বগুড়ায় আট বছর বয়সী ছোট ভাইকে হত্যা মামলায় ১২ বছর বয়সী শিশুর স্বীকারোক্তি আদায়ের ঘটনায় হাইকোর্টে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন সারিয়াকান্দি থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা নয়ন কুমার। তবে হাইকোর্ট তার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে শিশুর স্বীকারোক্তি আদায়ের ঘটনাকে মারাত্মক অপরাধ বলে মন্তব্য করেছে। হাইকোর্টের তলবের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল রবিবার বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আতোয়ার রহমানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চে হাজির হয়ে এ সংক্রান্ত ব্যাখ্যা দিয়ে ক্ষমা চান নয়ন কুমার। ওই মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা বগুড়া পিবিআইয়ের (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) এসআই মো. মনসুর আলী মামলার নথিপত্রসহ হাজির হন। নয়ন কুমার বর্তমানে নাটোরে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত। গত ২৯ জুন এক আদেশে দুজনকে তলব করেছিল হাইকোর্ট।
ভার্চুয়ালি রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পি। এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
ডিএজি সারওয়ার হোসেন বাপ্পি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘১২ বছরের শিশুর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা ও তার স্বীকারোক্তি আদায়ের ঘটনায় নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা নয়ন কুমার। তবে হাইকোর্ট ওই পুলিশ কর্মকর্তার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আদালত প্রশ্ন তুলে বলেছেন কীভাবে তিনি এটি করলেন। এভাবে শিশুর স্বীকারোক্তি আদায় একটি অপরাধ বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য ধার্য রেখেছেন হাইকোর্ট। ওই দিন নয়ন কুমারকে হাজির থাকতে হবে।’
গত ১১ জুন একটি ইংরেজি দৈনিকে ছোট ভাই হত্যা মামলায় জোর করে শিশুর স্বীকারোক্তি আদায় নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর এ নিয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের পাঁচজন আইনজীবী। প্রকাশিত প্রতিবেদন ও আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২৫ আগস্ট আট বছরের শিশুর মরদেহ উদ্ধারের পর সারিয়াকান্দি থানায় মামলা করেন তার বাবা মহিদুল। পরে ওই বছরের ২৯ নভেম্বর স্থানীয় থানার কিছু পুলিশ কাটাখালিতে মহিদুলের বাড়িতে গিয়ে নিহত শিশুর বড় ভাইকে (১২ বছর) থানায় নিয়ে যায়। পরে ৩০ নভেম্বর শিশুকে বগুড়ার সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করলে ভাইকে হত্যায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সে। পরে পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে আসে ঘটনার সঙ্গে ওই শিশুর সম্পৃক্ততা ছিল না।