রাজনৈতিক বন, উন্নয়নের ধারাপাত ও প্রশাসন একাডেমি

কক্সবাজারের ঝিলংজা সংরক্ষিত বনের ৭০০ একর জমি যে অভাবনীয় কায়দায় ভূমি মন্ত্রণালয় প্রশাসন একাডেমি নির্মাণের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে বরাদ্দ দিয়েছে তা শুধু ভূমি অধিগ্রহণের বিদ্যমান প্রক্রিয়ারই ব্যত্যয় নয় বরং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অপব্যবহারের এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত। বনবিভাগ রাষ্ট্র কর্র্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান এবং দেশের সব বনভূমির দেখভালের তত্ত্বাবধায়ক। এই প্রশাসন একাডেমি নির্মাণের জন্য বনবিভাগের আপত্তি এবং সিদ্ধান্তকে শুধু অমান্যই করা হয়নি বরং পরিবেশ-বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশকেও উপেক্ষা করা হয়েছে।

এই আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অদৃশ্য জাদুবলে এক নিমিষেই সংরক্ষিত বনাঞ্চল হয়ে গেল ‘অকৃষি খাসজমি’। প্রাকৃতিক ছড়া ও ঝরনা হয়ে যাচ্ছে ন্যাড়া পাহাড় এবং জমির মালিকানা বনবিভাগের হলেও, ভূমি মন্ত্রণালয়ের জবরদস্তিমূলক আচরণ এবং ক্ষমতার দাপটে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে প্রায় বিনামূল্যে ৪ হাজার কোটি টাকা মূল্যের বনভূমি বন্দোবস্ত দিয়ে দেওয়া হলো, যা দেশের বিদ্যমান বন ও পরিবেশ আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। নির্বাহী ক্ষমতার অন্যায্য প্রয়োগ এবং প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার কৌশলগত ব্যবহারের এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং পরিবেশ-বিনাশী উন্নয়ন প্রকল্পের ধারাবাহিক অধ্যায়ে নতুন এক পর্বের সংযোজন। ঠিক একই ঔপনিবেশিক কায়দায় এই বছরের শুরুতে মধুপুরের মান্দি জনগোষ্ঠীর কলা এবং আনারসের বাগান গুঁড়িয়ে দিয়ে বনের সঙ্গে তাদের ঐতিহাসিক সম্পর্কেই শুধু আঘাত করা হয়নি বরং নিষ্ঠুরভাবে তাদের বাস্তুচ্যুত করা হয়েছিল পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি থেকে। এই একই টেকনোক্রেটিক এবং অথরিটেটিভ প্রক্রিয়ায় সিলেটের আলুটিলার মতো সংবেদনশীল ইকোসিস্টেম হয়ে যাচ্ছে সাফারি পার্ক। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলের বিখ্যাত গবেষক ন্যান্সি পেলুসোর ভাষায় যাকে বলা হয় ‘পলিটিক্যাল ফরেস্ট বা পলিটিকস অব মেকিং ফরেস্ট’। অর্থাৎ বন তৈরির রাজনীতি কিংবা বনের সামাজিক এবং পরিবেশগত উপাদান তথা এদের অন্তর্নিহিত সম্পর্ক পরিবর্তনের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া। কাজেই এ ঘটনাকে শুধু রাষ্ট্রের দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়হীনতা, দ্বন্দ্ব কিংবা ‘রিলেটিভ পাওয়ার প্লে’ (আপেক্ষিক ক্ষমতার খেলা) হিসেবে দেখলেই হবে না। ভূমি মন্ত্রণালয়ের এ ধরনের কর্র্তৃত্ববাদী আচরণ বন ও পরিবেশ সংরক্ষণের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের জন্য রাষ্ট্র কর্র্তৃক নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বনবিভাগের বিভিন্ন চলমান উদ্যোগকেও হুমকির মুখে ফেলে দেবে। দেশে যেখানে প্রাকৃতিক বনভূমির পরিমাণ এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল আশঙ্কাজনক হ্রাস পাচ্ছে, সেখানে সরকারের কর্মকর্তাদের একটা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের জন্য বনভূমির ৭০০ একর জমির বরাদ্দ দেওয়া কি বিলাসিতা নয়? প্রশাসন একাডেমির জন্য এই ভূমি বরাদ্দের ঘটনাকে তুলনামূলক বিচারেও দেখা প্রয়োজন। দেশের অনেক নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ও ১০০ একরের বেশি জমি বরাদ্দ পায় না, এমনকি অনেক পুরাতন বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়তনও এর থেকে কম। অন্যদিকে, আমলে নেওয়া দরকার যে, কক্সবাজার জেলায় রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু শিবিরের জন্য এরই মধ্যে প্রায় ৮০০০ একর বনভূমি উজাড় করা হয়েছে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ এবং পর্যটকের ভারে কক্সবাজার জেলার প্রাকৃতিক বনাঞ্চল ও জীববৈচিত্র্য প্রায় ধ্বংসের মুখে। সেখানে এই ঘনবসতিপূর্ণ এবং প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকাতেই কেন প্রশাসন একাডেমি করতে হবে? আর যদি এই বিশাল পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করতেই হয়, এর থেকে উপযুক্ত এবং বিকল্প স্থান কি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে? বিশেষ করে সমুদ্রের উপকূলে জেগে ওঠা চরাঞ্চল এবং অনাবাদি খাসজমি। নাকি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মোড়কে এখানে শ্রান্তি-বিনোদনের ব্যবস্থাও হবে? পাঁচ তারকা হোটেলের আদলে সুইমিং পুল হবে আর গলফ খেলার মাঠ হবে?

