হাওরে জেলেদের জালে মিলল নিখোঁজ ব্যবসায়ীর লাশ

নিখোঁজের দুদিন পর কিশোরগঞ্জের নিকলি হাওরে মিলল ব্যবসায়ী সৈয়দ জাহিরুর রহমান সাগরের (৪৫) লাশ।

হাওর এলাকা পরিদর্শনে এসে শুক্রবার ট্রলার থেকে পড়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন তিনি। রবিবার দুপুর ১২টার দিকে নিকলী উপজেলার ছাতিরচরের হাওরে জেলেদের জালে তার লাশ আটকা পড়ে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে। নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামছুল আলম সিদ্দিকী বলেন, নিখোঁজ সৈয়দ জাহিরুর রহমান সাগরের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সৈয়দ জাহিরুর রহমান সাগর রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সৈয়দ হাবিবার রহমানের ছেলে। তার গ্রামের বাড়ি যশোরের কাজীপাড়া কাঁঠালতলায়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৯৫-৯৬ শিক্ষাবর্ষের লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। বন্ধু সংগঠন ঢাকা ইউনিভার্সিটি ফ্রেন্ডস অ্যাল্যায়েন্সের (ডুফা) কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যও ছিলেন তিনি।

পারিবারিক সূত্র জানায়, পুলিশ জাহিরুরের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রবিবার কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। সোমবার তার লাশ ঢাকায় আনার পর বসুন্ধরার ডি ব্লকের সেন্ট্রাল মসজিদে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তার লাশ যশোরের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তার বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার ঢাকা থেকে ডুফার ৫১ জন সদস্য দুটি বাসে কিশোরগঞ্জের হাওরে ঘুরতে এসেছিলেন। বাসে তারা নিকলী নেমে সেখান থেকে ট্রলারে মিঠামইন, মিঠামইনের প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট, অষ্টগ্রাম, অলওয়েদার সড়ক ঘোরেন। ঢাকায় ফেরার জন্য সন্ধ্যার দিকে তারা অষ্টগ্রামের ভাতশালা থেকে নিকলীর উদ্দেশে রওনা হন। রাত আটটার দিকে পর্যটক দলের সদস্যরা নিকলীর পুড্ডা বাজারে ট্রলার থেকে নামেন। বাসে উঠে গণনাকালে জাহিরুরের অনুপস্থিতির বিষয়টি সবার নজরে আসে।

এরপর থেকে নিকলী থানা–পুলিশের সহায়তায় হাওরের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয়। কিন্তু কোনোভাবেই সাগরের সন্ধান মিলছিল না।

রবিবার তৃতীয় দিনের মতো জাহিরুরের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনা করা হয়। একপর্যায়ে নিকলী উপজেলার ছাতিরচরের হাওরে জেলেদের জালে তার লাশ আটকা পড়ে।