এনআইডি সেবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিতে কারিগরি কমিটি

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা কার্যক্রম নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছ থেকে স্থানান্তরে একটি কারিগরি কমিটি গঠন করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ। স্বাধীন সংস্থা ইসির আপত্তির মধ্যে এ সেবা কার্যক্রম মন্ত্রণালয়ে নেওয়ার বিষয়ে সরকারের যুক্তি, জনদুর্ভোগ নিরসনেই এই পদক্ষেপ।

সম্প্রতি সুরক্ষা সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে (প্রশাসন ও অর্থ অনুবিভাগ) প্রধান করে কারিগরি কমিটি করা হয়েছে। কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন ইসি সচিবালয়ের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ডেটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রতিনিধি (যুগ্ম সচিবের নিচে নয়), প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিনিধি, অর্থ বিভাগের প্রতিনিধি (যুগ্ম সচিবের নিচে নয়), তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিনিধি (যুগ্ম সচিবের নিচে নয়) ও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের পরিচালক (ডেটা সেন্টার)।

কমিটিতে সুরক্ষা সেবা বিভাগের উপসচিব (বহিরাগমন-৫) সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। এ কমিটি জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন কার্যক্রম ইসির পরিবর্তে সুরক্ষা সেবা বিভাগের অধীনে আনতে কারিগরি বিষয় যাচাই করে স্থানান্তরের পদ্ধতি বা প্রক্রিয়া সম্পর্কে সুপারিশ তৈরি করবে। স্থানান্তরযোগ্য অবকাঠামো বা জনবল চিহ্নিত করে স্থানান্তরের পদ্ধতি সম্পর্কে সুপারিশও করবে কমিটি।

এছাড়া কমিটি এ সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক বিষয়াদি এবং ইসি থেকে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন কার্যক্রম সুরক্ষা সেবা বিভাগে হস্তান্তরের জন্য একটি ‘রোডম্যাপ’ প্রণয়ন করবে। কমিটি প্রয়োজনে সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে বলেও অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমানে দেশের ১১ কোটি ১৭ লাখের বেশি নাগরিক ভোটার তালিকাভুক্ত রয়েছে। ভোটার তালিকার সঙ্গে এনআইডি দেওয়ার কাজটিও হয় ইসির মাধ্যমে। ২০১০ সালে ইসির অধীনে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ একটি আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি পায়।

এনআইডি কার্যক্রম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগে স্থানান্তরের বিষয়ে গত ১৮ মে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এক চিঠি ইসিতে পাঠায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এ নিয়ে ইসি আপত্তি জানালে পরে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, এটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় করবে।’