দুই ডোজের ব্যবধান কমানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

গণটিকায় বিশৃঙ্খলার কারণে এখন শুধু আগে থেকে নিবন্ধনের মাধ্যমেই ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। এছাড়া করোনার টিকার দুই ডোজের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং সচিবালয় থেকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা বৈঠকে যুক্ত ছিলেন।

মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ও  মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

মন্ত্রিসভা বৈঠকে ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারক (বেতন ও সুবিধাদি) আইন, ২০২১’ এবং ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারক (ভ্রমণ ও ভাতা) আইন, ২০২১’ এবং ‘বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল (সংশোধন) আইন, ২০২১’ এর খসড়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কারিগরি দিক বিবেচনা করে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। শ্রমিকদের আলাদা পরিকল্পনার মাধ্যমে কীভাবে দ্রুত টিকা দিয়ে দেওয়া যায় সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। অনেক দেশেই করোনার দ্বিতীয় ডোজ অনেক কম সময়ের মধ্যেই দেওয়া হচ্ছে।

দ্রুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে কর্মসূচি ঠিক করছে মন্ত্রণালয়

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দ্রুত খুলে দিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্মসূচি ঠিক করছে। এর আগে সচিব সভায় নির্দেশনা দিয়ে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আজও (সোমবার) কথা হয়েছে। তারা প্রোগ্রাম ঠিক করছেন কীভাবে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, তারা আপনাদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে বসবেন। পাবলিকলি বলে দেবেন (কবে থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে)।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। সরকারের সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী এ ছুটি আছে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে দেশের প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থীর পড়াশোনা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। পরীক্ষাগুলো বাতিল বা পিছিয়ে যাচ্ছে। করোনার এমন বাস্তবতায় বিকল্প উপায়ে টিভি, অনলাইন, অ্যাসাইনমেন্টসহ বিভিন্নভাবে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিচারপতিদের বর্ধিত ভ্রমণভাতা অন্তর্ভুক্ত করে আইন সংশোধন

বিচারপতিদের বর্ধিত ভ্রমণভাতা অন্তর্ভুক্ত করে ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারক (ভ্রমণভাতা) আইন, ২০২১’ এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম প্রেস ব্রিফিংয়ে এ অনুমোদনের কথা জানান।

বিচারকদের ভ্রমণভাতা ১৯৭৬ সালের অধ্যাদেশের মধ্যে ছিল। সংশোধনীতে নতুন কোনো বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ভ্রমণভাতার পরিমাণসহ ছোটখাটো কিছু বিষয় সংশোধন করা হয়েছে। আগে দৈনিক ভাতা সাড়ে ৫০০ টাকা ছিল, সেটা বাড়িয়ে ১ হাজার ৪০০ টাকা করা হয়েছে। গাড়ি ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে এক টাকার কিছু বেশি ছিলÑ সেটাকে ৩ টাকা করা হয়েছে।

একই দিনে মন্ত্রিসভা ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারক (বেতন এবং সুবিধাদি) আইন, ২০২১’ এর খসড়াও নীতিগত এবং চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। আইন মন্ত্রণালয়ের সার্কুলারে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের কুক ও সিকিউরিটি ভাতা হিসেবে মাসে ১৬ হাজার টাকা করে দেওয়া হতো। এটিকে প্রস্তাবিত আইনে যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া আইন মন্ত্রণালয়ের আরেকটি সার্কুলারে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের নিয়ামক ভাতা এখন প্রস্তাবিত আইনে যুক্ত করে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের জন্য ৫ হাজার টাকা, আপিল বিভাগের বিচারপতিদের জন্য ৮ হাজার এবং প্রধান বিচারপতির জন্য ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া বার কাউন্সিল অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তর করতে একটি আইনের খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গত মাসে বার কাউন্সিলের অধ্যাদেশ করা হয়েছিল। এখন অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করা হচ্ছে।

১৮ অক্টোবর ‘শেখ রাসেল দিবস’ : জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট ছেলের জন্মদিন ১৮ অক্টোবর প্রতি বছর ‘শেখ রাসেল দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে। গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বৈঠকে ১৮ অক্টোবর দিনটি জাতীয়ভাবে পালন করার জন্য ‘ক ক্রমিক’ (এ গ্রেড)-এ তালিকাভুক্ত করার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। আইসিটি বিভাগ ‘শেখ রাসেল দিবস’ পালনের প্রস্তাবটি উত্থাপন করে বলেও জানান তিনি।

বৈঠকে নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা গত ১০-১২ বছর ধরে ১৮ অক্টোবর ‘শেখ রাসেল দিবস’ পালন করে আসছে।