অক্টোবর-নভেম্বরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। ১-২ সেপ্টেম্বরের বোর্ডসভায় দিন-তারিখ চূড়ান্ত হবে। সেই নির্বাচনে দ্বিতীয় মেয়াদে সভাপতির দায়িত্ব পালনরত নাজমুল হাসান পাপন কি দাঁড়াবেন? গতকাল বিসিবির বার্ষিক সাধারণ সভা শেষে এ প্রশ্ন করা হয়েছিল তাকে। জবাবে নাজমুল হাসান পাপন রহস্য রেখে দিলেন। জানালেন, চিকিৎসক তাকে ‘ক্রিকেটীয় চাপ’ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। এই ক্রিকেটীয় চাপ কী তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।
বিসিবিপ্রধান পাপন যে শুধু সভাপতি তা কিন্তু নয়। জাতীয় দলের বিভিন্ন বিষয়েই সরাসরি সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকেন। দলের ক্রিকেট আলোচনাতেও মতামত দেন। এক বছর এই অভ্যাস থেকে দূরে ছিলেন। কিন্তু উইন্ডিজের বিপক্ষে গত ফেব্রুয়ারির হোম টেস্টে সিরিজ হারের পর আবারও ফিরে আসেন জাতীয় দলের ক্রিকেট সম্পর্কিত আলোচনায়। তবে এই চাপ নিতে গিয়ে অনেক সময় শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাই চিকিৎসক পাপনকে ক্রিকেটীয় চিন্তা কমাতে বলেছেন। পাপন বলেন, ‘ক্রিকেটটা ইজ টেকিং টু মাচ টাইম। আজকে এটা আমি এজিএমেও বলেছিলাম ইট ইজ টেকিং টু মাচ টাইম। টু মাচ টাইম বলতে জালাল ভাই গিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ড, তারপর ববি ভাই গেলেন জিম্বাবুয়ে। ওনারা জানেন, ওনারা অবাক হয়ে যান। ভোর থেকে তো খেলা দেখেছিই, সারা রাত জেগে ওরা কখন ঘুম থেকে উঠবে, কখন ওদের ওখানে ৭টা বাজবে, ব্রেকফাস্টের আগে সবার সঙ্গে কথা বলা, তারপর টিম নিয়ে কথা বলা। আবার যে এসব শুরু হয়েছে, আসলে ক্রিকেট ইজ টেকিং টু মাচ টাইম সো ফার।’ বিসিবি সভাপতি যোগ করেন, ‘আমার একটা খারাপ দিক হচ্ছে হারলে হারটা আমি মেনে নিতে পারি না। বাংলাদেশ হারলে মেজাজ খারাপ হয়ে যায়, আমার বৌ-বাচ্চারা সামনে আসতে পারে না। ডাক্তার আমাকে বারবার বলেছেন ক্রিকেট থেকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দূরে সরে যেতে।’ বোর্ডে থাকলেও অন্তত সভাপতি পদে থাকতে চান না এমন আভাসই দিয়েছেন অবশ্য, ‘অন্তত বোর্ডে থাকলেও এই জিনিসগুলো যেন না করি। আপনাদের ইনফরমেশনের জন্য বললাম, বলে রাখলাম। সো আমি এখনো জানি না।’ কিন্তু বিসিবি পরিচালকরা তো তাকেই সভাপতি হিসেবে চান। সংবাদ সম্মেলনে পাপনের পাশে বসা বিসিবি পরিচালক ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির তো বলেই দিলেন, ‘পাপন ভাই-ই থাকবেন (সভাপতি)।’
তবে পাপন জানিয়েছেন এবারের নির্বাচনে আসছে নতুনত্ব, ‘খুব কঠিন এটা বলা (সভাপতি পদে নির্বাচন)। এবার বোর্ড মিটিংয়ে একটু ভিন্নতা পাবেন আপনারা নির্বাচন নিয়ে তাতে সন্দেহ নেই। নির্বাচনটা একটু ভিন্ন হবে। অন্যান্যবারের মতো নাও হতে পারে। আশা করি এটা এক্সেপটেড হবে, যেমনটা আমি প্রপোজ করব।’