খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির আবেদনপত্রে মতামত দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়। গতকাল মঙ্গলবার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বিষয়টি জানিয়েছেন। তবে কী মতামত দিয়েছেন সে বিষয়ে বিস্তারিত বলেননি তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জিয়া পরিবারের ঘনিষ্ঠ বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাম-লীর এক সদস্য গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার স্থায়ী মুক্তি, চলাফেরায় বিধিনিষেধ প্রত্যাহার এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে পাঠানোর অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে পরিবারের পক্ষ থেকে। গত আগস্ট মাসের শেষের দিকে এ আবেদন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের বাসায় পৌঁছে দেন খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার।’

খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য যে আবেদন পরিবার করেছে সে বিষয়ে গতকাল আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাবটি আমার কাছে এসেছিল। আমি তাতে মতামত দিয়ে মঙ্গলবার বেলা ৩টায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। এটি এখন চূড়ান্ত মতামতের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে যাবে। এরপরই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাবেন কী যাবেন না এর আগে কিছু বলা ঠিক হবে না।’

কবে নাগাদ আবেদন করা হয়েছে জানতে বিএনপি চেয়ারপারসনের মেজো বোন সেলিমা রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আবেদন করার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। বিষয়টি শামীম এস্কান্দার দেখে। শামীমই এ বিষয়ে বলতে পারবে।’ পরে দেশ রূপান্তরের পক্ষ থেকে শামীম এস্কান্দারের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর শেষ হচ্ছে সরকারের নির্বাহী আদেশে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির ছয় মাসের মেয়াদ। এ অবস্থায় মুক্তি চেয়ে সরকারের কাছে চতুর্থ দফা আবেদন করেছে তার পরিবার। আবেদনে তাকে বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য অনুমতিও চাওয়া হয়েছে।

গত রবিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জার্মানি যাওয়ার আগেই আবেদনপত্রটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। ১০ সেপ্টেম্বর তিনি দেশে ফিরবেন। তিনি দেশে আসার পর খালেদা জিয়ার আবেদনের বিষয়টি গতি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত সোমবার পর্যন্ত সেটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি। তবে গতকাল আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার আবেদনে মতামত দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখন এই আবেদন যাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।

চলতি বছর ১৫ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে খালেদা জিয়ার কারাভোগের মেয়াদ ছয় মাস স্থগিত করে তৃতীয় দফায় প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ১৫ সেপ্টেম্বর সেই মেয়াদ শেষ হচ্ছে। মেয়াদ শেষের কয়েক দিন আগে খালেদা জিয়ার ভাই শামীম এস্কান্দার আবেদন করলেন।

করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কারণে গত ২৭ এপ্রিল রাতে খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন বিএনপিপ্রধানের চিকিৎসার জন্য ১০ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। কদিন পরই অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। এ অবস্থায় চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশ পাঠাতে সরকারের কাছে আবেদন করে তার পরিবার। শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিয়ে যেতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে ফোনও করেছিলেন।