বছরের পর বছর ধরে নানা অনিয়ম ও আর্থিক লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত কোম্পানি ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। একই সঙ্গে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি পরিচালনায় নতুন করে ১০ জন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দিয়েছে কমিশন। পুনর্গঠিত পর্ষদ কোম্পানিটির আর্থিক অপরাধ ও মানি লন্ডারিংয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। গতকাল এসইসি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ফারইস্ট ইসলামী লাইফের পর্ষদ পুনর্গঠনের এ তথ্য জানিয়েছে। এসইসির বিশেষ নিরীক্ষায় ফারইস্ট লাইফে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম চিহ্নিত হওয়ার পর কোম্পানিটির বর্তমান ১৪ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভবন নির্মাণ, রাজধানীর গুলশানসহ বিভিন্ন স্থানে জমি ক্রয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়মের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে ফারইস্ট লাইফের বিভিন্ন পরিচালকের বিরুদ্ধে। এসব অনিয়ম তদন্তে এসইসি বিশেষ নিরীক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে নিরীক্ষা চালায় কোম্পানিটিতে। ওই নিরীক্ষায় বিভিন্ন আর্থিক অপরাধ চিহ্নিত হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারী, পলিসি হোল্ডার ও কোম্পানির অস্তিত্ব রক্ষায় বর্তমান পরিচালনা পর্ষদকে অপসারণ করে ১০ জন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দিয়েছে কমিশন। নতুন পর্ষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন ড. মুহাম্মদ রহমতউল্লাহ। পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদ করপোরেট গভর্ন্যান্স কোড-২০১৮ পরিপালন সাপেক্ষে শুধুমাত্র স্বতন্ত্র পরিচালকের সমন্বয়ে একটি নিরীক্ষা কমিটি গঠন করবে। এছাড়া একটি নমিনেশন ও রিমুন্যারেশন কমিটি গঠন করবে। পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদ আগামী ছয় মাসের মধ্যে কোম্পানির শীর্ষ ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন করবে, করপোরেট ক্যাশ ও সম্পদ ফিরিয়ে আনবে। এছাড়া যারা গত ১০ বছরে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে আর্থিক অপরাধ এবং মানিলন্ডারিং করেছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এছাড়া পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদ এই মর্মে নিশ্চিত করবে যে, কোম্পানির সঙ্গে তাদের কোনো স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পর্ক নেই এবং করপোরেট গভর্ন্যান্স কোড-২০১৮, বীমা আইন-২০১০ এ অন্যান্য সিকিউরিটিজ আইন পরিপালন করবে।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ২২ অক্টোবর ফারইস্ট ইসলামী লাইফের ছয় পরিচালকের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে মালিকানার পরিবর্তন হয়। ছয়জনের মধ্যে বিদায়ী চেয়ারম্যান এম এ খালেকের পরিবারের স্বার্থসংশ্লিষ্টই পাঁচজন। পরদিন ২৩ অক্টোবর প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যানসহ আট পরিচালক পদত্যাগ করেন। প্রাইম লাইফের চেয়ারম্যানও ছিলেন এম এ খালেক। এম এ খালেকের স্ত্রী পরিচালক সাবিহা খালেক এবং মেয়ে সারওয়াত খালেদও পদত্যাগ করেন।