এক মাস পর লেনদেন নামল দুই হাজার কোটির নিচে

পুঁজিবাজারে ব্যাংক ও প্রণোদনা ঋণের অর্থ বিনিয়োগ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে ব্যাংক ও এর সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ তদন্তে কিছু অনিয়মও ধরা পড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমন তদন্তে সতর্কতা অবলম্বন করছেন প্রাতিষ্ঠানিক ও বড় বিনিয়োগকারীরা। ফলে টানা তিন কার্যদিবস মূল্য সংশোধনে পড়েছে বাজার। অস্থিরতায় শেয়ার দর কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরাও লেনদেন কমিয়ে দিয়েছেন। এতে করে এক মাস পর দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন নেমে এসেছে দুই হাজার কোটি টাকার নিচে।

গত ২৯ জুলাইয়ের পর থেকে ডিএসইতে টানা প্রায় এক মাস দুই হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হতে দেখা যায়। গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৮৪৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, যা গত ২ আগস্টের পর সর্বনিম্ন। গত এক মাসে ডিএসইতে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা, যা ছিল ২০১০ সালের পর সর্বোচ্চ। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক তদন্তের ঘোষণা দেওয়ার পর গত সপ্তাহ থেকেই লেনদেন ধারাবাহিকভাবে কমতে শুরু করে। গত সপ্তাহের শুরুতে লেনদেন ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা লেনদেন হলেও সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার তা ২ হাজার ২২৭ কোটি টাকায় নামে। আর চলতি সপ্তাহের শুরুর দিন গতকাল তা দুই হাজার কোটি টাকার নিচে নামে। এক কার্যদিবসের ব্যবধানে লেনদেন কমে গেছে ১৭ শতাংশ।  শুধু লেনদেন নয় টানা তিন কার্যদিবসের মূল্য সংশোধনে কমে গেছে অধিকাংশ শেয়ারের দরও। গতকাল বেশিরভাগ শেয়ারের দরপতনের কারণে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক কমেছে ২৭ পয়েন্টের বেশি। এ নিয়ে টানা তিন কার্যদিবসে সূচকটি ৫৯ পয়েন্ট। অবশ্য গতকাল বেলা দেড়টা পর্যন্ত সূচকের ওঠানামা দেখা গেলেও শেষ ঘণ্টায় পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গতকালের মূল্য সংশোধনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে ব্যাংক, ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও টেলিযোগাযোগ খাতের কোম্পানি। এই তিন খাতের কোম্পানি গতকাল দেড় থেকে ২ দশমিক ৪ শতাংশ বাজার মূলধন হারিয়েছে। এরমধ্যে ব্যাংক খাত ১ দশমিক ২৫ শতাংশ, ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত ২ দশমিক ৪ শতাংশ ও টেলিযোগাযোগ খাত দেড় শতাংশ দর হারিয়েছে। এছাড়া বস্ত্র, ভ্রমণ, তথ্য প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও ফার্মাসিউটিক্যালস খাতও কিছুটা দর হারিয়েছে। বিপরীতে সিমেন্ট, পাট, ট্যানারি ও কাগজ খাতের দর বেড়েছে। গতকাল ডিএসইতে কেনাবেচা হওয়া ৩৭৫টি সিকিউরিটিজের মধ্যে দর বেড়েছে ১৩১টির, কমেছে ২১৫টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ২৯টির দর।