বেশি মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের ভিূখণ্ডে এর আগে এমন হামলা আর প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
এর জন্য দায়ী করা হয় যুক্তরাষ্ট্র থেকে হাজার মাইল দূরের দেশ আফগানিস্তানকে। সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন ওসামা বিন লাদেন ও তার প্রতিষ্ঠিত সংগঠন আল-কায়েদা। এ হামলার জন্য আল কায়েদাকে দায়ী করে প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ কংগ্রেসের অনুমোদন নিয়ে মাত্র এক মাসের মধ্যে আফগানিস্তানে হামলা চালান। দেশটি থেকে তালেবান সরকারের উচ্ছেদ ঘটে। ওসামা বিন লাদেন ও আল-কায়েদার পিছু তাড়া করতে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। অবশেষে ২০১১ সালের ২ মে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে লুকিয়ে থাকা বিন লাদেনকে হত্যা করতে সক্ষম হয় যুক্তরাষ্ট্র। জঙ্গিবাদের অবসান হবে এমন ভাবা হলেও আদতে তা সত্য হয়নি। আল-কায়েদা নামের জঙ্গি সংগঠন এখনো একই ভাবধারায় ছড়িয়ে পড়েছে পূর্ব-পশ্চিমের নানা দেশে।
প্রথম তালেবান শাসন
পশতু ভাষায় তালেবান অর্থ ‘ছাত্র’। আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত সৈন্যরা পিছু হটলে ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে উত্তর পাকিস্তানে তালেবান আন্দোলনের জন্ম হয়। এই আন্দোলনে মূলত পশতুন অর্থাৎ পশতুভাষীদের প্রাধান্য। ধারণা করা হয়, মাদ্রাসাগুলোতে প্রথম এরা সংগঠিত হয়। এই মাদ্রাসাগুলো পরিচালিত হতো সৌদি অর্থ সাহায্যে এবং সেখানে খুবই কট্টর সুন্নি মতাদর্শের ইসলাম প্রচার করা হতো।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তান এই দুই দেশের সীমান্তের দুই দিকেই আছে বিস্তীর্ণ পশতুন অধ্যুষিত অঞ্চল। তালেবান এসব অঞ্চলে খুব দ্রুত প্রভাবশালী হয়ে ওঠে। তালেবান নেতৃত্ব থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় ক্ষমতায় গেলে তারা শান্তি এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে এবং কঠোর শরিয়া শাসন জারি করবে। দক্ষিণ-পশ্চিম আফগানিস্তান থেকে তালেবান খুব দ্রুত তাদের প্রভাব সম্প্রসারিত করে। ১৯৯৫ সালের সেপ্টেম্বরে তারা ইরান সীমান্তবর্তী আফগান প্রদেশ হেরাত দখল করে নেয়। এর ঠিক এক বছর পর তারা আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল দখল করে। তারা প্রেসিডেন্ট বুরহানউদ্দিন রাব্বানির সরকারকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করে নিজেদের সরকার প্রতিষ্ঠা করে।
বুরহানউদ্দিন রাব্বানি ছিলেন আফগান মুজাহিদীন বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। ১৯৮০’র দশকে আফগানিস্তানে সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে এই আফগান মুজাহিদীনরা প্রতিরোধে সংগঠিত হয়েছিল। ১৯৯৮ সাল নাগাদ তালেবান আফগানিস্তানের প্রায় ৯০ শতাংশ অঞ্চলে তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। সোভিয়েতরা আফগানিস্তান ছেড়ে চলে যাওয়ার পর মুজাহিদীনদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব শুরু হয়। লোকে তাদের বাড়াবাড়িও পছন্দ করছিল না। এ-রকম অবস্থায় তালেবান যখন প্রথম দৃশ্যপটে আসে, তখন আফগানিস্তানের মানুষ সাধারণভাবে তাদের স্বাগত জানিয়েছিল।
তালেবানের প্রথম দিকের জনপ্রিয়তার মূলে ছিল দুর্নীতি দমনে সাফল্য, আইন-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, নিজেদের নিয়ন্ত্রিত রাস্তা ও অঞ্চলে নিরাপদে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ করে দেওয়া। একই সঙ্গে তালেবান তাদের জারি করা কঠোর শরিয়া শাসনের অধীনে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মতো শাস্তি চালু করে। অপরাধী কিংবা ব্যভিচারীদের প্রকাশ্যে হত্যা করা হতো, চুরির দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের হাত কেটে নেওয়া হতো। পুরুষদের দাড়ি রাখা এবং মেয়েদের পুরো শরীর ঢাকা বোরকা পরা বাধ্যতামূলক করা হয়। টেলিভিশন ও সিনেমা দেখা, গান শোনা নিষিদ্ধ ছিল। নিয়ম ছিল, দশ বছরের বেশি বয়সী মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার দরকার নেই।
তালেবানের বিরুদ্ধে বহু ধরনের মানবাধিকার লংঘন এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধ্বংসের অভিযোগ ওঠে। তাদের সবচেয়ে ভয়াবহ কাণ্ড ছিল ২০০১ সালে আফগানিস্তানের মধ্যাঞ্চলে বিখ্যাত বামিয়ান বুদ্ধমূর্তি ধ্বংস করা। এর বিরুদ্ধে তখন আন্তর্জাতিকভাবে নিন্দার ঝড় ওঠে। পাকিস্তান এই অভিযোগ সবসময় অস্বীকার করেছে যে তারাই তালেবানের নেপথ্য কারিগর। অথচ শুরুর দিকে যে আফগানরা তালেবান আন্দোলনে যোগ দিয়েছিল, তারা সবাই পাকিস্তানের বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিল। তালেবান সরকারকে যে তিনটি দেশ স্বীকৃতি দিয়েছিল তাদের মধ্যে পাকিস্তান একটি। আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর তালেবানকে অন্য যে দুটি দেশ স্বীকৃতি দেয় তারা ছিল সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। পাকিস্তান তালেবান সরকারের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদও করেছিল সবার শেষে। তালেবান পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমের অনেক অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করত। এরই পরিপ্রেক্ষিতে একবার তারা পাকিস্তানকে অস্থিতিশীল করার হুমকিও তৈরি করেছিল।
পাকিস্তানি তালেবান যেসব হামলা চালায়, তার মধ্যে সবচেয়ে কুখ্যাত এবং আন্তর্জাতিকভাবে নিন্দিত ঘটনাটি ঘটে ২০১২ সালের অক্টোবরে। সেদিন পাকিস্তানের মিনগোরা শহরে স্কুলছাত্রী মালালা ইউসুফজাই যখন বাড়ি ফিরছিলেন, তখন তাকে গুলি করে তালেবান জঙ্গিরা। এরপর পেশাওয়ারে এক স্কুলে হামলা চালিয়ে বহু ছাত্রকে হত্যা করে। এ ঘটনার পর পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী তালেবানের বিরুদ্ধে এক বিরাট সামরিক অভিযান শুরু করে। এই অভিযানের পর পাকিস্তানি তালেবানের ক্ষমতা এবং প্রভাব ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়। এরপর ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় অন্তত তিনজন গুরুত্বপূর্ণ তালেবান নেতা নিহত হন। এদের মধ্যে একজন ছিলেন তালেবানের নেতা হাকিমউল্লাহ মেহসুদ।
আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আল-কায়েদার হামলার পর সারা বিশ্বের মনোযোগের কেন্দ্রে চলে আসে আফগানিস্তানের তালেবান। এই সন্ত্রাসী হামলার প্রধান সন্দেহভাজন ওসামা বিন লাদেন এবং তার আল-কায়েদা আন্দোলনকে তালেবান আশ্রয় দিচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট আফগানিস্তান আক্রমণ করে ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই তালেবানের পতন ঘটে। তালেবানের তৎকালীন নেতা মোল্লাহ মোহাম্মদ ওমর, অন্যান্য সিনিয়র নেতা এবং ওসামা বিন লাদেন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। তবে তাদের আটকের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে বিশ্ব।
অনেক সিনিয়র তালেবান নেতা পাকিস্তানের কোয়েটা শহরে আশ্রয় নিয়ে সেখান থেকেই তালেবানকে পরিচালিত করতেন। তবে কোয়েটাভিত্তিক এরকম একটি তালেবান নেতৃত্ব বা ‘কোয়েটা শুরার’ কথা ইসলামাবাদ অস্বীকার করত। আফগানিস্তানে বিপুল পরিমাণ বিদেশি সৈন্যের উপস্থিতি সত্ত্বেও তালেবান আবারও সংগঠিত হয়ে ক্রমাগত তাদের শক্তি বাড়িয়েছে, আফগানিস্তানের নানা অঞ্চলে আবার তাদের প্রভাব বিস্তার করেছে। আফগানিস্তানের বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে তারা বিপজ্জনক করে তোলে এবং সহিংসতার মাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছায়, যা ২০০১ সালের পর আর দেখা যায়নি।
কাবুলে তারা বহু হামলা চালিয়েছে এবং ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে তালেবান এমনকি ন্যাটো জোটের ক্যাম্প বাস্টিয়ন ঘাঁটিতেও এক বিরাট দুঃসাহসিক অভিযান চালায়।
২০১৩ সালে আফগানিস্তানে আলোচনার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার আশা তৈরি হয়, যখন তালেবান কাতারে একটি অফিস খোলার ঘোষণা দেয়। কিন্তু তারপরও উভয়পক্ষের মধ্যে অবিশ্বাস রয়েই যায় এবং সহিংসতা অব্যাহত থাকে। দুই বছর পরে, ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে তালেবান স্বীকার করে যে তাদের নেতা মোল্লাহ ওমরের মৃত্যুর দু’বছর পর পর্যন্ত এ খবর তারা গোপন রেখেছিল। শারীরিক অসুস্থতার কারণে মোল্লাহ ওমর পাকিস্তানের এক হাসপাতালে মারা গিয়েছিলেন। এরপর তালেবানের নেতৃত্ব নিয়ে অন্তর্কোন্দল শুরু হয়।
২০১৫ সালের আগস্টে তালেবান জানায়, তারা মোল্লা মনসুর নামে এক নতুন নেতার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। তিনি ছিলেন মোল্লাহ ওমরের ডেপুটি। ঠিক ওই সময়েই ২০০১ সালের পরাজয়ের পর তালেবান প্রথমবারের মতো আফগানিস্তানের এক প্রাদেশিক রাজধানী দখল করে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কুন্দুজ শহরের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে চলে যায়। ২০১৬ সালের মে মাসে মোল্লা মনসুর মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন। তার জায়গায় তালেবানের নতুন নেতা হন মৌলভী হিবাতুল্লাহ আখুন্দযাদা। এখন পর্যন্ত তিনিই তালেবানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নেতা।
অস্ত্র ও অর্থের জোগান
সময়টা খুব কমও নয়। টানা ২০ বছর আমেরিকান ও ন্যাটো বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকার মতো টাকা-পয়সা, অস্ত্র, প্রশিক্ষণ, বুদ্ধি কীভাবে তালেবানদের কাছে এলো সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আফগান সরকার এ নিয়ে সরাসরি দায়ী করে পাকিস্তানকে, যদিও পাকিস্তান কখনোই তা স্বীকার করেনি।
ইসলামাবাদে সাংবাদিক জাহিদ হোসেন বলেন, ‘পাকিস্তানে পশতুনদের মধ্যে তালেবানের বেশ সমর্থন রয়েছে, ধর্মীয় অনেক গোষ্ঠী তাদের সমর্থক। টাকা-পয়সাও হয়তো তারা দেয়। পাকিস্তানের ভেতর আফগান শরণার্থী শিবির এবং পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে অনেক মাদ্রাসা থেকে তালেবান যোদ্ধা নিয়োগ করে। কিন্তু পাকিস্তানের ভেতর তালেবানকে নিয়ে এখন দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে। সরকারের একাংশ মনে করে তালেবান এককভাবে কাবুলের ক্ষমতায় বসলে পাকিস্তানে তৎপর উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো উজ্জীবিত হতে পারে।’ যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের শিক্ষক এবং আফগান রাজনীতি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক ড. আসিম ইউসুফজাই বলেন, ‘কাবুলে পাকিস্তান-বান্ধব একটি সরকার প্রতিষ্ঠা এবং আফগানিস্তানে ভারতের প্রভাব খর্ব করা পাকিস্তানের বহুদিনের কৌশলগত একটি নীতি, যা থেকে পাকিস্তান কখনোই সরেনি। পাকিস্তান মনে করে তালেবান তাদের সেই উদ্দেশ্য সাধনে প্রধান সহযোগী। আমার মনে হয়, তালেবান আবার ক্ষমতায় গেলে প্রথম যে দেশটি তাদের স্বীকৃতি দেবে সেটি পাকিস্তান। কারণ পাকিস্তানের সাবেক সেনা গোয়েন্দাদের কয়েকজনের লেখা বই এবং সাক্ষাৎকারে তালেবানের সঙ্গে পাকিস্তান সেনা গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর সম্পর্ক নিয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে। টাকা-পয়সা বা অস্ত্রের জন্য তালেবানের অন্যের মুখোমুখি হওয়ার প্রয়োজন নেই, কারণ মাদকের ব্যবসা থেকে তালেবান প্রচুর পয়সা পায়। আমেরিকা ও ইউরোপে হেরোইনের যে বাজার, তার ৯০ শতাংশ আসে আফগানিস্তান থেকে। দেশের দক্ষিণে আফিমের চাষ থেকে শুরু করে হেরোইন তৈরি এবং এর চোরাচালানের ওপর কর্র্তৃত্ব ধরে রেখেছে তালেবান।’
জাতিসংঘের যে কমিটি তালেবানের ওপর নিয়মিত নজরদারি করে, তাদের দেওয়া এক হিসাব অনুযায়ী, আফিম চাষ, চাঁদা এবং তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় কর বসিয়ে তালেবান বছরে ৩০ থেকে ১৬০ কোটি ডলার পর্যন্ত আয় করে। এক হিসাবে, ২০২০ সালে শুধু আফিম চাষ থেকেই তালেবানের আয় ছিল ৪৬ কোটি ডলার। তবে এই আয়ের সুনির্দিষ্ট হিসাব পাওয়া সম্ভব নয়। আর তালেবান যে অস্ত্র দিয়ে এখন লড়াই করছে, তার একটি বড় অংশ আফগান সেনাবাহিনীর কাছ থেকে নেওয়া অথবা পালানোর সময় তাদের ফেলে যাওয়া অস্ত্র-সরঞ্জাম। বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে আফগান সেনাবাহিনীকে দেওয়া আমেরিকান হামভি সাঁজোয়া যান এবং ভারী মেশিনগান নিয়ে তালেবানকে লড়াই করতে দেখা গেছে। অস্ত্র বিষয়ে ড. ইউসুফজাই বলেন, ‘একই ধরনের অস্ত্র দিয়ে তালেবান এবং আফগান সেনারা লড়াই করছে। এগুলো আমেরিকান এবং ব্রিটিশদের রেখে যাওয়া অস্ত্র।’