পরীমণির পক্ষে জেড আই খানের নেতৃত্বে আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা

মাদকের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা আলোচিত চলচ্চিত্র নায়িকা পরীমণির পক্ষে আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন উচ্চ আদালতের বেশ কয়েকজন আইনজীবী। তাদের নেতৃত্বে রয়েছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও মানবাধিকার সংগঠক অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না। তিনি নিজেই গতকাল সোমবার দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে আছেন পরীমণি। সেখানে তিনি সাধারণ বন্দিদের মতোই কারাবিধি অনুযায়ী খাবারসহ সব সুবিধা পাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

জেড আই খান পান্না জানান, পরীমণির পক্ষে উচ্চ ও অধস্তন আদালতে আইনি লড়াইয়ের জন্য শতাধিক আইনজীবী তার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। তারা বিনা ফিতে পরীমণির পক্ষে আইনি লড়াই করবেন। আইনজীবীদের এই দলে রয়েছেন মাক্কিয়া ফাতেমা ইসলাম, এ এম জামিউল হক ফয়সাল, আয়েশা আক্তার, রোহানী সিদ্দিকা, নাজমুস সাকিব, ইয়াসমিন ইতি প্রমুখ।

গত ৪ আগস্ট বিকেলে পরীমণির বনানীর ১২ নম্বর সড়কের বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। ওই বাসা থেকে বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ, মদের বোতলসহ অন্যান্য মাদক জব্দ করার কথা জানানো হয় সেদিন। পরদিন ৫ আগস্ট আদালতের মাধ্যমে পরীমণিকে প্রথমে চার দিন এবং ১০ আগস্ট আবারও দুই দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ড শেষে ১৩ আগস্ট তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। বনানী থানায় হওয়া মামলায় গত ১৯ আগস্ট পরীমণিকে হাজির করা হলে তাকে ফের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে ঢাকার একটি আদালত। মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে পরীমণির জামিনের আবেদন নাকচ হওয়ার পর গত রবিবার জামিনের জন্য ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। আদালত শুনানির জন্য আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করে।

পরীমণিকে বারবার রিমান্ডে নেওয়ার এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলে অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না বলেন, ‘তাকে তিনবার রিমান্ডে নেবে কোন আইনে? ১০টা মামলা থাকলেও ১০ বার রিমান্ডে নিতে পারে না। রিমান্ডের ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা আছে কীভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। এটি নিম্ন আদালত যেমন মানে না, তেমনি পুলিশও মানে না। সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ কেন মানবে না। শুধু পরীমণি নয়, অন্য কারও বেলায় যাতে এটি না হয়, সে জন্য এটিকে আমরা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে যাব।’

জামিন আবেদনের শুনানির সময় নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি যেকোনো সময় আদালতে একটি আবেদন দিলে সেটি নথিভুক্ত করবে। সেটি গ্রহণ করা না করা, জামিন দেওয়া কিংবা না দেওয়ার এখতিয়ার আদালতের রয়েছে। আমাদের কথা হলো বিলম্ব হবে কেন? একটা আবেদন দাখিল করব। সেটা এক মাস পরে শুনবে, ২০ দিন পরে শুনবে। এটা কোন আইনে আছে?’

ঢাকা মহানগর দায়রা আদালতে পরীমণির জামিন না হলে হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করা হবে বলেও জানান জেড আই খান পান্না।

কারাগারে সাধারণ বন্দিদের মতোই দিন কাটছে পরীমণির : পরীমণি কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে আছেন। কোয়ারেন্টাইন শেষে সাধারণ সেলে অন্য নারী বন্দিদের সঙ্গেই থাকবেন পরীমণি। কারাগারে তিনি সাধারণ বন্দিদের মতোই কারাবিধি অনুযায়ী খাবারসহ সব সুবিধা পাবেন বলে দেশ রূপান্তরকে এক কারা কর্মকর্কতা জানিয়েছেন।

মাদক আইনের মামলায় তৃতীয় দফায় এক দিনের রিমান্ড শেষে ২১ আগস্ট ফের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে পাঠানো হয় পারীমণিকে। ওই দিন আদালত থেকে সন্ধ্যায় তাকে কারাগারে আনা হয়। কারাগারে কোয়ারেন্টাইনে রাখা পরীমণির পাশের কক্ষেই আছেন আলোচিত আওয়ামী লীগ নেত্রী (বহিষ্কৃত) হেলেনা জাহাঙ্গীর। এর আগে দ্বিতীয় দফা রিমান্ড শেষে আদালতের নির্দেশে ১৩ আগস্ট পরীমণিকে একই কারাগারে পাঠানো হলে তাকে ওই কারাগারের রজনীগন্ধা ভবনে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। এবারও তাকে আগের ভবনে ফের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে বলে কারা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

তারা আরও জানান, বিলাসী জীবনযাপন করা পরীমণি সহসা জামিন পাচ্ছেন নাÑ এটি তিনি ধরেই নিয়েছেন। কারণ আদালতে তার জামিন শুনানি হবে আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর। এ সময় পর্যন্ত তাকে হয়তো কারাগারেই থাকতে হতে পারে। এটা ধরে নিয়েই তিনি কারাগারে সাধারণ বন্দিদের মতোই আছেন। পরীমণি কারা পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি স্বাভাবিক আচরণ করছেন এবং কারাগারের দেওয়া খাবারই খাচ্ছেন। তবে বন্দির চাহিদা অনুযায়ী কারাবিধি মেনে খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। গতকাল বিকেল পর্যন্ত তার সঙ্গে পরিবারের কেউ সাক্ষাৎ করতে আসেননি। অবশ্য করোনা পরিস্থিতিতে কারাগারে বন্দিদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ বন্ধ রয়েছে।