মগবাজার, ঢাকা প্যানিক অ্যাটাক এক ধরনের মানসিক সমস্যা। কারও কারও কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে বা মুহূর্তে শরীরে এমন সব লক্ষণ প্রকাশ পায়, যা মূলত মানসিক সমস্যা থেকে সৃষ্টি হয়। শারীরিক এ ধরনের সমস্যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় প্যানিক অ্যাটাক বলে।
কেন হয়
প্যানিক অ্যাটাক বিভিন্ন কারণে হতে পারে। যেমন বংশগত কারণে, দীর্ঘদিন অতিরিক্ত স্ট্রেসের মধ্যে থাকলে, তীব্র মানসিক যন্ত্রণায় থাকলে, কাছের কারও সঙ্গে বিচ্ছেদ হলে, কোনো ধরনের ভয় পেলে, আর্থিক বা ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কিংবা কারও মাধ্যমে অপমাণিত হওয়া ইত্যাদিকে প্যানিক অ্যাটাকের সাধারণ কারণ হিসেবে ধরা হয়।
কীভাবে বুঝবেন
যদি দেখেন আপনার হঠাৎ করে শরীর ঘামছে, বুকে ব্যথা হচ্ছে, মাথা ঘুরছে, বমি বমি ভাব হচ্ছে, অনিয়ন্ত্রিত হৃদস্পন্দন, শরীর ঠা-া হয়ে আসা, দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে মনে হওয়া, শরীরের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা এ রকম মনে হতে পারে।
প্রতিরোধ ও চিকিৎসা
প্যানিক ডিজঅর্ডার নিরাময়যোগ্য সমস্যা। প্যানিক ডিজঅর্ডার সফলভাবে নিরাময়ের জন্য সাইকোথেরাপি ও ওষুধ উভয়ই প্রয়োজন হয়। এই রোগের সঙ্গে হৃদরোগ বা কার্ডিওভাসকুলার ডিসঅর্ডারের মিল পাওয়া যায়। অনেক ক্ষেত্রে লক্ষণ হার্ট অ্যাটাকের মতোও হয়। তাই একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শের মাধ্যমে মানসিক সমস্যা নাকি হার্টের সমস্যা তা জানা জরুরি। রোগটি যে এ রকম একটি রোগ, রোগীকে সেটা বোঝাতে হবে। পাশাপাশি রোগীর যারা পরিবারের লোকজন, অফিসের লোকজন, যদি সম্ভব হয় তারা এই বিষয়ে পরামর্শ দিতে পারেন। যেমন এই রোগে এ বিষয়ে বেশ কিছু শিথিলকরণ ব্যায়াম আছে।
শিথিলকরণ ব্যায়াম ও মেডিটেশন শেখাতে হবে। মেডিটেশন করলে রোগীর বারবার প্যানিক অ্যাটাক হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়। শুরুতে ডায়াগনসিসের মাধ্যমে চিকিৎসা শুরু করা প্রয়োজন। হঠাৎ এমন হলে আতঙ্কিত না হয়ে রোগীকে বা নিজেকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া, নিজেকে শান্ত করা, দুশ্চিন্তামুক্ত করা, প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। চিকিৎসক প্রয়োজনে সাইকিয়াট্রিস্ট, সাইকোথেরাপিস্ট বা ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেবেন।