বিশ্বে প্রভাব হারাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

‘যুদ্ধে জয় হয়েছে আমাদের, আর পরাজয় হয়েছে আমেরিকার’ কথাগুলো আফগান তালেবানের শীর্ষ নেতা হাজি হেকমতের। কাবুলে আফগান বাহিনীর আত্মসমর্পণের পর নিজেদের দলীয় পতাকা হাতে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের সামনে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলছিলেন তিনি। অবশ্য হাজি হেকমতের আগেই নোয়াম চমস্কিসহ আরও অনেক ভূরাজনীতিবিষয়ক বিশ্লেষক আমেরিকার পরাজয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে বলে আসছিলেন। সেই পরাজয় হয়তো আফগানিস্তানেই চূড়ান্ত পরিণতি পেয়েছে এমনটা বলা যায়। আফগানিস্তানে ফের তালেবানরা এখন ক্ষমতায়। বিশ বছরে দুই ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করে যুক্তরাষ্ট্র কী অর্জন করেছে, এখন সেই প্রশ্নই ঘুরেফিরে আসছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র যে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে তা একটা প্রকট পরিণতি পায় নাইন ইলেভেনের ঘটনার মধ্য দিয়ে। নাইন ইলেভেনে টুইট টাওয়ারে হামলার মধ্য দিয়ে আমেরিকার রাজনীতি বুঝতে পারে যে, তাদের দেশ আর বহির্শত্রুর হাত থেকে নিরাপদ নয়। পাশাপাশি বিশ্বের ক্ষমতার লড়াইয়ের প্রতিযোগিতায়

থাকা অন্য দেশগুলোও বুঝতে পারে আমেরিকারও শেষ আছে। বলা যায়, নাইন ইলেভেনের মধ্য দিয়েই আমেরিকার পতনের সূচনা হয়, যা গত বিশ বছর ধরে আফগানিস্তানে পরিণতি পেয়েছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শুরু হয়েছিল দ্বিমেরুবিশিষ্ট বিশ্বরাজনীতি। একদিকে ছিল সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন, আর অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র। সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন পুরো বিশ্বব্যবস্থাকে এককেন্দ্রিক করে তোলে। সেই বৃত্তের কেন্দ্রে ছিল শুধুই যুক্তরাষ্ট্র। গত কয়েক বছরে সেই বৃত্তে আলাদা প্রভাব বলয় সৃষ্টি করেছে চীন ও রাশিয়া। বৈশ্বিক একের পর এক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে যেখানে ব্যর্থ হতে দেখা যায়, সেখানে চীন ও রাশিয়া ছিল অনেক এগিয়ে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির ওপর নির্ভরশীল অনেক দেশই এখন চীন ও রাশিয়াকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা আর ওয়াশিংটনের ওপর ভরসা করতে পারছে না। তারা মনে হয় এতদিনে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারের বক্তব্যের সারমর্ম বুঝতে পেরেছে। কিসিঞ্জার বলেছিলেন, ‘আমেরিকার শত্রু  হওয়া বিপজ্জনক হতে পারে, কিন্তু আমেরিকার বন্ধু হওয়া মারাত্মক।’ মধ্যপ্রাচ্যসহ এশিয়া প্যাসিফিকের যেখানেই যুক্তরাষ্ট্র সামরিক আগ্রাসন চালিয়েছে, সেখানেই তৈরি হয়েছে মানবিক বিপর্যয়কর পরিস্থিতি। বিপর্যয় থেকে বাঁচতে বিপুলসংখ্যক মানুষ রাতারাতি বাস্তুচ্যুত হয়ে ইউরোপমুখী হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিত্রতার খাতিরে ইউরোপকে এই শরণার্থীদের আশ্রয়ও দিতে হয়েছে।  এক্ষেত্রে কার্যত যুক্তরাষ্ট্র শরণার্থীদের কোনো দায়িত্বই নেয়নি। উল্টো যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার ইউরোপকে হুমকি দিয়েছিলেন ন্যাটো থেকে হারাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র বের হয়ে যাওয়ার। ট্রাম্পের যুক্তি ছিল, ন্যাটোতে বার্ষিক যে খরচ হয় তার সিংহভাগ যুক্তরাষ্ট্রকে দিতে হয়, কিন্তু ব্যয় অপেক্ষা তেমন সুবিধা যুক্তরাষ্ট্র পায় না। ট্রাম্পের ওই বক্তব্য ইউরোপের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের জটিলতাকে সামনে নিয়ে আসে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ট্রাম্পের মতো ইউরোপকে হুমকি না দিলেও কূটনৈতিক পর্যায়ে তিনিও ইউরোপের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখেছেন। আর এই সুযোগ নিচ্ছে রাশিয়া। রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে ইউরোপের সম্পর্ক আগের চেয়ে অনেক ভালো। রাশিয়ার গ্যাস ছাড়া যে ইউরোপের চলবে না, তা ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা ভালো করেই জানেন। ফলে ট্রাম্প যখন ইরান চুক্তি থেকে বের হয়ে আসেন, তখন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া দাওয়াই অনুসরণ করেই ইউরোপীয় নেতাদের ইরানের সঙ্গে লিয়াজোঁ করতে দেখা যায়।

গত বিশ বছরে যুক্তরাষ্ট্র যখন এশিয়া প্যাসিফিকে দমনাভিযান চালাতে ব্যস্ত ছিল, চীন তখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও আফ্রিকার বিস্তীর্ই অঞ্চল ছাড়াও ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপন করতে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের যত শত্রু দেশ, তারা মিত্র হতে থাকে চীনের। ২০০৮ সালে তীব্র অর্থনৈতিক মন্দা পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের একের পর এক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান স্রেফ বন্ধ হয়ে যায়। ২০১০ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময় যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে যে অস্থিরতা শুরু হয়, তা-ই মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতায় আসার রাস্তা করে দেয়। ওবামার আমলে যুক্তরাষ্ট্রের ধনী ব্যবসায়ীরা ও আড়ালে থাকা নীতিনির্ধারকরা এটা বুঝতে পারেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে যুদ্ধের ফ্রন্ট খোলে তাহলে দেশে বেকারত্বের হার যেমন বাড়বে, তেমনি সামাজিক অস্থিরতাও বাড়বে; যা সামাল দেওয়া অসম্ভব হয়ে যাবে। ফলে রাজনীতিতে কোনো অভিজ্ঞতা না থাকার পরেও ডোনাল্ড ট্রাম্পই হন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। তিনি চেয়ারে বসার পর থেকেই একের পর এক চুক্তি থেকে সরে আসা, চীনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দ্বন্দ্ব উসকে দেওয়া, মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক, অভিবাসন সমস্যার চূড়ান্ত আকার দেন। ট্রাম্পের প্রত্যেকটি পদক্ষেপে আমেরিকার স্থানীয় জনগণ লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয় যুক্তরাষ্ট্রের বছরের পর বছর ধরে লালন পালন করা পররাষ্ট্রনীতির।

ট্রাম্পের ছেড়ে যাওয়া চেয়ারে বসার পর ডেমোক্র্যাট নেতা জো বাইডেনের খুব বেশি কিছু করার ছিল না। শুরু থেকেই তিনি ট্রাম্পের সিদ্ধান্তগুলো বাতিল করার চেষ্টা করেন। কিন্তু সিরিয়া-আফগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের মতো ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পক্ষেই থাকেন তিনি। আফগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের ঘটনার মধ্য দিয়েই এশিয়া প্যাসিফিকে যুক্তরাষ্ট্রের কর্র্তৃত্ব শেষ হয়। এরপরও অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র চেষ্টা করেছিল কোয়াডের (ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরে নৌ চলাচল ‘অবাধ ও স্বাধীন’ রাখার উপায় খোঁজার যুক্তিতে ২০০৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের মধ্যে ‘কোয়াড’ কোয়াড্রিলেটারাল সিকিউরিটি ডায়ালগ সংলাপের সূচনা হয়) মাধ্যমে। কিন্তু এবারের আফগানিস্তানে তালেবানের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে আছে চীন ও পাকিস্তান এই দুটি দেশই কোয়াডে নেই। ফলে আফগানিস্তান প্রশ্নে কোয়াড আর যাই করুক, তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না।

