মেয়রের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার, ইউএনওর অপসারণ দাবি পৌর মেয়র-চেয়ারম্যানদের

বরিশাল সিটি কপোরেশনের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর ওপর গুলি বর্ষণের অভিযোগ এনে ও তার বিরুদ্ধে মামলা করায় প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে বরিশাল বিভাগের পৌর মেয়ররা।

শনিবার দুপুর ৩টায় বরিশাল ক্লাব মিলনায়তনে তারা এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গৌরনদী পৌর সভার মেয়র মো. হারিচুর রহমান।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত বুধবার বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাজে বাধা ও গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটলে একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিসিসির মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ ঘটনাস্থলে গেলে তাকেও গুলি করা হয়। মেয়রের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা শুনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সেখানে যায়। কিন্তু সেই উপস্থিত নেতাকর্মীদের ওপরও গুলিবর্ষণ করা হয়। পরে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের লাঠিচার্জ করে।

তিনি বলেন, বরিশালের পুলিশ ও স্বোচ্ছাচারী উপজেলা কর্মকর্তারা পরদিন বৃহস্পতিবার কোতয়ালী থানায় মেয়রকে দুটি মাসমলায় আসামি করেন। আমরা শোকাবহ আগস্টের ভাবগাম্ভির্য্য ও মর্যাদা রক্ষায় এ ঘটনার কোনো প্রতিবাদ, বিক্ষোভ করতে পারছি না। ওই মামলা প্রত্যাহার না হলে আগস্ট মাসের শেষে কঠোর আন্দোলন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মেয়রের বিরুদ্ধে দায়ের মামলা প্রত্যাহার ছাড়াও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনিবুর রহমানের অপসরণ দাবি করা হয়। পাশাপাশি ওইদিনের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া পৌর মেয়র এ এস এম রাকিবুল আহসান, উজিরপুর পৌর মেয়র গিয়াস উদ্দিন বেপারী, মুলাদী পৌর মেয়র মো. শফিকুজ্জামান রুবেলসহ অনেকে।

এদিকে, বিকেল ৪টায় একই স্থানে ও একই দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের সংগঠন বাংলাদেশ উপজেলা পরিষদ অ্যাসোসিয়েশন বরিশাল বিভাগ। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, গৌরনদী উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুন নাহার মেরী।

তিনি বুধবার ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ইউএনও মুনিবুর রহমান অত্যন্ত বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে আমরা মনে করি। গত ১৮ আগস্ট বরিশাল সিটি কপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর ওপর ইউএনও মুনিবুর রহমানের গুলিবর্ষণের ধৃষ্টতা তা-ই প্রমাণ করে।

তিনি বলেন, ইউএনও মুনিবুর রহমান কলাপাড়া উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসাধু আচরণ ও তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ আছে। জনগণের তোপের মুখে ইউএনও কলাপাড়া ছাড়তে বাধ্য হন।

তিনি বলেন, বুধবার রাতে ঘটে যাওয়া ঘটনায় নিয়ে বিসিএস ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশন যে বিবৃতি দিয়েছে তা জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বিদ্যমান সুসম্পর্কের অবনতি ঘটাতে পারে। এ বিবৃতি প্রত্যাহারের দাবি জানাই।

সংবাদ সম্মেলনে বরিশাল সিটি কপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে দায়ের মামলা প্রত্যাহার, অবিলম্বে ইউএনও মুনিবুর রহমানের অপসারণ এবং ঘটনার বিচারবি ভাগীয় তদন্ত দাবি করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সদর উপজেলা চেয়ারম্য্যান সাইদুর রহমান রিন্টু, বাবুগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী ইমদাদুল হক, আগৈলঝাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাত, উজিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান আ. মজিদ সিকদার বাচ্চু, মীর্জাগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান খান আবুবক্কর সিদ্দিকী, মুলাদী উপজেলা চেয়ারম্যান মো. তারিকুল হাসান খান মিঠু প্রমুখ।