নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সুরাইয়া আক্তার (২৩) নামে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বুধবার মধ্যরাতে উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার কেন্দুয়া হালুয়ারটেক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। নিহত সুরাইয়া আক্তার গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ থানার বাহাদুর সাদি এলাকার আলমগীর হোসেনের মেয়ে। ঘটনার পর থেকে মাদকসেবী স্বামীসহ তার সহযোগীরা পলাতক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত দুই বছর আগে সুরাইয়ার সঙ্গে রূপগঞ্জ উপজেলার বিরাব এলাকার অহিদ মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা কেন্দুয়া হালুয়ারটেক এলাকার ভাড়া বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। সুরাইয়ার স্বামী মাদকসেবী। এছাড়া প্রায় সময়ই তার মাদকাসক্ত সহযোগীদের দিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর কাজ করানোর চেষ্টা করতেন। এতে সুরাইয়া প্রতিবাদ করতেন। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে হাতাহাতি ও মারপিটের ঘটনাও ঘটে। গত বুধবার রাতে মাদক সেবনের টাকার জন্য অহিদ তার স্ত্রীকে চাপ প্রয়োগ করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করলে মারধর করে ঘর থেকে বের হয়ে যান। পরে মধ্যরাতে অহিদসহ তার কয়েকজন সহযোগী ঘরে প্রবেশ করে।
স্থানীয়দের ধারণা, মাদকসেবী স্বামীর সহযোগিতায় সুরাইয়াকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। পলাতক স্বামীসহ স্থানীয় মাদকসেবীদের গ্রেপ্তার করলেই হত্যাকা-ের রহস্য উদঘাটন হবে বলে স্থানীয়রা জানান।
এ ব্যাপারে ভোলাব তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান জানান, রাতের যেকোনো সময় এ হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটেছে। সকালে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। লাশের গলায় ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
এ ব্যপারে রূপগঞ্জ থানার ওসি এএফএম সায়েদ বলেন, পলাতক অহিদকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তাকে গ্রেপ্তার করলেই সব রহস্য বেরিয়ে আসবে। এছাড়া ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এলে বিস্তারিত ঘটনা বলতে পারব।