করোনাভাইরাসের মহামারীকালে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আজ মঙ্গলবার গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে শুরু হচ্ছে বিএনপির নির্বাহী কমিটির বৈঠক। াজ দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাম-লীর সঙ্গে বৈঠক করবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
গতকাল সোমবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে আমাদের কী করণীয় সেসব বিষয়ে নেতাদের মতামত নিতে এই বৈঠক ডাকা হয়েছে। নেতাদের পরামর্শের ভিত্তিতে চূড়ান্ত হবে আগামীদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম।’
বিএনপি দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য সংখ্যা ১১৭ জন। তবে আব্দুল্লাহ আল নোমান দুবাইয়ে আছেন। মো. শাহাজাহান করোনায় আক্রান্ত হয়ে বাসায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন এভার কেয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। করোনাভাইরাসের কারণে ঢাকায় যারা আছেন শুধুমাত্র তারাই চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য এই ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ নেবেন।’
তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় দিন বুধবার দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক, সম্পাদক ও সহ-সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক হবে। শেষ দিন বৃহস্পতিবার দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে বৈঠক হবে। প্রতিদিনই বিকেল সাড়ে ৩টায় রুদ্ধদ্বার এই বৈঠক শুরু হবে। বৈঠকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা থাকবেন।’
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার আগে ২০১৮ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়ানে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সর্বশেষ বৈঠক হয়েছিল। ঐ বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খালেদা জিয়ার সাজা হওয়ার পর তারেক রহমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেছিলেন তারেক রহমান।
গত রবিবার থেকে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, করোনা মহামারীর পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়া যে স্থগিত রাখা হয়েছিল, তা বাস্তবতার নিরিখে পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে বলা হয়েছে।