রাষ্ট্রযন্ত্রের এই আমলাতান্ত্রিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দিয়ে পরিবেশ, প্রকৃতি এবং বননির্ভরশীল সম্প্রদায়কে সংজ্ঞায়িত করা, অধিকার এবং দায়িত্ব ভাগাভাগি করা, কোন কার্যক্রম বন-নিধনের আওতায় পড়ে আর কোনটা পড়ে না তা ডিফাইন করা, আইন পরিবর্তন এবং প্রয়োগের মাধ্যমে নতুন প্র্যাকটিস কিংবা গভর্নেন্স মডেলকে বৈধ (কিংবা পুরাতন কাস্টমারি প্র্যাকটিসকে অবৈধ) করার রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকেই ফরাসি দার্শনিক মিশেল ফুকো বলেছেন ‘গভর্নমেন্টালিটি’  (Governmentality : the techniques and technologies for managing people and nature)। এই প্রক্রিয়া যেমন একদিকে ক্ষমতার আধিপত্যকে টিকিয়ে রাখা কিংবা ক্ষমতাকে আরও কেন্দ্রীভূতকরণের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়, অন্যদিকে এটা জনগণের মানসিকতা বিনির্মাণে এবং তাদের চিন্তার জগৎকে শৃঙ্খলিত করতেও ভূমিকা রাখে। নিকট অতীতেরে দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই, বাংলাদেশে উন্নয়নের নামে গত ২-৩ দশকে হাজার হাজার একর বনভূমি বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এবং বেসরকারি কোম্পানিকে (ইকোনমিক জোন, বিদ্যুৎ প্রকল্প, মিলিটারি বেইজ, সরকারি স্থাপনা করার জন্য) বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা কি না ভূমি রূপান্তর, ভূমি অবক্ষয় এবং বন-নিধনের আওতায় পড়ে না! গ্লোবাল ফরেস্ট ওয়াচের ২০২১ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে বিগত ২০ বছরে (২০০১ থেকে ২০২০) গাছের আবরণ/আচ্ছাদন হ্রাস পেয়েছে প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজার হেক্টর, যা কি না শতকরা হিসাবে প্রায় ১০ ভাগ। গত ৭০ বছরে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা এবং প্রভাবশালীদের হাতে বেহাত বা দখল হওয়া বনের পরিমাণ প্রায় সাড়ে চার লাখ একর। এর মধ্যে অসংখ্য উন্নয়ন প্রকল্প ও অবকাঠামো তৈরির জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার একর বনভূমি হস্তান্তর করা হয়েছে (তথ্যসূত্র : নিউএইজ, ২১ নভেম্বর, ২০২০)। অথচ বাংলাদেশে খুব সুচারুভাবে এবং সুকৌশলে স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং আদিবাসী সম্প্রদায়কে বনভূমি ধ্বংসের প্রধান নিয়ামক হিসেবে চিহ্নিত করার রীতি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কর্র্তৃক বনভূমি দখল কিংবা ল্যান্ড ট্রান্সফরমেশন এবং পুঁজিবাদী বাজারের আগ্রাসী ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য প্রাইভেট এলিটদের জমি দখল সরকারি পরিসংখ্যানে জোরালোভাবে আসে না। আইপিসিসিসহ বিভিন্ন গবেষণা সংস্থা সতর্কবাণী দিয়েছে যে, এই শতকের মধ্যভাগে বাংলাদেশের নিম্নাঞ্চল বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকার প্রায় এক থেকে দুই-তৃতীয়াংশ তলিয়ে যাবে এবং কয়েক মিলিয়ন মানুষ জলবায়ু শরণার্থী হবে। বিশ্বমহলে নিজেদের জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম ভিকটিম (পোস্টার চাইল্ড) হিসেবে তুলে ধরা এবং সুশাসন, সামাজিক ন্যায্যতা ও ক্লাইমেট জাস্টিসের দাবিতে অনড় অবস্থান করা বাংলাদেশ নিজ দেশে প্রকৃতি-বিনাশী উন্নয়নের যে ধারাবাহিক মিশনে নেমেছে তা কিন্তু পলিসি এবং প্র্যাকটিসের মধ্যে শুধু চরম বৈপরীত্যই নয় (স্টার্ক কন্ট্রাস্ট), বরং প্রকৃতি-পরিবেশ নিয়ে রাষ্ট্রের দর্শন এবং মনস্তত্ত্বেরও বহিঃপ্রকাশ। এই ধরনের উদ্যোগ টেকসই উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের আন্তরিকতা ও ভূমিকাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করবে।

