হেপাটাইটিস একটি নীরব ঘাতক। এই রোগে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যকৃতের কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে গিয়ে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। যকৃৎ শরীরে এলবুমিন, প্রথ্রম্বিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান তৈরি করে, সেই সঙ্গে বিলোরুবিনের মতো ক্ষতিকর পদার্থ শরীর থেকে বের করে দিতে সাহায্য করে। বড়দের মতো শিশুদের মধ্যেও হেপাটাইটিস রোগে আক্রান্ত হওয়ার মাত্রা অনেক বেশি।
হেপাটাইটিস কী
যকৃতের প্রদাহকে বলে হেপাটাইটিস। এটি সাধারণত ভাইরাস দিয়ে হয়। বড়দের যেমন হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস দিয়ে সংক্রমণ বেশি হয়, বাচ্চাদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে হেপাটাইটিস-এ ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। এ ছাড়া কিছু নন-হেপাটট্রপিক ভাইরাস যেমন মিসেলস, চিকেন পক্স, ডেঙ্গু ও করোনা এসব ভাইরাস দিয়েও শিশুদের হেপাটাইটিস হয়। পাশাপাশি টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হলেও অনেক সময় বাচ্চার হেপাটাইটিস হতে পারে। কিছু জেনেটিক ডিসিস যেমন উইলসন্স ডিসিস, অটোইমিউন হেপাটাইটিস ও বাচ্চাদের মধ্যে প্রায়ই দেখা যায়।
লক্ষণ
জন্ডিস, ঘন ঘন বমি, খাবারে অরুচি, জ্বর, শরীরে চুলকানির রেশ, শরীরের বিভিন্ন জায়গা থেকে রক্তপাত, খিঁচুনি, ক্রনিক হেপাটাইটিস হলে বাচ্চার রক্তশূন্যতা, ওজন কমে যাওয়া, পেট ফুলে যাওয়া, শরীরে পানি আসা, রক্তবমি হওয়া। এই সমস্যাগুলো দেখা যায়।
করণীয়
একিউট হেপাটাইটিস হলে বাচ্চাকে সিম্পটমেটিক চিকিৎসা দিতে হবে।
বাচ্চাকে কম মসলাজাতীয় খাবার খাওয়াতে হবে।
বমি হলে এন্টিইমেটিক, এন্টি-আলসারেন্ট ওষুধ খাওয়াতে হবে।
জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল ওষুধ খাওয়ানো যেতে পারে।
বাচ্চাকে প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার খাওয়াতে হবে।
এই সময়টিতে দিনে কমপক্ষে তিন-চারবার পায়খানা করা প্রয়োজন। সেজন্য বাচ্চাকে ল্যাকটুলোজ-জাতীয় সিরাপ দেওয়া যেতে পারে।
চুলকানি বেশি হলে এন্টিহিসটামিন ওষুধ দিতে হবে।
বাচ্চার জন্ডিস অতিরিক্ত বেড়ে গেলে, খিঁচুনি হলে, রক্তবমি করলে, পেট ফুলে গেলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করাতে হবে।
প্রতিরোধ
হেপাটাইটিস-এ ভাইরাস দূষিত পানি, খাবার-দাবারের মাধ্যমে ছড়ায়। সেজন্য শিশুকে ভালো করে পানি ফুটিয়ে খাওয়াতে হবে।
হেপাটাইটিস-বি-এর সংক্রমণ রোধের জন্য শিশুকে রক্ত দেওয়ার আগে রক্তের স্ক্রিনিং টেস্ট করিয়ে নিতে হবে। এ ছাড়া দাঁত ফেলানো, খতনা এবং অন্যান্য অপারেশনের সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
শিশুকে ইপিআই শিডিউল অনুযায়ী সময়মতো টিকা দিতে হবে।