নাগরিকের তাৎক্ষণিক জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রদানে দেশের কোনো সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক অসম্মতি জানাতে পারবে না বলে নির্দেশনা এসেছে উচ্চ আদালত থেকে। একই সঙ্গে কোনো হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রদানের মতো প্রয়োজনীয় উপাদান না থাকলে জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়ার মতো ব্যবস্থা রয়েছে এমন কাছের হাসপাতালে অসুস্থ ব্যক্তিকে পাঠাতে হবে বলে মত দিয়েছে হাইকোর্ট।
এ-সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল রবিবার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন এ নির্দেশনা দেয়। হাসপাতালে গিয়েও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা না পাওয়া নিয়ে জাতীয় দৈনিকে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে হাইকোর্টে এ রিট আবেদনটি করে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) এবং অ্যাকাডেমি অব ল অ্যান্ড পলিসি (আলাপ)। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী রাশনা ইমাম।
আদেশের বরাতে ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম বলেন, ‘কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে যখনই কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকে আনা হবে তাৎক্ষণিক জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল অসম্মতি জ্ঞাপন করতে পারবে না। যদি কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের ব্যবস্থা না থাকে, সে ক্ষেত্রে জরুরি সেবা বিদ্যমান রয়েছে এমন নিকটস্থ কোনো হাসপাতালে অসুস্থ ব্যক্তিকে পাঠাতে হবে বলে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।’
তিনি জানান, আদেশে সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের তালিকা, জরুরি চিকিৎসাসেবা বিভাগ রয়েছে এমন হাসপাতাল ও ক্লিনিকের পৃথক তালিকা এবং সেগুলোর জরুরি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের বর্তমান অবস্থার বিবরণসহ একটি প্রতিবেদন আগামী তিন মাসের মধ্যে দাখিল করতে বলেছে হাইকোর্ট।
এ ছাড়া দেশে বিদ্যমান সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে প্রয়োজন বিশেষে যেকোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দিতে অসম্মতি জ্ঞাপন কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে রুল দিয়েছে হাইকোর্ট। পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকের নতুন লাইসেন্স ইস্যু করার সময় এবং বিদ্যমান রেজিস্টার্ড হাসপাতাল বা ক্লিনিকের লাইসেন্স নবায়নকালে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদান বিভাগ আবশ্যিকভাবে বিদ্যমান থাকতে হবেএমন শর্ত যুক্ত করতে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না, রুলে সেটিও জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।
স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) সভাপতি, বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতিসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। পরবর্তী শুনানি ও আদেশের জন্য আগামী বছরের ১৮ জানুয়ারি ধার্য করা হয়েছে বলে জানান রিটকারীর পক্ষের আইনজীবী।