জাতিসংঘ, ন্যাটো, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এবং বিশ্বব্যাংকে এখন আর আগের মতো যুক্তরাষ্ট্রের কর্র্তৃত্ব নেই। এসব সংস্থায় চীনের এখন বিপুল বিনিয়োগ। করোনা মহামারী ইস্যুতে এক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মতানৈক্যই প্রমাণ করে দেয় অনেক কিছু। প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র ছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সবচেয়ে বড় তহবিলদাতা। কিন্তু এখন ডব্লিউএইচও’কে সবচেয়ে বেশি তহবিল দেয় চীন। ফলে করোনার উৎস সন্ধান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যতই ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব হাজির করুক না কেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সেটাই বলবে যা তার সবচেয়ে বড় অর্থদাতা চাইবে। করোনাভাইরাসের প্রাথমিক ধাক্কা পুরোটাই চীন সামাল দিয়েছে। যদিও দেশটি যেভাবে করোনা পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে, তার স্বচ্ছতা নিয়ে সন্দেহ আছে। চীনের দেওয়া তথ্যের (আক্রান্ত ও প্রাণহানি সম্পর্কিত) সত্যতা নিয়েও সন্দিহান মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়। তবে তার পরও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীন করোনা পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষেত্রে বেশ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। বিশেষ করে, সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ার পর চীন যেভাবে বিভিন্ন দেশের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, তার প্রশংসা হচ্ছে। আর এই জায়গাতেই যুক্তরাষ্ট্রের দোষারোপের খেলা থেকে নিজেদের আলাদা করে তুলেছে শি চিনপিংয়ের দেশ। অথচ করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও ভ্যাকসিন কূটনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারত। ট্রাম্প করোনা নিয়ে শুরু থেকেই একের পর এক উল্টাপাল্টা মন্তব্য করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করে তোলেন। করোনা যখন জেঁকে বসা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সমাজে, তখন ট্রাম্প চীনের ওপর সব দায় চাপিয়ে নিজেদের দায়িত্ব এড়িয়ে যান। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা কিন্তু তখন ওয়াশিংটনের করোনা সংক্রান্ত পদক্ষেপের জন্য অপেক্ষা করেছিল। ভ্যাকসিন উৎপাদনে যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ কোম্পানি মডার্না গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও তা থেকে কোনো কূটনৈতিক সুবিধা নিতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের এই না পারার জায়গায় এগিয়ে আসে চীন ও রাশিয়া। রাশিয়া স্পুৎনিক-ভি এবং চীন সিনোফার্ম ও সিনোভ্যাকের মতো ভ্যাকসিন তৈরি করে মিত্র দেশগুলোকে দিতে শুরু করে। ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার বাজারে এই দুই দেশের টিকা পৌঁছাতে শুরু করে কূটনৈতিক সফলতার মাধ্যমে।

জাতিসংঘেরও একই অবস্থা। বহুজাতিক এই সংস্থাটির সহযোগী বহু সংস্থাতেই এখন চীনের বিনিয়োগ রয়েছে, যেগুলো আগে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে ছিল। আমেরিকা তার বাণিজ্য, জলবায়ু, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সমরাস্ত্র নিয়ন্ত্রণের রাজনীতির মাধ্যমে যে ক্ষমতার ভরকেন্দ্র রচনা করেছিল, তা আজ ক্ষয়ের পথে। ২০০০ সালে জাতিসংঘের মোট বাজেটের মাত্র ১ শতাংশের জোগান দিত চীন। কিন্তু এখন তা দাঁড়িয়েছে ১২ শতাংশে। জাতিসংঘের ১৫টি বিশেষায়িত এজেন্সির ৪টির প্রধানের পদ এখন চীনের দখলে। যুক্তরাষ্ট্রের দখলে আছে মাত্র একটি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এভাবে বৈশ্বিক সংস্থাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে চীন। একই সঙ্গে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ব্যাংক, ব্রিকস, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ প্রভৃতির মাধ্যমে আঞ্চলিক রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করছে চীন। অথচ একসময় মার্শাল প্ল্যানের আওতায় এসব করত যুক্তরাষ্ট্র।

একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চাদপসরণ, অন্যদিকে চীনের উত্থান এবং আরেক দিকে জাতিসংঘের ক্রম হ্রাসমান প্রভাব; এই তিন পরিস্থিতিতে মধ্যশক্তির দেশগুলো নিজেদের মধ্যে জোট গঠন করা শুরু করেছে। এই মধ্যশক্তির দেশগুলো চীনের ক্ষমতার সম্প্রসারণ নিয়েও ওয়াকিবহাল। যেমন ফ্রান্স ও জার্মানি এরই মধ্যে নিজেদের মধ্যে একটি জোট তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে, যা কিনা অন্য গণতান্ত্রিক দেশগুলোর জন্যও উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এতে জাপান, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার মতো দেশগুলোর যুক্ত হওয়ার কথা চলছে। আবার, ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ থেকে ট্রাম্প বের হয়ে যাওয়ার পর ওই চুক্তির আওতায় থাকা অন্য দেশগুলো নিজেদের মতো করে এগিয়ে যেতে শুরু করেছে। ডব্লিউটিওর সহায়তা নেওয়ার বদলে নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় চুক্তি করছে এসব মধ্যশক্তির দেশ। উদাহরণ হিসেবে জাপানের কথা বলা যায়। জাপান এরই মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আফ্রিকার ২৮টি দেশের সঙ্গে পৃথক বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন করে ফেলেছে। অন্য দেশগুলোও সেই পথেই এগোচ্ছে। এর ফলে খুব স্বাভাবিকভাবেই একটি বহু মেরুবিশিষ্ট পৃথিবী গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। সামনের বিশ্ব কেমন হবে, তা আগে থেকে বলা সম্ভব নয়। কিন্তু বহু মেরুবিশিষ্ট এই পৃথিবীতে যুক্তরাষ্ট্র ক্রমশ তার নখদন্ত হারাচ্ছে।