সার্ভার জটিলতায় হিলি স্থলবন্দরে আটকা চালের ট্রাক

দেশের বাজারে চালের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে তিন মাস ২৩ দিন পরে আবারও দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানি শুরু হয়েছে। তবে শুল্ক জটিলতার কারণে আমদানি করা চাল এখনো বন্দর থেকে খালাস নিতে পারছেন না আমদানিকারকরা।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত বন্দরের অভ্যন্তরে চালবোঝাই ট্রাকগুলো দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

২৪ ও ২৫ আগস্ট তিনটি ট্রাকে ১১৩ টন চাল আমদানি হলেও এখন পর্যন্ত নতুন করে কোনো চালের ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করেনি।

ভারত থেকে চাল নিয়ে আসা ভারতীয় ট্রাক চালক দিপু মোহন্ত বলেন, গত মঙ্গলবার ভারত থেকে আমদানি করা চাল নিয়ে বাংলাদেশের হিলি স্থলবন্দরে প্রবেশ করেছি। ভারতে পার্টি আমাদের জানিয়েছিল যাওয়া মাত্র চাল খালাস হয়ে যাবে। আজ তিন দিন হচ্ছে খালাস দূরের কথা কেউ কোনো খোঁজও নেয়নি।

চাল আমদানিকারক মেসার্স রিত্তিক এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ললিত কেশেরা বলেন, দেশের বাজারে চালের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে বরাদ্দ পেয়ে গত ২৪ আগস্ট চাল আমদানি করি, পরের দিন আরও দু ট্রাক চাল আমদানি করি। এখন পর্যন্ত এসব খালাস নেওয়া সম্ভব হয়নি। কাস্টমসের সার্ভারে জটিলতার কারণে পণ্যের বিল অব এন্ট্রি সাবমিট করতে পারছে না সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট। এদিকে ট্রাক ঢোকার পর থেকেই খালাস না হওয়ায় ডেমারেজ গুনতে হচ্ছে। বন্দরের চার্জও বেড়ে যাচ্ছে।

বন্দর থেকে চাল খালাস কার্যক্রমের জন্য মনোনীত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট আমিরুল ইসলাম বলেন, চালের আমদানি শুল্ক কমানো হয়েছে কিন্তু কাস্টমসের সার্ভারে শুল্ক যা কমানোর কথা তার চেয়ে বেশি দেখাচ্ছে যার কারণে এখনো পণ্যের বিল অব এন্ট্রি সাবমিট করা সম্ভব হয়নি।

তবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলছে বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা হবে বলে তারা জানিয়েছে।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, আমদানি শুল্ক কমানোর ফলে তিন মাস ২৩ দিন বন্ধের পর গত ২৪ আগস্ট বন্দর দিয়ে পুনরায় চাল আমদানি শুরু হয়েছে। আমদানি হওয়া চালগুলো বন্দরে হল্টেজ অবস্থায় রয়েছে।

হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের উপকমিশনার কামরুল ইসলাম বলেন, চালের আমদানি শুল্ক কমেছে কিন্তু সেটি কাস্টমসের সার্ভারে সমস্যা থাকায় দেখাচ্ছিল না। এ জন্য খালাস দেওয়া সম্ভব হয়নি। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত সমস্যা ছিল, তবে আমরা এ বিষয়ে এনবিআরে কথা বলেছিলাম গতকাল রাতেই সেই সমস্যা তারা ঠিক করেছে এখন আর কোনো সমস্যা নেই।