পালিয়ে বেঁচেছি : ঘানি

তালেবান কাবুল দখল করার পর আফগানিস্তান ছাড়েন প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি। গত বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাত জানায়, মানবতার খাতিরে তারা ঘানিকে আশ্রয় দিয়েছে। এরপর নিজের ফেইসবুকে এক ভিডিও বার্তায় আশরাফ ঘানি বলেছেন, ‘আমি দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছি। ওখানে থাকলে তালেবান আমাকে পিটিয়ে মেরে ফেলত। আরও একজন প্রেসিডেন্টকে ল্যাম্পপোস্টে ঝুলতে দেখত আফগান জনতা।’

আত্মপক্ষ সমর্থন করে তিনি জানান, সেদিন প্রেসিডেন্ট প্যালেসে ঢুকে রুমে রুমে তাকে খুঁজেছে তালেবান সদস্যরা। এমন পরিস্থিতিতে জীবন বাঁচাতে প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা টিমের সদস্যরা তাকে দেশ ছাড়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। ফলে নিরাপত্তাজনিত কারণে সম্পদ এবং গোপন নথিপত্র ফেলে রেখেই কাবুল ছাড়তে বাধ্য হন ক্ষমতাচ্যুত এই প্রেসিডেন্ট।

১৯৯৬ সালের সেপ্টেম্বরে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাজিবুল্লাহ আহমাদজিকে (ডক্টর নাজিব নামে পরিচিত) পিটিয়ে হত্যার পর ল্যাম্পপোস্টে ঝুলিয়ে রেখেছিল তালেবান।

সরকার গঠনে চলমান উদ্যোগে সমর্থন জানিয়ে আশরাফ ঘানি বলেন, ‘আমি কাবুলে ফিরে আসা নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছি। আমি চাই আফগানবাসী ন্যায় পাক এবং প্রকৃত ইসলামিক শাসন প্রতিষ্ঠিত হোক।’

তিনি দাবি করেন, ‘তালেবানরা কাবুলে ঢুকবে না এমন চুক্তি ছিল। কিন্তু রবিবার বিকেলে খবর পান যোদ্ধারা একেবারে প্রেসিডেন্টের বাসভবনের প্রবেশদ্বার পর্যন্ত চলে এসেছে। এটা কোনোভাবেই আফগান সেনার জন্য হয়নি। এর জন্য দায়ী প্রভাবশালী রাজনীতিক ও কর্মকর্তারা। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী দেশগুলোর ব্যর্থতাও এর অন্যতম কারণ।’

পালানোর সময় বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়ার বিষয়ে ঘানি বলেন, ‘এটি একেবারে বাজে কথা। তিনি কিছু জামাকাপড় ছাড়া আর কিছুই নিতে পারেননি। একটা বইও নয়। অর্থ আনলে আমিরাতে চেকিংয়ে তা ধরা পড়ত।’

ভিডিও বার্তায় আশরাফ ঘানি বলেন, ‘ক্ষমতার লোভে কাবুলকে সিরিয়া বা ইয়েমেন হতে দেওয়া যাবে না। এখন আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের মধ্যস্থতায় সরকার গঠনের প্রয়াসে আমার সমর্থন রয়েছে। আমি চাই এই প্রয়াস সফল হোক।’