অবৈধ সম্পদ অর্জন মামলা

ওসি প্রদীপের স্ত্রী চুমকির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

টেকনাফ থানার আলোচিত সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রী চুমকি কারণের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছে আদালত। পরে ওসি প্রদীপের পলাতক স্ত্রী চুমকির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। গতকাল বুধবার চট্টগ্রামের সিনিয়র স্পেশাল জজ-১ শেখ মো. আশফাকুর রহমান অভিযোগপত্রের গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানি শেষে এ আদেশ দিয়েছেন। এর আগে দুদকের চট্টগ্রাম জেলা সমন্বিত কার্যালয়-২-এর উপ-সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ  উদ্দিন গত ২৬ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

দুদকের কৌঁসুলি মাহমুদুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সাবেক ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগপত্রটি আদালতে উপস্থাপন করা হয়। পরে শুনানি শেষে বিচার প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি পলাতক আসামি ওসি প্রদীপের স্ত্রী চুমকি কারণের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও সম্পত্তি ক্রোকের পরোয়ানা জারি করেছে। এ সময় প্রদীপের জামিন আবেদন করা হয়েছিল। আদালত নামঞ্জুর করে।’

মামলা সূত্রে জানা যায়, দুদকের দাখিল করা ১৩ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে শুধুমাত্র সাবেক ওসি প্রদীপ দাশ ও তার স্ত্রী চুমকিকে আসামি করা হয়েছে। এতে ২৯ জনকে সাক্ষী করা হয়।

গত বছরের ২৩ আগস্ট দুদক কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে দুদকের চট্টগ্রাম জেলা সমন্বিত কার্যালয়-১-এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়Ñ প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রী চুমকি কারণের প্রায় ৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ রয়েছে। এসব অবৈধ সম্পদের মধ্যে ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৫ হাজার ৬৩৫ টাকা ওসি প্রদীপ ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জন করেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া আরও ১৩ লাখ ১৩ হাজার ১৭৫ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করারও অভিযোগ আনা হয়।

অভিযোগপত্রে চুমকি কারণের নামে নগরীর কোতোয়ালি থানার পাথরঘাটার ছয়তলা বাড়ি, পাঁচলাইশ থানার পশ্চিম ষোলশহর এলাকার জমি, ৪৫ ভরি স্বর্ণের গহনা, একটি কার ও মাইক্রোবাস এবং কক্সবাজারের একটি ফ্ল্যাটের কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে সম্পদ বিবরণীতে প্রদীপের স্ত্রী চুমকি কারণ নিজের মৎস্য ব্যবসার যে হিসাব উল্লেখ করে সম্পদ অর্জনের তথ্য দিয়েছিল সেই আয়ের কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছিল অভিযোগপত্রে।

তদন্তের পর দাখিল করা অভিযোগপত্রে প্রদীপের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার ৪১৭ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে সেই সম্পদ স্ত্রীর নামে হস্তান্তর ও স্থানান্তরপূর্বক মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগের তথ্য-প্রমাণ উল্লেখ করা হয়। এছাড়া উভয়ের বিরুদ্ধে দুদক ৪৯ লাখ ৫৮ হাজার ৯৫৭ টাকার অর্জিত সম্পদের তথ্য গোপন ও মিথ্যা তথ্য সম্পদবিবরণীতে উল্লেখের তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।

এর আগে গত ২৯ জুন দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রদীপ ও তার স্ত্রী চুমকির জব্দ করা চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সম্পত্তি জেলা প্রশাসকদের জিম্মায় থাকবে বলে আদেশ দেয় আদালত।

গত বছরের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজারের টেকনাফের কাছে বাহারছড়া চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। পরে ৫ আগস্ট কক্সবাজার আদালতে ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস।