সাভারের বলিয়াপুরে সরকারি খাল ও জলাশয় ভরাট করে গড়ে তোলা জমজম নূর সিটি পরিদর্শন করেছে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন। গত ১৪ আগস্ট দৈনিক দেশ রূপান্তরে বামনী খাল দখলের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে তা সরেজমিন পরিদর্শনে যায় নদী রক্ষা কমিশনের তিন সদস্যের একটি দল।জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সহকারী পরিচালক মো. তৌহিদুর রহমান জানান, নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান এএসএম আলী কবীর দৈনিক দেশ রূপান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি দেখে তাদের সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাওয়ার নির্দেশনা দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তিন সদস্যের প্রতিনিধিদলটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে খাল ও জলাশয় দখলের সত্যতা পেয়েছে। তারা প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্র হাতে এলে সেগুলো পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন জমা দেবেন।
পরিদর্শন শেষে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের উপপরিচালক ড. খ. ম. কবিরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের দায়িত্বই হলো সারা দেশের নদ-নদী ও খাল রক্ষা করা। আমরা কোনো জায়গা থেকে অভিযোগ পেলে সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্ত করি। তারপর আমরা সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে, যারা এগুলোর সঙ্গে জড়িত, তাদের নির্দেশনা ও সুপারিশ প্রদান করি। আজ (গতকাল) আমরা সাভারের বামনী খালটি পরিদর্শন করেছি। এর ভিত্তিতে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট বিভাগ যেমন পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা প্রশাসক এবং প্রয়োজন হলে পরিবেশ অধিদপ্তরকে সুপারিশ প্রদান করব, যা বাস্তবায়নের দায়িত্ব তাদের।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরেজমিন পরিদর্শনে প্রাপ্ত তথ্যের সঙ্গে আমরা সিএস রেকর্ড, আরএস রেকর্ড এবং বিআরএস রেকর্ড পর্যালোচনা করেই আমাদের সুপারিশ পাঠাব। এছাড়া সাভার এলাকায় যদি অন্য কোনো খাল দখলের অভিযোগ পাই, তাহলে সেগুলোও একই প্রক্রিয়ায় রক্ষা করার চেষ্টা করব।’
উদ্ধারের পরও পুনরায় দখল হয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ড. কবিরুল বলেন, ‘এ ধরনের দখল ঠেকাতে সামাজিক আন্দোলন প্রয়োজন। আপনারা যারা গণমাধ্যমকর্মী রয়েছেন এবং পরিবেশ ও নদী রক্ষার জন্য বিভিন্ন ধরনের সামাজিক সংগঠন আছে, তাদেরও দায়িত্ব এটা প্রতিরোধ করা। প্রকৃতপক্ষে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন একটি সুপারিশ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, আমরা বাস্তবায়ন করি না। কাজেই যেসব প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব এগুলোর দেখভাল করা, তাদের ওভারসি করার জন্য আবার সামাজিক আন্দোলনের প্রয়োজন।’
বামনী খাল পরিদর্শনে এসে কী কী তথ্য মিলেছে এমন প্রশ্নের জবাবে নদী রক্ষা কমিশনের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা রেকর্ডপত্র আরও পর্যালোচনা করব। এখনো যেসব কাগজ হাতে পাইনি তার জন্য এক সপ্তাহ সময় দিয়েছি। এর মধ্যে কাগজপত্রগুলো পেলে সেগুলো পর্যালোচনা করে ফাইনালি জানাতে পারব। তবে এখন পর্যন্ত আমরা যেটা দেখতে পেয়েছি, এখানে সরকারি জমির ওপর দিয়ে রাস্তা করা হয়েছে, যেটা তারা করতে পারে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘নদী-নালা, খাল-বিল এগুলো সবই একত্রে ব্যাপকভাবে পরিবেশ ও প্রতিবেশ গড়ে উঠে। কোনো নদীর পাশে নিচু জলাশয় থাকতে হবে। যেন বর্ষাকালে নদী ওভার ফ্লো করলে সেই জমিতে পানি প্রিজার্ভ হতে পারে। তা না হলে নদী ওভার ফ্লো করে বড় বড় বন্যা হয়ে যেতে পারে। তাই সব জলাশয়ে এগুলো বজায় রাখার জন্য হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা আছে। এছাড়া আমাদের বিভিন্ন আইন আছে, সেই আইনের মধ্যেও কোনো ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে জলাশয় থাকলে সেগুলো জেলা প্রশাসকের অনুমোদন ছাড়া ভরাট করা যাবে না। কাজেই যেসব জলাশয় ভরাট হয়ে যায়, সেখানে দেখতে হবে জেলা প্রশাসকের অনুমোদন আছে কি না। আমরা সেগুলো নিয়েও কাজ করব।’
উল্লেখ্য, সাভারের বলিয়াপুর এলাকায় নূর মোহাম্মদ নামে এক প্রভাবশালী সরকারি বামনী খাল ও সংলগ্ন জলাশয় ভরাট করে ‘জমজম নূর সিটি’ নামে একটি আবাসন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। সেখানে বালু ভরাট শেষে বর্তমানে প্লট আকারে জমি বিক্রি করা হচ্ছে। এরই মধ্যে অনেকেই সেখানে প্লট কিনে প্রতারিত হয়েছেন।