ক্ষুদ্র শিল্পে প্রণোদনার ৮% পাবেন নারী উদ্যোক্তা

কভিড-১৯ এর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (সিএমএসএমই) উদ্যোক্তাদের জন্য ঘোষিত দ্বিতীয় মেয়াদের প্রণোদনার ঋণের ৮ শতাংশ পাবেন নারী উদ্যোক্তারা।

গতকাল বৃহস্পতিবার এ খাতের উদ্যোক্তাদের ব্যাংকের মাধ্যমে স্বল্প সুদে ঋণপ্রাপ্তির জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের আগের সব নির্দেশনাকে সমন্বিত করে এবং নতুন কিছু নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত করে জারি করা বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সার্কুলারে বলা হয়, প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন আরও সহজতর করার লক্ষ্যে সিএমএসএমই প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ব্যাংকগুলোর বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা পূর্ববর্তী বছরের নিট সিএমএসএমই ঋণ ও বিনিয়োগের স্থিতি (শ্রেণিকৃত ঋণ বা বিনিয়োগ বাদ দিয়ে) এবং পূর্ববর্তী বছরের প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের হার বিবেচনায় নির্ধারিত হবে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনে ওই লক্ষ্যমাত্রা বাড়াতে বা কমাতে পারবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, এই প্যাকেজের আওতায় বরাদ্দকৃত মোট লক্ষ্যমাত্রার ন্যূনতম ৭০ শতাংশ কুটির, অতিক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র শিল্প খাতে বিতরণ করা যাবে। সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ বিতরণ করা যাবে মাঝারি শিল্প খাতে। এছাড়া কুটির, অতিক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র শিল্প খাতে প্রদত্ত ন্যূনতম ৭০ শতাংশের মধ্যে উৎপাদন ও সেবা উপখাতে সম্মিলিতভাবে ন্যূনতম ৬৫ শতাংশ এবং ট্রেডিং (ব্যবসা) উপখাতে সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ বিতরণ করা যাবে। এছাড়া মাঝারি শিল্প খাতে প্রদত্ত সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ উৎপাদন ও সেবা উপখাত থেকে সম্মিলিতভাবে অর্জন করতে হবে। এ প্যাকেজের মেয়াদ হবে ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।

এই প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় কুটির, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র খাতের উদ্যোক্তাদের চলতি মূলধন এবং মেয়াদি উভয় ধরনের ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধা প্রদান করা যাবে। মাঝারি খাতের উদ্যোক্তারা শুধু চলতি মূলধন ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধা প্রাপ্য হবে। কোনো উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান ঋণ বা বিনিয়োগ গ্রহণের পর সর্বোচ্চ এক বছর এ প্যাকেজের আওতায় সরকার হতে ভর্তুকি পাবে। খেলাপি ঋণগ্রহীতারা এ প্যাকেজের আওতাভুক্ত হতে পারবে না।

প্রতিটি ব্যাংক বিদ্যমান নিজস্ব নীতিমালার আওতায় ঋণ বা বিনিয়োগ ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ঋণ বিতরণ করবে। ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের নিজ বিবেচনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ঋণ বা বিনিয়োগের পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে।

এ ঋণের সুদ বা মুনাফার হার হবে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ। প্রদত্ত ঋণের সুদের সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ ঋণগ্রহীতা পরিশোধ করবে। বাকি ৫ শতাংশ সরকার ভর্তুকি দেবে। অবশ্য এই নির্দেশনাগুলো প্রথম থেকেই জারি করা ছিল।

নতুন সার্কুলারে বলা হয়, যেসকল উদ্যোক্তা প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে প্রথম বছর তাদের প্রাপ্য সীমার পুরো ঋণ নিতে পারেননি, তারা এ বছর প্রাপ্য সীমার বাকি অংশ ঋণ হিসেবে গ্রহণ করতে পারবেন।