দুঃখজনক হলেও সত্য যে, নব্য-উদারবাদের ডামাডোলে রাষ্ট্র-করপোরেট অভিজাত শ্রেণি এবং রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া ও পৃষ্ঠপোষকতার মধ্য দিয়ে বনাঞ্চল, জীববৈচিত্র্য, ছড়া-ঝরনা, পাহাড়, নদী-নালা, আদিবাসী এবং তাদের জীবনযাপন, সাংস্কৃতিক অনুশীলন এবং সর্বোপরি প্রকৃতি-সমাজের মধ্যকার জটিল আন্তঃসংযোগ এবং আন্তঃনির্ভরশীলতার সম্পর্ককে সিমপ্লিফাই করতে করতে অর্থনৈতিক হ্রাসবাদের যুক্তি, নীতি ও অনুশীলন দিয়ে নিয়ন্ত্রণ এবং ডেভেলপমেন্ট ডিসকোর্স দিয়ে বৈধতা প্রদান এবং অভ্যন্তরীণকরণের এক অপপ্রক্রিয়া চলছে। তারই ফলে আমাদের ব্যবহারে, যাপিত জীবনে, মননে এবং চিন্তায় যে ভোগবাদের (ধনবাদের) শিকড় প্রসারিত হচ্ছে, তার ভবিষ্যৎ ‘সুযোগ ব্যয়’ রাষ্ট্র এবং সমাজ কীভাবে মেটাবে তা হয়তো সময়ই বলে দেবে। এই চলমান প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় আমরা দেখতে পাই যে, মানুষের সঙ্গে বনের সম্পর্ক এবং বাস্তুতন্ত্রের জটিল উপকরণকে উপেক্ষা করে শুধু অর্থনৈতিক মানদ-ের ওপর ভিত্তি করে বনকে আজকাল শুধুই কিছু বৃক্ষ আর লতাগুল্মের সন্নিবেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যার ফলে বন হয়ে যাচ্ছে বিচ্ছিন্নভাবে দাঁড়িয়ে থাকা কিছু বৃক্ষের সমারোহ, আর গাছ হয়ে যাচ্ছে কার্বনের সমার্থক এবং প্রাকৃতিক বনাঞ্চল ধ্বংস কিংবা দখলের ক্ষতিপূরণের মূলধারার উপায় হিসেবে আবির্ভাব ঘটছে রাস্তাঘাট, জমির আইল কিংবা প্রতিষ্ঠান এবং বসতভিটার আশপাশে আগ্রাসী প্রজাতির বৃক্ষরোপণের। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং প্রশমনে কৃত্রিম বনসৃজনের অবশ্যই কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু এই চর্চা যেন প্রাকৃতিক বন এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংসের কমপেনসেশন মেকানিজম হিসেবে প্রতিষ্ঠা না পায়।

প্রখ্যাত নিসর্গবিদ দ্বিজেন শর্মা বলেছিলেন, ‘প্রকৃতি প্রতিশোধ নেয়’; এবং তার অনেক আলামত কিন্তু আমরা সাম্প্রতিক সময়ে স্পষ্টই দেখতে পাচ্ছি। কাজেই, আমাদের উন্নয়নের ধারাপাত যেন শুধু দৃশ্যমান ভৌত কাঠামো নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। আমাদের উন্নয়ন চিন্তা পরিবেশ-প্রতিবেশের সংরক্ষণ, ভূমিভিত্তিক সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের কদর, যাপিত জীবনের আখ্যান, সর্বোপরি সর্বপ্রাণের কল্যাণ ও সহাবস্থান এবং মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির স্থানিক এবং আত্মিক বন্ধন এবং আন্তঃনির্ভরশীলতার সম্পর্ককে প্রাধান্য দিয়ে বিকশিত হোক। সেটা নিশ্চিত করতে গেলে, বনকে শুধু ওপেন প্রোপার্টি (উন্মুক্ত সম্পত্তি), অথবা ‘উন্নয়নয়ের বলির পাঁঠা’ কিংবা ‘চাহিবামাত্র দখল দিতে বাধ্য থাকিবে’ এই ধরনের মানসিকতা থেকে সরে আসতে হবে। পাশাপাশি ক্ষমতার বেআইনি ব্যবহারের লাগাম টেনে ধরা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও নীতিনির্ধারকদের সংবেদনশীল আচরণ এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে বননির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি ছাড়াও অন্য স্টেকহোল্ডারদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাও জরুরি।

বাংলাদেশের এই অদম্য অগ্রযাত্রায়, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পরিবেশগত সীমারেখাকে মাথায় রেখে আমাদের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করা হোক। জলবায়ু পরিবর্তন এবং ক্ষয়িষ্ণু প্রাকৃতিক বনভূমি রক্ষার এই কঠিন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে, বন-পাহাড় ধ্বংস করে সরকারের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বানানো কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। কাজেই এই আত্মঘাতী এবং অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

লেখক পিএইচডি গবেষক, এনভায়রনমেন্টাল পলিসি অ্যান্ড গভর্নেন্স রিসার্চ গ্রুপ, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালগ্যারি, কানাডা

sujoy.subroto@ucalgary.ca