দেশে গত ১৫ দিনে করোনায় মৃত্যু, রোগী ও রোগী শনাক্তের হার দ্বিগুণ কমেছে। ১৫ দিন আগে যেখানে দৈনিক গড়ে রোগী শনাক্ত হতো ৪ হাজার ৯৮৪ জন করে ও দৈনিক গড় মৃত্যু ছিল ১২৩ জন; গত ১৫ দিনে সেখানে দৈনিক গড়ে রোগী শনাক্ত কমে নেমে এসেছে ২ হাজার ৩৮১ জনে ও দৈনিক গড় মৃত্যু কমে হয়েছে ৫৭ জন। এ সময় দৈনিক রোগী শনাক্তের হার কমে ১৫ শতাংশ থেকে ৯ শতাংশে নেমে এসেছে।
একইভাবে ‘শূন্য মৃত্যু’ জেলার সংখ্যাও বেড়েছে। ১৫ দিন আগে গত ৩১ আগস্ট ঢাকার বাইরে ২৭ জেলায় কোনো মৃত্যু ছিল না। গতকাল সে সংখ্যা বেড়ে ৩৮ হয়েছে। অর্থাৎ গত ২৪ ঘণ্টায় এই ৩৮ জেলায় কেউ করোনায় মারা যাননি।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সবচেয়ে বেশি মারা গেছেন ঢাকা জেলায় ২০ জন। এরপর চট্টগ্রামে ১১ জন, খুলনা ও সিলেটে ৫ জন করে, রাজশাহীতে ৪ জন এবং ময়মনসিংহ ও বরিশালে ৩ জন করে মারা গেছেন। অথচ ১৫ দিন আগে ৩১ আগস্ট ঢাকা জেলায় মৃত্যু ছিল ২২ জন, চট্টগ্রামে ১৯ জন, খুলনায় ১৫ জন, রাজশাহীতে ১২ জন, সিলেটে ৯ জন, রংপুরে ৫ জন, ময়মনসিংহ ও বরিশালে ২ জন করে।
অবশ্য গত ২৪ ঘণ্টায় আগের দিন মঙ্গলবারের তুলনায় মৃত্যু ১৬ জন বেড়েছে। এ সময় নতুন মারা গেছেন ৫১ জন। শনাক্তের হারও আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। আগের দিন এই হার ছিল ৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ, গতকাল তা হয়েছে ৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। তবে রোগী শনাক্তের সংখ্যা আগের দিনের তুলনায় ১৭৩ জন কমেছে। নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৯০১ জন।
এ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত দেশে মোট রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৩৬ হাজার ৩৪১ জন ও মারা গেছেন ২৭ হাজার ৫৮ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দিনে সারা দেশে সাড়ে ২৮ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ, যা আগের দিন ৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ ছিল।
গত এক দিনে শুধু ঢাকা বিভাগেই ১ হাজার ৩১৮ জনের মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়েছে যা দিনের মোট আক্রান্তের ৭০ শতাংশ।
যে ৫১ জন গত এক দিনে মারা গেছেন, তাদের ২০ জনই ছিলেন ঢাকা বিভাগের। চট্টগ্রাম বিভাগে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সরকারি হিসাবে, দেশে কভিড আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ হাজার ৮৭৩ জন সুস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে মোট ১৪ লাখ ৯০ হাজার ৫৪১ জন সেরে উঠলেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৫১ জনের মধ্যে পুরুষ ৩২ জন আর নারী ১৯ জন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট পুরুষ মারা গেলেন ১৭ হাজার ৪৩৬ জন ও নারী ৯ হাজার ৬২২ জন।
২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে আছেন দুজন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে তিন জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে পাঁচ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১৮ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১৫ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে পাঁচ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে দুই জন আর ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে রয়েছেন একজন।
মৃত ৫১ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ২০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জন, রাজশাহী বিভাগের চার জন, খুলনা ও সিলেট বিভাগের পাঁচ জন করে, আর বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের আছেন তিন জন করে। এদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন ৪৪ জন আর বেসরকারি হাসপাতালে সাত জন।