গত জুন ত্রৈমাসিকে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের অঙ্কে নতুন করে প্রায় ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা যোগ হয়েছে। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঋণের ২০ শতাংশ না দিতে পেরে অনেক গ্রাহক খেলাপি হয়েছেন। এ কারণে খেলাপি ঋণ বেড়েছে জুন মাসে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন শেষে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৯৮ হাজার ১৬৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। মার্চ শেষে যা ছিল ৯৪ হাজার ২৬৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা। সেই হিসাবে তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩ হাজার ৮৯৯ কোটি ১২ লাখ টাকা। এ কারণে বিতরণ করা ঋণের তুলনায় খেলাপি ঋণের হার কিছুটা বেড়েছে।
গত জুন শেষে বিতরণ করা ঋণের তুলনায় খেলাপি ঋণের হার ছিল ৮.৬১ শতাংশ। গত মার্চে এই হার ছিল ৮.৪৮ শতাংশ। খেলাপি ঋণের হার বেড়েছে শূন্য দশমিক ১৩ শতাংশ।
প্রাপ্ত তথ্যে আরও দেখা যায়, জুন শেষে ব্যাংক খাতে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল ১১ লাখ ৩৯ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা। তবে ২০২০ সালের জুনে খেলাপি ঋণের হার ছিল ৯.১৬ শতাংশ। করোনা মহামারীর প্রকোপ শুরুর পরপরই অর্থনীতির স্বার্থের ব্যাংক ঋণ পরিশোধে ছাড় দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত বছরের পুরো সময় জুড়েই এ ছাড় বহাল ছিল। ওই সুবিধার কারণে ওই সময়ে ঋণের টাকা পরিশোধ না করলেও কোনো ঋণগ্রহীতা খেলাপি হননি। এর ফলে খেলাপি ঋণ কিছুটা কমে আসতে শুরু করে। তবে চলতি বছরে ওই বিশেষ ছাড় বহাল না থাকায় বছরের প্রথম তিন মাসেই ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বাড়ে।
তবে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে করোনা মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রভাব মোকাবিলায় ব্যবসায়ীদের সহায়তার জন্য দেরিতে ঋণ পরিশোধের নতুন কিছু সুবিধা দেয়। তবে এই সুবিধায় তেমন কোনো ফল বয়ে না আনায় ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইসহ অন্য ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো খেলাপি করার বিষয়ে আবারও ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়ে চিঠি দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে খেলাপি ঋণে আবারও ছাড় দেওয়া হয়। তবে ডিসেম্বর পর্যন্ত নয়, চলতি আগস্ট মাস পর্যন্ত। চলতি জুন পর্যন্ত যেসব ঋণের কিস্তি বকেয়া থাকবে সেগুলোর কমপক্ষে ২০ শতাংশ আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে পরিশোধ করলে ঋণগুলো খেলাপি হবে না।
তবে এই সুবিধা আরও বাড়াতে হবে বলে মনে করেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই নির্দেশনা অনুযায়ী ২০ শতাংশ ঋণ পরিশোধ করার মতো সামর্থ্য অনেক ব্যবসায়ীর নেই। এই সীমাও কমিয়ে আনতে হবে।