টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) কর্মসূচির কাজ শেষ না করেই বিল উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রকল্পের সভাপতি আওয়ামী লীগ নেতা কৃষ্ণ কান্ত দে সরকারের বিরুদ্ধে। কৃষ্ণ কান্ত দে সরকার উপজেলার আটিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
সরেজমিন এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) প্রকল্প কর্মসূচির আওতায় তৃতীয় ধাপে আটিয়া ইউনিয়নের হিংগানগর গ্রামের তনু ব্যাপারীর বাড়ি থেকে বিন্দুরিয়া এলাকার মোসা মিয়ার দোকান পর্যন্ত ২ লাখ টাকা ব্যয়ে রাস্তা সংস্কার কাজের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ প্রকল্পে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ কান্ত দে সরকারকে সভাপতি ও জ্ঞানেন্দ্র নাথ দেকে সাধারণ সম্পাদক করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা সড়কটির একটি জায়গায় নামমাত্র ১০-১৫ ট্রাক মাটি ফেলেই প্রকল্পের পুরো টাকা উত্তোলন করেন। প্রকল্পের কাজ শেষ করে টাকা উত্তোলনের নিয়ম থাকলেও তারা তা করেননি। বিষয়টি নিয়ে এলাকার মানুষের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ওই এলাকার আবদুল আলিম বলেন, ‘আমাদের বাড়ির সামনে থেকে মোসা মিয়ার দোকান পর্যন্ত মাটি ভরাটের কথা ছিল। কিন্তু প্রকল্পের সদস্যরা শুধু মসজিদের সামনে মাত্র কয়েক ট্রাক মাটি ফেলেছে। এ সড়কটির আর কোথাও তারা মাটি ফেলেনি। শুনেছি পুরো টাকা তারা উত্তোলন করেছেন।’
স্থানীয় বাদশা মিয়া বলেন, ‘এই গ্রামের সড়কটিতে ২৫-৩০ বছর ধরে মাটি ফেলা হয় না। সড়কটির অবস্থা খুবই খারাপ। শুনেছি সড়কে মাটি ফেলার কাজ এসেছিল। তারা শুধু এক জায়গায় কয়েক গাড়ি মাটি ফেলে চলে গেছে।’
জাকির হোসেন নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘পুরো সড়কে মাটি ফেলার কথা ছিল। কিন্তু তারা রমজান মাসে মসজিদের সামনে এক দিনে ১৫-১৬ গাড়ি মাটি ফেলে কাজ শেষ করে দিয়েছে। আর কোথাও তারা মাটি ফেলেনি।’
প্রকল্পের সদস্য করিম মোল্লা বলেন, ‘আমি এ কমিটির সদস্য কি না বিষয়টি জানা নেই। আর কবে টাকা উত্তোলন করেছে সেটাও জানি না।’
এ বিষয়ে প্রকল্পের সাধারণ সম্পাদক জ্ঞানেন্দ্র নাথ দে বলেন, ‘টাকা আত্মসাৎ করিনি। টাকাগুলো প্রকল্পের সভাপতি কৃষ্ণ কান্ত দে সরকারের কাছে রয়েছে। অপেক্ষা করেন, কাজ হবে। আপাতত কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।’
প্রকল্পের সভাপতি কৃষ্ণ কান্ত দে সরকার বলেন, ‘কাজ শেষ না করে টাকা উত্তোলনের কোনো নিয়ম নেই। জুনের মধ্যে টাকা তুলতে হবে। এ সময়ে টাকা না তুললে হয়তো বিল আটকে যেতে পারে। এজন্য আমি কাজ চলমান দেখিয়ে টাকা উত্তোলন করেছি। বৃষ্টির কারণে আপাতত কাজ স্থগিত রয়েছে। বৃষ্টি শেষ হলে কাজ করা হবে।’
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাশেদুল হাসানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা আক্তার বলেন, ‘প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে ডেকে এ বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে।’