সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল

জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে সরাতে জিয়ার কবর নিয়ে প্রশ্ন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে জিয়াউর রহমান ‘মাজার’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল শনিবার দুপুরে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। গত শুক্রবার দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভার ভার্চুয়াল সভার সিদ্ধান্ত জানাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শহীদ জিয়ার দাফন হয়েছে, লক্ষ লক্ষ লোক জানাজায় শরিক হয়েছে। তৎকালীন সেনাপ্রধান এরশাদ (এইচ এম এরশাদ) নিজে তার প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বডি ক্যারি করেছেন। ইট ইজ এ ওপেন ক্লিয়ার, ক্লিস্টাল ক্লিয়ারের চেয়ে বড় সত্য কিছু আর হতে পারে না। সেখানে এ ধরনের ইস্যু নিয়ে আসা তারা যে কতটা রাজনীতিশূন্য হয়ে গেছে, দেউলিয়া হয়ে গেছে রাজনীতিতেÑএটা তার প্রমাণ।’

প্রশ্ন রেখে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মূল জায়গাটায় আসে না কেন তারা? যে নির্বাচনটা কীভাবে করবেন, আপনি গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে কীভাবে শক্তিশালী করবেন, কীভাবে মানুষের অধিকাগুলো, ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেবেন, সেই কথাগুলোর সরকার উত্তর দেয় না।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘অযথা শেখ মুজিবুর রহমান কিংবা জিয়াউর রহমানকে নিয়ে টানাহ্যাঁচড়া আমরা করতে চাই না। ওনারা আমাদের সকলের শ্রদ্ধেয় নেতা। তাদের সেই জায়গাতেই রাখা উচিত।’

গত শুক্রবার জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় জিয়াউর রহমানের কবর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যকে রুচিহীন মিথ্যাচার অভিহিত করে এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয় বলে জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যেসব বক্তব্য দিয়েছেন, এটা কোনো রুচিবান মানুষ করতে পারে বলে আমি মনে করি না।। এটা আমার কাছে মনে হয়েছে যে রুচিহীন, কদর্য, একটা মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছু নয়। কারণ এ ধরনের বক্তব্য মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে তো।’

এ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যে প্রমাণ হয়েছে করোনার কারণে এত দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়নি। আন্দোলন ঠেকানোর জন্য তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে রেখেছেন।’