২০১৯ সালের ডিসেম্বরে প্রায় ১ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল প্রকল্প (পিসিটি) শেষ হওয়ার কথা থাকলেও হয়নি। প্রকল্পের কাজ শেষ করার নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২২ সালের ৩০ জুন। তবে, প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগে আগামী ডিসেম্বরেই কন্টেইনার ওঠানামার কার্যক্রম শুরু করতে চায় বন্দর।
বন্দর কর্মকর্তারা জানান, সম্প্রতি নৌ-প্রতিমন্ত্রী খালিদ হোসেন চৌধুরী বন্দরের বে-টার্মিনাল প্রকল্প পরিদর্শনে এলে পিসিটির বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন নির্দেশনা দেন। এ সময় তিনি চলতি বছর ডিসেম্বরের মধ্যে টার্মিনালে জাহাজ ভেড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল প্রকল্পের পরিচালক চট্টগ্রাম বন্দরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান সরকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কাজ শুরু করতে বিলম্ব হয়েছে। এছাড়া করোনা পরিস্থিতিতে কাজের গতি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি রোধে দীর্ঘ সময় সাধারণ ছুটি ও সরকারি নানা বিধিনিষেধ থাকায় প্রকল্পের কাজে কাক্সিক্ষত অগ্রগতি হয়নি। বর্ধিত মেয়াদে আগামী বছর জুনের মধ্যে প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে চলতি বছর ডিসেম্বরের মধ্যেই আমরা কাজ শেষ করে অপারেশনে যেতে চাই। কিন্তু পিসিটি প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো কাজ শেষ করতে আগামী বছর জুন পর্যন্ত সময় লাগবে।
প্রকল্প পরিচালক জানান, বর্তমানে প্রকল্পের ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ৫৮৩ মিটার জেটির কাজের ৮৫ শতাংশ হয়ে গেছে। বড় কাজের মধ্যে বাকি রয়েছে কন্টেইনার রাখার জন্য ইয়ার্ড নির্মাণ ও অভ্যন্তরীণ সড়ক তৈরির কাজ। করোনায় গতি থমকে গেলেও এখন পুরোদমে কাজ চলছে বলে জানান তিনি।
২০১৭ সালের জুলাইয়ে কাজ শুরুর কথা থাকলেও প্রকল্প এলাকার বিভিন্ন স্থাপনা সরানো নিয়ে জটিলতার কারণে তা হয়নি। ২০১৮ সাল থেকে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। ওই সময় প্রকল্পের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৮৬৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা। পরে ব্যয় বাড়িয়ে ২ হাজার ৪৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দিয়ে ২০২০ সালের জুনে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (আরডিপিপি) পাঠানো হয়। এতে এর মধ্যে ব্যয়ের একটি বড় অংশ ধরা হয় টার্মিনালের অপারেশনাল কাজে ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ক্রয়ের খরচ হিসেবে। প্রকল্পের আওতায় ২টি ফায়ার ট্রাক, ১টি ফায়ার কার, ৩টি নিরাপত্তা পেট্রোল কার, ৪টি গ্যান্ট্রি ক্রেন, ৪টি স্ট্যাডল ক্যারিয়ার, ৪টি রিচ স্ট্যাকার, ৮টি রাবার টায়ারড গ্যান্ট্রি ক্রেন, ৮টি ফর্ক লিফট, ১টি রেল মাউন্টেড গ্যান্ট্রি ক্রেন, ২টি টাগ বোট, ২টি স্পিডবোট ও ২টি পাইলট বোট কেনার প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে ইক্যুইপমেন্ট ক্রয়ের বিষয়টি বাদ দিয়ে প্রকল্প ব্যয় চূড়ান্ত করা হয় এক হাজার ৪৪৮ কোটি টাকায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, পিসিটি প্রকল্পের আওতায় ৩২ একর এলাকাজুড়ে নির্মাণ করা হবে ৬০০ মিটার দীর্ঘ তিনটি জেটি। থাকবে ২২০ মিটার দীর্ঘ একটি ডলফিন জেটি ও ১ লাখ ১২ হাজার বর্গমিটার অভ্যন্তরীণ ইয়ার্ড এবং সড়ক। এছাড়া এ প্রকল্পের আওতায় ২ হাজার ১২৮ বর্গমিটার কনটেইনার ফ্রেইট স্টেশন শেড, ৬ মিটার উঁচু ও ১ হাজার ৭৫০ মিটার প্রশস্ত কাস্টমস বন্ডেড ওয়াল, ৫ হাজার ৫৮০ পোর্ট অফিস বিল্ডিং, ১ হাজার ২০০ বর্গমিটার যান্ত্রিক ও মেরামত কারখানা, ২ হাজার ৫০০ মিটার রেলওয়ে ট্র্যাক নির্মাণ, ৪২০ মিটার ফ্লাইওভার নির্মাণ, ৪ লেনের শূন্য দশমিক ৭৫ কিলোমিটার এবং ৬ লেনের ১ কিলোমিটার সড়ক পুনর্নির্মাণ, সিকিউরিটি পোস্ট, গেস্ট হাউজ, ফুয়েল স্টেশন এবং লেবার নির্মাণের কথা রয়েছে।