মাদক মামলায় আলোচিত চলচ্চিত্র নায়িকা পরীমণিকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় রিমান্ডে পাঠানোর যৌক্তিকতার বিষয়ে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতের সংশ্লিষ্ট দুই বিচারকের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে উচ্চ আদালত। আদেশের ১০ দিনের মধ্যে তাদের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে হাজির হতে বলা হয়েছে। পরীমণিকে বারবার রিমান্ডে নেওয়ার বৈধতা প্রশ্নে মানবাধিকার ও আইনি সহায়তা সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পক্ষে করা আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
পরীমণিকে বারবার রিমান্ডে নেওয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্বতঃপ্রণোদিত রুল চেয়ে গত ২৯ আগস্ট আসকের পক্ষে একটি আবেদন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল বিষয়টি শুনানির পর্যায়ে আসে। ভার্চুয়ালি আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবু ইয়াহিয়া দুলাল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মিজানুর রহমান। অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কীসের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট দুই ম্যাজিস্ট্রেট রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন সে বিষয়ে দুজনকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার একাধিকবার রিমান্ড চাওয়ার কারণ জানতে তাকে কেস ডকেটসহ হাজির হতে বলেছে হাইকোর্ট।’
গত মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ এক আদেশে এই মামলায় পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় পরীমণিকে জামিন দেন। পরদিন বুধবার কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।
গত ৪ আগস্ট বিকেলে পরীমণির বনানীর ১২ নম্বর সড়কের বাসায় অভিযান চালান র্যাব সদস্যরা। অভিযান শেষে বাসাটি থেকে বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ, মদের বোতলসহ অন্যান্য মাদক জব্দ করার কথা জানান র্যাব কর্মকর্তারা। পরদিন ৫ আগস্ট পরীমণিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের মাধ্যমে প্রথমে চার দিন এবং ১০ আগস্ট আবারও দুদিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ড শেষে ১৩ আগস্ট তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। বনানী থানায় হওয়া মাদকের ওই মামলায় গত ১৯ আগস্ট পরীমণিকে হাজির করা হলে তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে ঢাকার একটি আদালত। মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে পরীমণির জামিনের আবেদন নাকচ হওয়ার পর গত ২২ আগস্ট জামিনের জন্য ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। আদালত শুনানির জন্য আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করে।
এদিকে পরীমণিকে বারবার রিমান্ডে নেওয়ার এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলে লম্বা সময় পর জামিন শুনানির দিন ধার্য করার আদেশটিকে চ্যালেঞ্জ ও দ্রুত শুনানির আরজিসহ পরীমণির অন্তর্বর্তীকালীন জামিন চেয়ে গত ২৫ আগস্ট তার পক্ষে আইনজীবী মুজিবুর রহমান হাইকোর্টে একটি রিভিশন আবেদন করেন। গত ২৬ আগস্ট পরীমণির দ্রুত জামিন শুনানির প্রশ্নে রুল জারি করে হাইকোর্ট। দুদিনের মধ্যে (রুলের আদেশটি পাওয়ার পর) তার জামিন শুনানি করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের কাছে তা জানতে চেয়েছিল হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর পরীমণির জামিন শুনানির তারিখ নির্ধারণ করে আদালতের আদেশটি কেন বাতিল করা হবে না রুলে তাও জানতে চায় হাইকোর্ট।