হঠাৎ করেই স্টক ব্রোকার, মার্চেন্ট ব্যাংকসহ পুঁজিবাজারের মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সব ধরনের লাইসেন্স ও অন্যান্য ফি বাড়িয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরোপিত ফি শতগুণ বাড়িয়েছে কমিশন। একইভাবে আইপিও আবেদন ফিও বাড়িয়েছে। সম্প্রতি ফি বৃদ্ধির এমন গেজেট প্রকাশ করেছে এসইসি।
বিনিয়োগকারীদের শেয়ার এবং বিও হিসাবের তথ্য সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ডিপোজিটরি পার্টিসিপেন্ড (ডিপি) লাইসেন্স পেতে আগে কোনো ফি ছিল না। শুধু বছরপ্রতি নবায়ন ফি ছিল ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু এসইসি সংশ্লিষ্ট বিধান সংশোধন করে লাইসেন্স পেতে আবেদন ফি ৫ লাখ টাকা, লাইসেন্সের জন্য ১ কোটি টাকা এবং প্রতি বছরের নবায়ন ফি ২০ লাখ টাকা করেছে। একইভাবে স্টক ব্রোকার, মার্চেন্ট ব্যাংক, সম্পদ ব্যবস্থাপক, ক্রেডিট রেটিং কোম্পানিসহ সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নিতে আবেদন, লাইসেন্স ফি এবং নবায়ন ফি আগের তুলনায় ৪০ গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে গেজেট প্রকাশ করেছে এসইসি।
একবারে আকাশচুম্বী হারে ফি বৃদ্ধির প্রতিক্রিয়ায় ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো দুই সংগঠনের নেতারা বলেছেন, এভাবে ফি বৃদ্ধির নজির বাংলাদেশের অন্য কোনো ক্ষেত্রে নেই। তবে এসইসি কর্মকর্তারা মনে করেন, নতুন করে যে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে তা কোম্পানিগুলোর বিদ্যমান ব্যবসার আকারের তুলনায় এবং অন্য যেকোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থার তুলনায় অনেক কম।
আগে স্টক ব্রোকারের লাইসেন্স পেতে আবেদন ফি ছিল ২০ হাজার টাকা, এখন ২ লাখ টাকা। আগে লাইসেন্স ফি ছিল না, এখন লাইসেন্স পেতে ৫ লাখ টাকা দিতে হবে। নবায়ন ফি ১০ হাজার টাকার স্থলে ৫০ হাজার টাকা করেছে এসইসি। আবার নিজের বিনিয়োগ করতে স্টক ডিলার লাইসেন্স নিতেও অনুরূপ হারে ফি দিতে হবে। ডিপোজিটরি সার্ভিস প্রদানেও লাইসেন্স ফি নামমাত্র থাকলেও তা ৪০ গুণ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
শেয়ার কেনাবেচায় সাহায্যকারী কর্মকর্তা বা অনুমোদিত প্রতিনিধির লাইসেন্সের আবেদন ফি ১ হাজার টাকার পরিবর্তে ৫ হাজার টাকা এবং প্রতি বছরের নবায়ন ফি ৫০০ টাকার পরিবর্তে ৫ হাজার টাকা করা হয়েছে।
আগে মার্চেন্ট ব্যাংকের লাইসেন্স নিতে আবেদন ফি ছিল ১ হাজার টাকা। এখন তা ১ লাখ টাকা। লাইসেন্স নিতে আগে ফি ছিল ১ লাখ টাকা, এখন ১০ লাখ টাকা। নবায়ন ফি ৫০ হাজার টাকার পরিবর্তে ২ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিলম্ব ফি প্রতি মাসের জন্য ৫০ হাজার টাকা।
ক্রেডিট রেটিং কোম্পানির লাইসেন্স গ্রহণের জন্য আগে কোনো ফি লাগত না। এখন ২৫ লাখ টাকা দিতে হবে। আগে নবায়ন ফি না লাগলেও এখন দিতে হবে বছরে ৫ লাখ টাকা। আইপিও আবেদনের ফি ৫ হাজার টাকা বা রাইট শেয়ার বিক্রির আবেদনের ফি ১০ হাজার টাকার পরিবর্তে ৫০ হাজার টাকা করে নির্ধারণ করেছে।
এ বিষয়ে ডিএসইর ব্রোকারদের সংগঠন শরীফ আনোয়ার হোসেন বলেন, কমিশন ফি বাড়াতে পারে। তবে তা একবারে না বাড়িয়ে ধাপে ধাপে বাড়ালে যুক্তিযুক্ত হতো।
তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ১৯৯৬ সালের পর এবারই প্রথম বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ফি বাড়ানো হচ্ছে। এটা ফি বৃদ্ধি নয়, বরং যুগোপযোগী করা হচ্ছে বলা যেতে পারে।
তিনি বলেন, গত ২৫ বছরে পুঁজিবাজারের ব্যপ্তি বেড়েছে। স্টক ব্রোকার, মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর আয়ও আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। এখন ফি বাড়িয়ে যেটা নির্ধারণ করা হয়েছে তা বর্তমান সময় বিবেচনায় একেবারে বেশি নয়। তবে একবারে ফি বাড়ানোতে হয়তো চোখে লাগছে। এখন পুঁজিবাজারের এসব প্রতিষ্ঠানের আয় বাড়ায় নতুন ধার্যকৃত ফি প্রদানে কারও সমস্যা হবে বলে মনে করি না।