বিশ্বের প্রায় সব দেশেই করোনার টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহতভাবে চলছে। কোনো কোনো দেশ আবার টিকার বুস্টার ডোজ দেওয়াও শুরু করেছে। তারপরও করোনাভাইরাসের বিস্তার থেমে নেই। গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে ভাইরাসটিতে সংক্রমণ ও মৃত্যু ফের বেড়েছে। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বজুড়ে ভাইরাসটির সংক্রমণে মৃত্যু ৪৬ লাখ ছাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারসের তথ্যমতে, বাংলাদেশ সময় গতকাল বুধবার রাত পর্যন্ত বিশ্বে ২২ কোটি ২৯ লাখ ২৩ হাজার ৬২৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ৪৬ লাখ ৩ হাজার ২৩৩ জনের। গত মঙ্গলবার এক দিনে সারাবিশ্বে ৫ লাখ ২৩ হাজার ৯২৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। ওইদিন মৃত্যু হয়েছিল ৮ হাজার ৪৬৩ জনের। অথচ এর আগের দিন গত সোমবার করোনা রোগী ও মৃত্যু হয়েছিল যথাক্রমে ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৯৫৮ এবং ৭ হাজার ৩৯ জন।
বিশ্বে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুতে এখনো শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ৪ কোটি ১২ লাখ ৬ হাজার ৬৭২ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ৬ লাখ ৬৯ হাজার ২২ জন। আর সুস্থ হয়েছে ৩ কোটি ১৫ লাখ ২২ হাজার ২৬৩ জন। সংক্রমণের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত। দেশটিতে এখন পর্যন্ত শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৩০ লাখ ৯৫ হাজার ৪৫০ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ৪ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৩ জন। সেরে উঠেছে ৩ কোটি ২২ লাখ ৫৬ হাজার ৫৫২ জন। তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে থাকা ব্রাজিলে শনাক্তের সংখ্যা ২ কোটি ৯ লাখ ১৩ হাজার ৫৭৮ জন। মারা গেছে ৫ লাখ ৮৪ হাজার ২০৮। সুস্থ হয়েছে ১ কোটি ৯৯ লাখ ৩২ হাজার ৬৪৬ জন। সংক্রমণের তালিকায় এর পরের স্থানগুলোতে রয়েছে যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ফ্রান্স, তুরস্ক, আর্জেন্টিনা, ইরান, কলম্বিয়া, স্পেন ও ইতালি। প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এরপর গত বছর ৯ জানুয়ারি দেশটিতে করোনায় প্রথম রোগীর মৃত্যু হয়। ওই বছরের ১৩ জানুয়ারি চীনের বাইরে থাইল্যান্ডে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। চীন থেকে সংক্রমণ সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ার পর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কিছু দেশ। তারপর ভারতীয় ডেল্টা ধরন ছড়িয়ে পড়ার পরপরই সারাবিশ্বের পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করে।