বিমানবন্দরে র্যাপিড পিসিআর টেস্ট করতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার ভার্চুয়াল বৈঠক হয়। এতে সরকারি ঋণ আইনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সঞ্চয়পত্র কেনা হলে দ- আরোপ করার বিধান প্রস্তাবিত আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া আরও পাঁচ বছর বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি খাতের কেনাকাটার জন্য দরপত্র আহ্বান না করার বিধান বহাল রেখে বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) (সংশোধন) আইন এবং বাংলাদেশ পুলিশ (অধস্তন কর্মচারী) কল্যাণ তহবিল আইনের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।
সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আট ঘণ্টার মধ্যে পিসিআর টেস্ট করতে হবে বেশ কয়েকটি দেশ থেকেই এরকম শর্ত দিয়েছে। সেজন্য গত কয়েক দিন ধরেই আলোচনা চলছিল। আজ (গতকাল) মন্ত্রিসভায় এটা উপস্থাপন করা হয়েছিল। বলে দেওয়া হয়েছে, দুই বা তিন দিনের মধ্যে বিমানবন্দরে পিসিআর টেস্ট করার সুবিধা স্থাপনের জন্য। যাতে যাত্রা শুরুর করার চার ঘণ্টার মধ্যে টেস্ট করা যায়।
বিশ্বের সব বিমানবন্দরেই এখন এ ধরনের টেস্ট হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, যে যে দেশে যাবে, সে অনুযায়ী তার প্রয়োজন মতো সে বিমানবন্দর থেকেই টেস্ট করাতে পারবেন। সিভিল এভিয়েশন বলছে, চার ঘণ্টার মধ্যে এ টেস্টের ফলাফল পাওয়া যাবে। করোনাভাইরাসের কারণে যেসব দেশ বাংলাদেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল, তাদের মধ্যে কয়েক দেশ সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ঘোষণা দেয়। তবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলেও সেসব দেশে ভ্রমণের জন্য কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে অনেক দেশই ছয় ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশের বিমানবন্দরে পিসিআর টেস্টের বাধ্যবাধকতার কথা জানিয়েছে। এসব দেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সংযুক্ত আরব আমিরাত, যেখানে বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ কাজের জন্য যায়।
দেশটি ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার জন্য সব ধরনের ভিসা খুলে দিলেও ফ্লাইট ছেড়ে যাওয়ার অন্তত ছয় ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরেই পিসিআর টেস্ট করানোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে। তবে বাংলাদেশের বিমানবন্দরে এখন পর্যন্ত এ সুযোগ না থাকার কারণে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পরও সেখানে যেতে পারছেন না বাংলাদেশিরা। এমন শর্তের কথা প্রকাশিত হওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে পিসিআর মেশিন বসানোর সিদ্ধান্তের কথা জানানো হলো।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, বাংলাদেশের তিনটি বিমানবন্দর থেকে এখন আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পিসিআর টেস্টের ব্যবস্থা করা হবে। তবে বাকি আরও দুটি বিমানবন্দরে একই ব্যবস্থা চালু করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
মিথ্যা তথ্য দিয়ে সঞ্চয়পত্র কেনায় দন্ড: মিথ্যা তথ্য দিয়ে জাতীয় সঞ্চয়পত্র কেনায় দন্ডের বিধান রেখে ‘সরকারি ঋণ আইন, ২০২১’ আইনের খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছে সরকার। পরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সরকারি সিকিউরিটিজ বা জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের আওতায় ইস্যুকৃত সার্টিফিকেটের স্বত্ব অর্জনের উদ্দেশ্যে মিথ্যা বক্তব্য দিলে অনধিক ছয় মাস মেয়াদের কারাদন্ড বা অনধিক এক লাখ টাকা বা উভয় দন্ডহতে পারে। যে টাকা ডিপোজিট করা হবে তা নিয়ে যদি মিথ্যা দেয়, টাকার উৎস না জানায়, ইনকাম ট্যাক্স দেওয়া না হয় এসব ক্ষেত্রে এ শাস্তি দেওয়া হবে। সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর জন্য অধিকতর আধুনিক প্রক্রিয়ায় ঋণ সংগ্রহ, টেকসই ঋণ নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং ঋণ কৌশলপত্র প্রস্তুত, ঋণের ঝুঁকি নিরূপণ ও সরকারের দায় হিসাবায়নের পথকে অধিকতর সম্প্রসারণ করার লক্ষ্যে আইনে ৪০টি ধারাসহ নতুন আইনটি করা হচ্ছে বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান।
তিনি বলেন, আইটির মূল বিষয় হচ্ছে সরকার বাজেট ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে অর্থায়ন বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সরকার দেশি বা বিদেশি মুদ্রায় গৃহীত সুদ বা মুনাফা যুক্ত বা সুদ বা মুনাফামুক্ত যেকোনো প্রকারের ঋণ ও বিনিয়োগ সংগ্রহ করতে পারবে। স্বাভাবিক ডিপোজিট ব্যবস্থার পাশাপাশি শরিয়াহভিত্তিক ডিপোজিট ব্যবস্থার চিন্তাভাবনা করা হয়েছে। সুকুকটা সার্কুলার দিয়ে করা হয়েছিল। এখন আইনের মধ্যে করা হলো, এখন শুধু বিদেশিরা করতে পারে। আগামীতে দেশেও এটা করা যায় কি না চিন্তা করা হচ্ছে। সরকারি ঋণ আইনের মাধ্যমে কত টাকা হলো এবং এটির কী অবস্থা বা মুনাফা বা সুদ দেওয়া হলো তা জনগণকে জানানো হবে।
আরও ৫ বছর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কেনাকাটার জন্য দরপত্র আহ্বান করতে হবে না : বিদ্যুৎ ও জ¦ালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি আইনের মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়ছে। ক্রয়বিধি মেনে আরও পাঁচ বছর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কেনাকাটার জন্য দরপত্র আহ্বান করতে হবে না। এজন্য ‘বিদ্যুৎ ও জ¦ালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) (সংশোধন) আইন, ২০২১’ এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য ২০১০ সালে এ আইন করা হয়েছিল। সেটার মেয়াদ ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়। আইনের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য বিদ্যুৎ বিভাগ আবারও প্রস্তাব নিয়ে এসেছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে উচ্চ-মধ্যম আয়ের এবং ২০৪০ সালের মধ্যে উন্নত দেশ গড়ার ক্ষেত্রে আমাদের যে পরিকল্পনা আছে, বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি সরবরাহে সেটা যাতে আমরা নির্বিঘেœ সরবরাহ করতে পারি। এজন্য ২০২৬ সাল পর্যন্ত এটার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। আইনের মেয়াদ ২০২১ সালে শেষ হয়ে যাওয়ার কথা।’
এছাড়াও বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে সম্পাদিত সামরিক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা সহযোগিতা সংক্রান্ত চুক্তির খসড়ার ভূতাপেক্ষ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে গতকালের মন্ত্রিসভায়।