মির্জাপুরে পানির নিচে ৫৪৬ হেক্টর জমির রোপা আমন

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের ৫৪৬ হেক্টর জমির আমন ধান বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে আমনের আবাদ করা কৃষকদের মধ্যে এখন হতাশা দেখা দিয়েছে। ক্ষতির আশঙ্কায় কৃষি অফিস আগেই কৃষকদের মধ্যে ধান বীজ বিতরণ করেছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানায়, আনাইতারা ইউনিয়নের খাগুটিয়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হক এবার ১০০ শতক জমিতে আমন ধান রোপণ করেছিলেন। হঠাৎ তার জমিতে বন্যার পানি ঢুকেছে। তলিয়ে গেছে ধানগাছ। পানির কারণে গাছের নিচ থেকে পচন ধরে নষ্ট হয়ে যাওয়ার চিন্তায় হতাশাগ্রস্ত তিনি।

তার মতো ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে অন্তত ৫০ একর জমিতে রোপা আমন ধানের চারা বুনেছিলেন কৃষকেরা, যা সম্পূর্ণ এখন পানির নিচে।

আবদুল হক বলেন, বর্ষার শুরুতে যে অবস্থা ছিল তাতে মনে হচ্ছিল এবার বন্য হবে না। সে জন্য বোরো ধানের চেয়ে বেশি জমিতে রোপা আমনের চারা লাগিয়েছিলাম। গেল দুই সপ্তাহের অস্বাভাবিকভাবে পানি বেড়ে যাওয়ার কারণে সব চারা এখন পানির নিচে।

তিনি বলেন, খাগুটিয়া গ্রামের শামসুল ৫০ শতাংশ, শামসুল ৪০ শতাংশ, উয়ার্শী ইউনিয়নের মৈশামুড়া গ্রামের রহমান ৪৫ শতাংশ জমিতে আমনের চারা বুনেছিল। এখন সবই পানির নিচে।

স্থানীয় লোকজন জানান, খাগুটিয়া ছাড়াও ওই ইউনিয়নের, বাঙ্গুরি, চরবিলসা, শুকতা মশাজন, উয়ার্শী ইউনিয়নের মৈশামুড়া পংমটংসহ আশপাশের আরও অনেক গ্রামে দুই সপ্তাহের মধ্যে অস্বাভাবিকভাবে পানি বৃদ্ধি পেয়ে জমিগুলোতে স্থানভেদে ৫/৬ ফুট পর্যন্ত পানি উঠেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর এই উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নে রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে ৫ হাজার ৩১ হেক্টর।

প্রথমদিকে পানি না আসার কারণে কৃষকদের রোপা আমন বোনার উৎসাহ তৈরি হয়েছিল।

হঠাৎ বন্যার পানির কারণে মহেড়া ইউনিয়নের ভাতকুড়া, আদাবাড়ীসহ আশপাশের এলাকা, বহুরিয়া ইউনিয়নের গবড়, বহুরিয়া এলাকা, আনাইতারা ইউনিয়নের খাগুটিয়া,চরবিলসা, শুকতা, মৈশামুড়াসহ মির্জাপুরের বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৫৪৬ হেক্টর রোপা আমন ধান পানিতে ডুবে গেছে।

সূত্র আরও জানায়, বন্যার পানিতে ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আগে থেকেই কৃষকদের কথা চিন্তা করে প্রণোদনার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষতি পুষিয়ে নিতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের উদ্যোগে উপজেলার ২৫০ জন কৃষকের প্রত্যেককে ৫ কেজি করে নাবি জাতীয় ধানের বীজ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, বন্যার পানিতে রোপা আমনের চারা তলিয়ে গেছে। যদি তাড়াতাড়ি পানি নেমে যায় তাহলে ক্ষতির পরিমাণ কম হবে।

ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আগে থেকেই প্রণোদনা কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে ধানের বীজ বিতরণ করা হয়েছে।