নাচ, গান, অভিনয় দিয়ে দীর্ঘদিন ছোট পর্দা মাতিয়ে রেখেছেন তারিন জাহান। মডেলিংয়েও তিনি গড়েছেন শক্ত অবস্থান। অনেকে তাকে দেশের অন্যতম সেরা অভিনেত্রীর তকমা দিয়ে থাকেন। তবে মাঝে কয়েকটা বছর একেবারেই কম কাজ করেছেন এই গুণী তারকা। গল্প পছন্দ না হওয়া, একঘেয়ে চরিত্রে বেশি প্রস্তাব পাওয়া, সময় উপযোগী চরিত্রের অভাব এমনকি নাটকের নিম্নগামী মানের জন্যই তিনি কাজ কম করেছেন। তবে সম্প্রতি তারিনকে আগের চেয়ে বেশ সরব মনে হচ্ছে অভিনয়ে। তার বেশকিছু নতুন নাটক আলাদাভাবে দর্শকের নজর কেড়েছে। এই মুহূর্তে তিনি ব্যস্ত অভিনেত্রী হৃদি হকের পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘১৯৭১ সেইসব দিনগুলো’ নিয়ে। কদিন আগেই তিনি আর নিমা রহমান পুরনো ঢাকায় এ সিনেমার শ্যুটিং করেছেন। সরকারি অনুদানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রটির কাজ এখনো কিছু বাকি আছে। তারিন বলেন, ‘এই সিনেমার কাজ করে সত্যি তৃপ্তি পাচ্ছি। মুক্তিযুদ্ধের সিনেমার মধ্যে এটি অন্যতম মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে আশা করি। হৃদি এত চমৎকারভাবে প্রতিটি দৃশ্য পর্দায় তুলে আনছেন না দেখলে বিশ্বাস হবে না। এমনও হয়েছে আমরা একটি মাত্র দৃশ্য করতে সারা দিন ব্যয় করেছি। অনেক বড় নির্মাতাকে বলতে দেখেছি, একটা শট না হয় খারাপ হলো তাতে কী বা হবে। কিন্তু হৃদি কোনো ছাড় দিতে রাজি নন। তিনি যেভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করেন এবং শিল্পের যে পরিবেশে বড় হয়েছেন এটি তারই বহিঃপ্রকাশ।’
জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে তৈরি হচ্ছে মিউজিক্যাল ডকুফিল্ম ‘রক্তমাখা সিঁড়ি’তে অভিনয় করে এখন প্রশংসা পাচ্ছেন তারিন। ‘আমি বঙ্গবন্ধুকে নিজের চোখে দেখিনি। আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী প্রজন্ম তারা বঙ্গবন্ধুকে দেখেছি এবং জানতে ও বুঝতে চেষ্টা করেছি বইয়ের পাতায়। তার লেখা বই পড়ে কিংবা টিভিতে শুনেছি তার দরাজ কণ্ঠ, কল্পনায় এঁকেছি সেই অসাধারণ ব্যক্তিত্বকে, যাকে শুধু শ্রদ্ধাভরে ভালোবাসা যায়। কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করা যায়। বঙ্গবন্ধুর প্রতি সেই শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও আবেগের জায়গা থেকে এই প্রথম কোনো মিউজিক্যাল ডকুফিল্মে অংশগ্রহণ করেছি। ধন্যবাদ জানাই পুরো টিমকে।’ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে নির্মিত মিউজিক্যাল ডকুফিল্ম ‘রক্তমাখা সিঁড়ি’ প্রসঙ্গে এভাবেই তারিন জাহান তার অনুখভূতি প্রকাশ করেছেন। তারিনের ভাষ্যমতে, এবারই তিনি প্রথম কোনো মিউজিক্যাল ডকুফিল্মে কাজ করেছেন। মূলত নিশীতা বড়ুয়ার গাওয়া ‘রক্তমাখা সিঁড়ি’ গানটি নিয়েই মিউজিক্যাল ডকুফিল্মটি নির্মিত হয়েছে। গানটির সুর সংগীত করেছেন সুমন কল্যাণ। লিখেছেন সুজন হাজং। মিউজিক্যাল ডকুফিল্মটি নির্মাণ করেছেন সোহেল রানা বয়াতী। মিউজিক্যাল ফিল্মটি নির্মাণে ক্যামেরায় ছিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত সিনেমাটোগ্রাফার কমল চন্দ্র দাস। শোক দিবস উপলক্ষে ১৭ আগস্ট ইউটিউবে গানটি প্রকাশ পায়। গানটির জন্য নিশীতা বড়ুয়া বেশ প্রশংসিত হচ্ছেন। ঠিক তেমনি গানটিতে অভিনয়ের জন্য বেশ প্রশংসা পাচ্ছেন তারিন জাহানও। ফেইসবুকে সুবর্ণা মুস্তাফা, সাদিয়া ইসলাম মৌসহ অনেক জনপ্রিয় তারকা তারিনের অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন। গত ঈদেও তারিন প্রশংসা কুড়িয়েছেন বেশ কয়েকটি নাটক, টিভি ফিচার ফিল্মে অভিনয় করে। এরমধ্যে তানিম রহমান অংশুর ‘সাহসিকা’, সোহেল হাসানের ‘অনাত্মীয় দম্পতি’, হাসিব আহমেদের ‘মধুচক্র’ ও চয়নিকা চৌধুরীর ‘গৃহমায়া’য় তার অভিনয় প্রশংসিত হয়। ‘অনাত্মীয় দম্পতি’ নাটকটি নিয়ে তারিন বলেন, ‘ঈদুল আজহায় নাটকটি এনটিভিতে প্রচার হয়। সহশিল্পী ছিলেন মোশাররফ করিম। নাটকটি দর্শকের ভালোলাগার প্রধান কারণ এর ইমোশনাল গল্প। এক দম্পতি সন্দেহের কারণে বিয়ের পাঁচ বছর পর সংসার ভেঙে ফেলে। ছোট্ট মেয়ে চায় বাবা-মাকে আবার এক করতে। এজন্য বেশ কিছু কৌশল সাজায়। আসলে একটি ভালো গল্প পেলে অভিনয় করতেও ভালো লাগে। আর পরিচালক তার কাজটি ঠিকমতো করতে পারলে কাজটি অবশ্যই দর্শকের কাছে পৌঁছায়।’ টিভি ফিচার ফিল্ম ‘সাহসিকা’য় পুলিশের চরিত্রে অভিনয় প্রসঙ্গে তারিন বলেন, ‘নির্মাতা তানিম রহমান অংশুর সিনেমা ন ডরাই সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। তার সঙ্গে এই কাজটি করতে গিয়ে বুঝেছি কতটা যত্নশীল কাজের ব্যাপারে। এর আগেও আমি নাটকে পুলিশের চরিত্রে অভিনয় করেছি। এ ধরনের চরিত্রে অভিনয় করাটা একটু কঠিন। কারণ চরিত্রের ধরন সাধারণ মানুষ বোঝেন। নিজে থেকে বাড়িয়ে কিছু করাও সম্ভব হয় না। ঈদে এ কাজটি করে আমি দারুণ তৃপ্ত। এ ধরনের কাজের প্রস্তাব পেলে অবশ্যই করতে চাই।’