বিএনপির সব কমিটিতে ১৫ শতাংশ নারী অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে

প্রাথমিক পর্যায়ে দলে ১৫ শতাংশ নারী নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। পরে ধাপে ধাপে এ সংখ্যা বাড়ানো হবে। গতকাল মঙ্গলবার দেশ রূপান্তরকে এ কথা জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘বিএনপি নারীদের স্বাবলম্বী করতে সব সময় তৎপর। নারীদের পক্ষে সব সময় কাজ করে। এখন রাজনৈতিক দলে নারী নেতৃত্বের সংখ্যা বাড়ানোর যে উদ্যোগ চলছে সে দিকে খেয়াল রেখে আপাতত দলের সব পর্যায়ের কমিটিতে ১৫ শতাংশ নারী নেত্রীদের আনা হবে। পরে ধাপে ধাপে এ সংখ্যা বাড়ানো হবে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন এর বাস্তবায়ন করা হবে।’

সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন ইসি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন করে দলের সব পর্যায়ের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী পদ পূরণের বিধানটি এনেছিল। তাতে দলের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ২০২০ সালের মধ্যে এই কোটা পূরণ করার শর্ত ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো দলই এই শর্ত পূরণ করতে পারেনি। এই অবস্থায় ইসি এই শর্ত পূরণে নির্দিষ্ট সময় সীমা তুলে দিতে চাইছে। রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আইন-২০২০ নামে আলাদা একটি আইন করতে চাইছে সংস্থাটি। এর খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে। খসড়ার ওপর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষ খসড়ার ওপর মতামত দিতে পারবেন।

বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের জেলা নেতৃবৃন্দ ও বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা কমিটিসহ সকল পর্যায়ের কমিটিতে ১৫ শতাংশ নারী কোটা নিশ্চিত করতে। এ বিষয়ে তাদের দপ্তর থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। নারী কোটা পূরণে যে ক্রাইটেরিয়া দেওয়া হয়েছে তাতে বলা হয়েছে, দলে অবদান, দল ও সমাজে অবস্থান এবং গ্রহণযোগ্যতাসহ বিভিন্ন বিষয় মাথায় রাখতে হবে কমিটিতে নারীদের আনতে।’

তিনি বলেন, ‘দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা শেষে আপাতত ১৫ শতাংশ নারী কোটা নিশ্চিত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন তা বাস্তবায়ন করা হবে। তারই আলোকে চিঠি দেওয়া হচ্ছে।’

প্রিন্স বলেন, ‘সম্প্রতি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির যে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে তাতে ছাত্রদলের সাবেক নেত্রীদের রাখা হয়েছে নারী কোটা পূরণ করার জন্য। আগামীতে কাউন্সিলের মাধ্যমে যে কমিটি গঠন করা হবে তাতেও নারীদের বেশি সংখ্যক আনা হবে।’  

রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দলের চিঠি আমি পেয়েছি। পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে ১৫ শতাংশ নারী নেতৃত্ব জেলা কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করে কেন্দ্রে পাঠাতে বলা হয়েছে। আমরা জেলা নেতাদের এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেব। তারা কমিটিতে নারীদের অন্তর্ভুক্ত করে আমাদের কাছে পাঠালে আমরা তা কেন্দ্রে পাঠাব।’ 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ইসির এ সংক্রান্ত নির্দেশনা আছে। দলেরও উদ্যোগ আছে। স্থায়ী কমিটির সভার সিদ্ধান্ত আছে। তাছাড়া আমি যেহেতু নারী আমি সব সময় চেষ্টা করি নারীদের বিভিন্ন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করতে। দলের উদ্যোগ বাস্তবায়নে সব সময় সোচ্চার আছি আমি।’

সম্প্রতি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে উত্তরের আহ্বায়ক কমিটিতে সাবেক কাউন্সিলর ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টিকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। আর দক্ষিণের কমিটিতে সাবেক ছাত্রদল নেত্রী আরিফা সুলতানা রুমা ও নাদিয়া পাঠান পাপনকে সদস্য রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে সাবেক ছাত্রদল নেত্রী এবং বর্তমানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিএনপি সব সময় নারীদের দলে সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়। ছাত্রদলের কমিটিতে বাদ পড়ার পর এখন আমাকে আবার মহানগর আহ্বায়ক কমিটির সদস্য করা হয়েছে। আমি এতে খুশি।’