সাতক্ষীরার কলারোয়ায় একই পরিবারের চানজনকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় একমাত্র আসামি রাহানুর রহমানকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় সাতক্ষীরার সিনিয়র দায়রা ও জজ আদালতের বিচারক শেখ মফিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার নথি ও তদন্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ জানান, কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের খলিষা গ্রামের শাহজাহান ডাক্তারের ছোট ছেলে রাহানুর রহমান (৩৬) বেকারত্বের কারণে বড় ভাই শাহীনুরের সংসারে খাওয়া-দাওয়া করতেন।
শারীরিক অসুস্থতার কারণে কোনো কাজ না করায় গত বছরের ১০ জানুয়ারি স্ত্রী তালাক দেন রাহানুর রহমানকে। সংসারে টাকা দিতে না পারায় শাহীনুরের স্ত্রী দেবর রাহানুরকে মাঝে মাঝে গালমন্দ করতেন।
এরই জের ধরে গত বছরের ১৪ অক্টোবর রাতে ভাই শাহীনুর রহমান (৪০), ভাবী সাবিনা খাতুন (৩০), তাদের ছেলে ব্রজবক্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র সিয়াম হোসেন মাহী (১০) ও মেয়ে একই বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী তাসনিম সুলতানাকে (৮) কোমল পানীয়র সঙ্গে ঘুমের বাড়ি খা্ওয়ান রাহানুর রহমান।
এরপর ভোর ৪টার দিকে হাত ও পা বেঁধে তাদেরকে একে একে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেন।
এ সময় তাদের ৪ মাসের শিশু মারিয়াকে হত্যা না করে তাকে লাশের পাশে ফেলে রেখে যায়। এ ঘটনায় নিহত শাহীনুরের শাশুড়ি কলারোয়া উপজেলার উফাপুর গ্রামের রাশেদ গাজীর স্ত্রী ময়না খাতুন বাদী হয়ে কারও নাম উল্লেখ না করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তে নেমে সিআইডি সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে শাহীনুরের ভাই রাহানুর রহমান, একই গ্রামের রাজ্জাক দালাল, আব্দুল মালেক ও ধানঘরা গ্রামের আসাদুল সরদারকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত রাহানুরকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ২১ অক্টোবর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম বিলাস মন্ডলের কাছে রাহানুর নিজেই হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
নিহত পরিবারে বেঁচে থাকা একমাত্র শিশু মারিয়া বর্তমানে হেলাতলা ইউপি সদস্য নাছিমা খাতুনের কাছে বড় হচ্ছে।
গত ২৪ নভেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি’র পুলিশ পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম আসামি রাহানুর রহমানের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
এ মামলায় গত ১৪ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।
মামলা চলাকালীন আসামি রাহানুর সাতক্ষীরা কারাগারেই আটক ছিলেন। আজ পৌনে ১২টার দিকে আদালতে নিয়ে আসে, রায় ঘোষণা শেষে তাকে ফের আদালতে নিয়ে যায় পুলিশ।
দশ মাস কারাগারে অবস্থানকালীন তার মুখে দাঁড়ি দেখা যায়। তবে রায় শেষে বিচলিত হতে দেখা যায়নি তাকে। ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি রাহানুরের মা বোন বা কাউকে আদালতে দেখাও যায়নি।
আসামি পক্ষের আইনজীবী এস এম হায়দার এ রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানান।